|| আহমদ ময়েজ ||
“গান্ধী” এই নামের সঙ্গে মহাত্মা শব্দের ব্যবহার একেবারেই অনৈতিক। পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। সেক্যুলার হয়ে কীভাবে ধর্মকে অধর্মভাবে ব্যবহার করেছেন সেটা তার আত্মজীবনীতে নিজেই বর্ণনা করে গেছেন। আশ্রমকে নিজের জন্য একটি যৌনাচারের আশ্রমে রূপান্তর করেছিলেন গান্ধী। নাথুরামের প্রতি এক সময় আমার ভীষণ ঘৃণা ও রাগ জন্ম নিয়েছিলো এই মানুষটাকে হত্যা করার অপরাধে। কিন্তু সেই রাগ ক্রমশঃ কমে যায়।
অসংখ্য মেয়েকে তিনি হিপনোটাইজ করে ৭০ উর্ধ্ব গান্ধী তার সঙ্গে ঘুমাতে বাধ্য করতেন। বুঝাতেন, এটা নাকি পবিত্র ব্রহ্মচার্য। তাদের আঁকড়ে রাখতেন। বলতেন, তোমরা আমায় ছেড়ে চলে যেও না, উগ্র-মুসলমানরা আমাকে মেরে ফেলবে। কিন্তু কোনো মুসলমান তাকে হত্যা করেনি, হত্যা করেছিলো একজন হিন্দু। স্ত্রী কস্তুরুবা গান্ধীর মৃত্যুর পর মোহনদাস করমচাঁনদ গান্ধী এই অদ্ভুদ যৌনজীবন শুরু করেন।
এসব বিষয় নিয়ে তার জীবদ্দশায় পত্রপত্রিকায় অনেক লেখা হয়েছিলো। তার ঘনিষ্ঠজনেরা তাকে বুঝাবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন। গান্ধীর এই ব্রহ্মচার্যের জীবনচর্চায় জওহর লাল নেহরুকে কংগ্রেস নিয়ে অনেক সংকটে পড়তে হয়েছিলো। কিন্তু প্রিয় “বাপুজীকে” তার সেই নেশা থেকে ফেরাতে পারেননি।
গান্ধী ধর্মমেয়ে বলে যাকে আশ্রমে রাখতেন সেই মেয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায় দেখে ফেলেন তার ছেলে। পিতার এই অনৈতিক ধর্মচর্চা মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু আশ্চর্যের কথা, ছেলের বউকেও তিনি হিপনোটাইজ করে এই পথে নামিয়েছিলেন। সব চে বেশি Sex-Abuse করেছিলেন ১৭ বছরের নাতনিকে। তার দুই নাতনি এই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তারা ছিলেন মনিকা গান্ধী ও আভা গান্ধী। মনিকা গান্ধীকে ডাকা হতো মনু বলে। এক সময় দলে দলে তার সঙ্গীরা তাকে ছেড়ে চলে যেতে থাকলেও গান্ধী প্রকাশ্যে এসব যৌনাচার করে গেছেন।
গান্ধী মেয়েদের কেবল সন্তান উৎপাদনের মিশিন হিসেবেই দেখতেন না, তাদের ঋতুশ্রাবকে ভগবানের অভিশাপ হিসেবে দেখতেন। তিনি ধর্ষিতা মেয়েদেরকে মেরে ফেলাকে অন্যায় মনে করতেন না। আমরা যে গান্ধীকে আধুনিক শিক্ষিত হিসেবে জানতাম, মূলতঃ তিনি আধুনিকতার মোড়কে ছিলেন এক হিন্দুত্ববাদী আর এসএস এর অন্যরুপ। এখানে মোদীর সঙ্গে গান্ধীদর্শনের রয়েছে আন্তঃমেলবন্ধন। সে অর্থে রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের সঙ্গে মোদি বা আরএসএস-এর রাজনৈতিক ব্যবধান ততটুকুই।
গান্ধী একেবারে শেষ জীবনে এসে ব্রহ্মচর্যা ত্যাগ করেছিলেন। ধর্মের পণ্ডিতরাও তার এই ধর্মচর্চাকে অমধর্ম বলে গণ্য করতেন। নানামুখি সমালোচনার কারণে নাকি অন্য কোনো শারীরীক কারণে এই বিকৃতি যৌনচর্চা ত্যাগ করেছিলেন সে সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এখন সে সময় কংগ্রেস ও রাষ্ট্রের দায় কী ছিলো? ক্ষমতাসীন কংগ্রেস তাকে মহাত্মা বানাতে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে সে সময়ের পত্রিকা, বিভিন্ন নথিপত্র, পোষ্টার সাড়াসি অভিযান চালিয়ে সব গায়েব করে দেয়। পাঠ্য বইয়ে শিশুদের জন্য এক “পবিত্র মহাত্মা” হিসেবে গান্থীকে স্থাপন করা হয়। এই কৃত্রিম বয়ান দ্বারা রাষ্ট্রের ঐক্যের জন্য এটা ছিলো তাদের ধূর্ত প্রয়াস।
কিন্তু দেশী ও বিদেশী বিভিন্ন গবেষক তার এই অনৈতিক জীবনাচরণকে বিস্ময়করভাবে তুলে এনেছেন। আর গান্ধী নিজেও এটাকে ধর্মের প্রয়োজনে সত্য মেনে বিষদ বর্ণনাও করে গেছেন। তার মধ্যে ছিলো না কোনো অনুশোচনা বা পাপবোধ। এখন এসব জানার মতো গোপন কোনো বিষয় নয়। গরুরমুতদর্শনে যে রাষ্ট্রের নীতি নৈতিকতা ও স্বাস্থ্যসেবা নির্ধারিত হয় সেখানে এসব আড়ালের কোনো প্রয়োজন হয় না। প্রশ্ন হলো গান্ধী ধর্মবাদী ছিলেন নাকি সেক্যুলার ছিলেন? আর একেবারে শেষ জীবনে এসে আশ্রমে বসে ব্রহ্মচারী হয়ে উঠার প্রয়োজন ফুরিয়ে গিয়েছিলো না-কি তার নিজেরই যৌনক্ষমতা লোপ পেয়েছিলো সেটা আমরা জানি না। সে বিষয়ে তিনি কিছু বলে যাননি।
অন্যদিকে, গান্ধীর মৃত্যুর পর সে-সব মেয়েদের কী হয়েছিলো? গবেষকরা অনেককেই খুঁজে বের করেছেন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে। তারা চলে গিয়েছিলেন লোকচক্ষের অন্তারালে। তাদের জীবনে আর সংসার-বিয়ে হয়নি। এক বিষন্ন জীবন ছিলো তাদের অনিবার্য। কেবল একজন ক্ষমতাসীন হয়ে ওঠছিলেন গান্ধীর তদবিরে। কংগ্রেসের মন্ত্রী ছিলেন। এই ছিলো তার জীবনের পাওয়া। আর নিজের নাতনি তার কী হয়েছিলো? সে পরিবারের অন্যদের কথা উপেক্ষা করে গান্ধীবাদীতে মুগ্ধ হয়েছিলো। সেও তার ব্যক্তিগত ডায়েরিতে লিখে গেছে। মোটেই সুখকর কিছু নয়। বিয়ে হয়নি। মাত্র ৩০/৩৫ বছর বয়সে মৃত্যু হয় তার। সে এক সময় বলতো গান্ধী তাকে মায়ের মতো দেখতেন। প্রশ্ন হলো, মেয়ে কি নিজের বাবার সঙ্গে এমন বিবস্ত্র হয়ে একই বিছানায় শুতে পারবে? কী অদ্ভুদ ব্রহ্মচার্যের বিধান!
তবে অধিকাংশ গবেষক গান্ধীকে চরম কামুক হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন। যেখানে নীতিনৈতিকতার কোনো মানদণ্ড ছিলো না। আবার কেউ বলেছেন, এটা ছিলো তার ভেতরের অসুস্থতা।
স্মর্তব্য: আমাদের দেশে শেখ মুজিবকেও অনেক গল্প-কাহিনী দ্বারা কাল্ট বানানো হয়েছিলো যা তার ভেতরের রাজনীতি ও মাইক্রফোনের সামনে গলার রগ-ফোলানো গর্জন দিয়ে প্রকৃত বিশ্লেষণ করা যাবে না।
মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী সম্পর্কে জানতে হলে পড়ুন। এছাড়া, অনলাইনে রয়েছে প্রচুর ভিডিও ডকুমেন্টারী।
১/ “An Autobiography or The Story of My Experiments with Truth” (এক আত্মজীবনী বা সত্য নিয়ে আমার পরীক্ষা-নিরীক্ষার গল্প)
২/ জি. তেণ্ডুলকরের ‘Mahatma’
৩/ পিয়ারীলাল ও সুশীলা নায়ারের দশখণ্ডের ‘Mahatma Gandhi’
৪/ লুই ফিশারের ‘A Week with Gandhi’
লেখক: কবি ও সাংবাদিক।

