শিরোনাম
রবি. ফেব্রু ২২, ২০২৬

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত পরিবর্তন করছে সরকার

বাংলাদেশের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বেড়েছে এটি দৃশ্যমান। আর এই চাপ মোকাবেলার জন্য সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হচ্ছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রদূত পরিবর্তন। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, স্পর্শকাতর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পরিবর্তনের বিষয়টি তারা চিন্তাভাবনা করছেন এবং একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে কোন কোন দেশের রাষ্ট্রদূত পরিবর্তন হবে এ সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্টভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেউ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। গত এক বছর ধরেই বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার চলছে বিভিন্ন দেশে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশর বিরুদ্ধে অপপ্রচার এখন তুঙ্গে। আর এই সমস্ত অপপ্রচারের ফলে বিভিন্ন দেশের সরকার বাংলাদেশের ব্যাপারে নানা রকম নেতিবাচক ধারণা গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও বাংলাদেশ বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা বলেছেন এবং তিনি এ জন্য বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, বিএনপি-জামায়েত বিভিন্ন লবিস্ট ফার্মের মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য সরবরাহ করছে। আর এই সমস্ত তথ্যের কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত জন কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের সমাপনী ভাষণে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে এখন নানামুখী আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ না জানানো, বাংলাদেশের সাত জন কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি নিয়ে বাংলাদেশে-মার্কিন সম্পর্কের টানাপড়েনের একটি খবর পাওয়া যাচ্ছে। কূটনৈতিক মহল মনে করছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে যে সমস্ত ভূমিকাগুলো পালন করা উচিত ছিল সেই ধরনের ভূমিকা পালন করা হয়নি। একইভাবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নেও এখন বাংলাদেশ বিরোধী নানারকম অপপ্রচার চলছে। সেই অপপ্রচারমূলক বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলছেন এবং এ নিয়ে জাতিসংঘে পর্যন্ত ১২টি মানবাধিকার সংগঠন চিঠি লিখেছে। আর এই সমস্ত প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছেন। পররাষ্ট্র সচিব গতকাল জানিয়েছেন যে, তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি মানবাধিকার সেল সংগঠন করতে যাচ্ছেন এবং সেখানে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

তবে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশে যখন নেতিবাচক এবং অসত্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে তখন অনেক দূতাবাসই সঠিক তথ্য উপাত্ত নিয়ে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে অক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে। বিশেষ করে অনেক দেশেই রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা রুটিন কাজের মাধ্যমেই সময় ব্যয় করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছে, বেশ কয়েকটি দূতাবাসের একমাত্র কাজ হল প্রটোকল দেওয়া। আর এরকম বাস্তবতায় নির্বাচনের আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা আরো সক্রিয় হওয়া উচিত বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। আর এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুঝতে পেরেছে। আর সে কারণেই অপেক্ষাকৃত চৌকস এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ব্যক্তিদেরকে দায়িত্বে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এই পরিবর্তনের অবয়বগুলো দৃশ্যমান হবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে লক্ষ্য রাখা হবে যাদেরকে বদলানো হবে তাদের বদলে নতুন যারা দায়িত্ব পালন করবেন তারা যেন অনেক সক্রিয় হয় এবং রাজনৈতিক মনস্ক হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এই পরিবর্তন সংক্রান্ত খবরগুলো প্রকাশিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *