শিরোনাম
সোম. মার্চ ৯, ২০২৬

গোপনে ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠাচ্ছে ভারত

  • ইসরায়েলগামী অস্ত্রবাহী জাহাজ বন্দরে ভিড়তে দেয়নি স্পেন
  • দুই সপ্তাহে গাজায় জোরপূর্বক  ৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত

লণ্ডন, ২২ মে:  ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যাকায় বর্বর হামলা চালানো ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠাচ্ছে ভারত। সম্প্রতি ইসরায়েলের জন্য অস্ত্র বহনকারী জাহাজকে নিজেদের বন্দরে নোঙ্গর করতে দেয়নি স্পেন। স্প্যানিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস গত বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন,‘আমরা এই প্রথম কোনও বিদেশি জাহাজকে ‘না’ বলেছি। কারণ, এই জাহাজে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা আরও জানতে পেরেছি যে অস্ত্রগুলি ইসরায়েলে পাঠানো হচ্ছে। এটিই প্রথমবার আমরা ইসরায়েলে অস্ত্রের চালান বহনকারী কোনো জাহাজ শনাক্ত করেছি, যা স্প্যানিশ বন্দরে ভিড়তে চেয়েছিলো।’

আলবারেস বলেন, ইসরায়েলের জন্য অস্ত্র বহনকারী যে কোনো জাহাজ স্প্যানিশ বন্দরে ভিড়তে চাইলে তাদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগ করা হবে। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সুস্পষ্ট কারণে এ ধরনের যাত্রাবিরতি পদ্ধতিগতভাবে প্রত্যাখ্যান করবে। মধ্যপ্রাচ্যের আর অস্ত্রের প্রয়োজন নেই, সেখানে শান্তির প্রয়োজন। এদিন ইসরায়েলের জন্য অস্ত্রবহনকারী জাহাজটির বিশদ কোনো বিবরণ দেননি স্প্যানিশ মন্ত্রী। তবে দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে বলেছেন, স্পেনের কাছে পৌঁছে মারিয়েন ড্যানিকাই নামে ওই জাহাজটির নাবিকেরা ২১ মে ভূমধ্যসাগর সংলগ্ন স্পেনীয় উপকূলে কার্টেজেনার দক্ষিণ-পূর্ব বন্দরে নোঙ্গর করার অনুমতি চেয়েছিল। স্প্যানিশ পত্রিকা এল পাইস জানিয়েছে, ড্যানিশ পতাকাবাহী জাহাজটি ২৭ টন বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে ভারতের মাদ্রাজ থেকে ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে যাচ্ছিলো।

দ্য ইউরেশিয়ান টাইমস বলছে, ভারত একদিকে ইসরায়েলকে অস্ত্র দিচ্ছে অন্যদিকে দেশটির চরম প্রতিপক্ষ ইরানের চাবাহার সমুদ্র বন্দর পরিচালনা নিয়ে ২০২৪ সালের মে মাসে ১০ বছর মেয়াদী একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দ্য ইউরেশিয়ান টাইমস সম্প্রতি কয়েকটি রিপোর্টে ঈঙ্গিত দিয়েছে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের গোলার চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত ইসরায়েলের এই সংকটে গোলা সরবরাহ করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনও সূত্র এই অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি। তাদের বক্তব্য একটাই, কোনও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হয়নি ভূমধ্যসাগরে। এ বিষয়ে ইসরায়েলেরও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। অন্য একটি সূত্রে অভিযোগ, লোহিত সাগরীয় অঞ্চল দিয়েই সমুদ্রপথে ইসরায়েলে যাওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু চেন্নাই থেকে রওনা দিয়ে জাহাজটি সেই পথ নেয়নি বলে দাবি। কেন ঘুরপথে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইসরায়েলে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হচ্ছিল, উঠেছে সেই প্রশ্নও।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউরোপের অন্যতম সোচ্চার কণ্ঠ হয়ে উঠেছে স্পেন। ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়ে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রতিশোধ নিতে গাজায় বর্বর সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এর পরপরই ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে দেয় স্পেন।

দুই সপ্তাহে গাজায় জোরপূর্বক  লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত

গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। এ কারণে প্রাণে বাঁচতে ওই অঞ্চলসহ অন্য এলাকা থেকে ৯ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ।

গত মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসঙ্ঘের মানবিক কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ৬ মে থেকে রাফাহ শহরের পূর্বাঞ্চল ও গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে জীবন বাঁচাতে প্রায় ৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসঙ্ঘ আরো জানিয়েছে, ইসরাইলের সামরিক অভিযানের মধ্যে গত দুই সপ্তাহে গাজার জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ বা ৯ লাখেরও বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণ এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এদিকে ইউএনআরডাব্লিউএ জানিয়েছে, ‘বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো লাগামহীন ক্লান্তি, ক্ষুধা ও ভয়ের মুখোমুখি হচ্ছে। তাদের যাওয়ার মতো নিরাপদ জায়গা নেই। পরিস্থিতি মোকাবেলায় অবিলম্বে একটি যুদ্ধবিরতিই আমাদের একমাত্র আশা।’

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *