শিরোনাম
মঙ্গল. ফেব্রু ২৪, ২০২৬

চাঁদাবাজ কামরুল, অথচ জেলে অভিযোগকারী

চাঁদাবাজির কথা ফাঁস করে দেয়ায় নিজ দলের কর্মীকেও রেহাই দেয়নি সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। কামরুল ইসলামের চাঁদাবাজি বিষয়ক কথোপকথনের অডিও ফাঁস হওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কামরুল ইসলাম ডিজিটাল আইনে মামলা করেন আওয়ামী লীগের ওই নেতার বিরুদ্ধে। এখন কামরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে চাঁদাবাজির শিকার বেচারা আলী আহমেদকেই শেখ হাসিনার সরকার জেলে ঢুকিয়েছে। নিজ দলের স্থানীয় এ নেতার কাছ থেকে প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে চাঁদা আদায় করতেন ঢাকা-২ আসনের এমপি ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। চাঁদার টাকা নিজে ভোগ করা ছাড়াও উপর মহল পর্যন্ত বণ্টন করতেন। উপর মহলে ঘুষ দেয়ার কথা কামরুল নিজেই স্বীকার করেছেন ফাঁস হওয়া অডিওতে। এক পর্যায়ে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে কামরুল ইসলাম ক্ষেপে যান কথোপকথনে।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি আলী আহমদ। শুধু তাঁর কাছ থেকেই প্রতি মাসে এক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করতেন কামরুল ইসলাম। অনুরূপ চাঁদা স্থানীয় অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকেও এই এমপি সাহেব আদায় করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আলী আহমদ ও কামরুল ইসলামের ফাঁস হওয়া কথোপকথনে আওয়ামী নেতাদের চাঁদাবাজির এই চিত্রই ফুটে উঠেছে। ফাঁস হওয়া কথোপকথনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে আলী আহমদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত ১২ সেপ্টেম্বর মামলা ঠুকে ছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। সেই মামলায় পুলিশ আলী আহমদকে গত মঙ্গলবার গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতার হওয়ার আগে আলী আহমদ প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। নিজের জীবনের নিরাপত্তা এবং অত্যাচার, নির্যাতন ও চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য নিবেদন জানিয়েছেন তাদের কাছে। প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উভয়ের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন আলী আহমদ। তাঁর লিখিত আবেদনে বিষয় হচ্ছে- সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু ও কিডন্যাপারদের হাত থেকে প্রাণ বাঁচানোর জন্য আবেদন। কিন্তু কোন আবেদন, নিবেদনে কাজ হয়নি। বর্তমান দুর্নীতিবাজ সরকার চোরকে না ধরে ভিকটিমকেই জেলে পুড়ে দিয়েছে।

আলী আহমেদ কেবল কামরুলকেই চাঁদা দিতেন না। এলাকার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনকেও প্রতিমাসে চাঁদা দিতে হত। মোহাম্মদ হোসেনকে এলাকার সবাই কামরুলের লোক এবং তাঁর চাঁদাবাজির এজেন্ট হিসাবেই জানেন। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কামরুলই মোহাম্মদ হোসেনকে দাড় করান এবং নতজানু নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় তাঁর নির্বাচনে জেতারও বন্দোবস্ত করে দেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *