শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

ছাত্রলীগ কর্মীদের কোপালেন আ.লীগ নেতা!

বাজারে এবং সড়কে চাঁদাবাজি নিয়ে দ্বন্দ্বে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ৩ ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধর করা হয়েছে পরিবহন ঠিকাদারকে।

রোববার বেলা ১১টায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৬নং ওয়ার্ডের কালিজিরা বাজারে এই ঘটনা ঘটে। আহত ছাত্রলীগ কর্মী রাজিব মল্লিক, রায়হান মুন্সী ও জুবায়েরকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, কালিজিরা বাজারে মারামারির ঘটনা শুনেছি। তবে কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন হাওলাদারের সঙ্গে ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান বাপ্পির বিরোধ সৃষ্টি হয় সড়কে এবং বাজারে চাঁদাবাজি নিয়ে। সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান বাপ্পি কর্মীদের দিয়ে কালিজিরা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করেন। সভাপতি হুমায়ুন হাওলাদারের সমর্থকরা এর প্রতিবাদ জানালে সোলায়মান বাপ্পির সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

ওই বিরোধের কারণে ২৮ সেপ্টেম্বর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলাদাভাবে মিছিল নিয়ে অংশ নেন মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে। সভাপতির মিছিলে লোকজন বেশী হওয়ায় সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান বাপ্পি ও তার সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বেলা ১১টার দিকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের পাশে দাঁড়ানো ছিলেন ছাত্রলীগ কর্মী রায়হান মুন্সী, রাজিব মল্লিক ও জুবায়ের। এ সময় সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান বাপ্পি তার সঙ্গে থাকা লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই তিনজনকে কুপিয়ে জখম করেন।

আহত ছাত্রলীগ কর্মী রায়হান মুন্সী বলেন, চাঁদা না দেওয়ায় সকালে পরিবহন ঠিকাদার মনিরকে মারধর করেন সাধারণ সম্পাদক ও তার সমর্থকরা। আমরা মারধরের প্রতিবাদ করেছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোলায়মান বাপ্পি হামলা চালায়।

রাজিব মল্লিক বলেন, আমরা দলীয় কার্যালয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাধারণ সম্পাদক আমাদের কুপিয়ে জখম করে।

২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন হাওলাদার বলেন, সাধারণ সম্পাদক বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন। মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন। তাই থানায় অভিযোগ দেয়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান বাপ্পি বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আমি পারিবারিকভাবে সচ্ছল। চাঁদাবাজির প্রয়োজন হয় না। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে সভাপতি কেন আলাদা মিছিল নিয়ে গেছেন তা তিনিই ভাল বলতে পারবেন। হামলার বিষয়ে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।

সোলায়মান বাপ্পী দাবি করেন, সকাল থেকে তিনি বাজারেই যাননি। ফলে হামলার প্রশ্নই ওঠে না।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *