শিরোনাম
মঙ্গল. ফেব্রু ১৭, ২০২৬

জনগনের মতামতকে উপেক্ষা করে রামপাল প্রকল্প চালু হচ্ছে : দেশ আরো বড় দূর্যোগে পড়বে- বিশেষজ্ঞদের মতামত


বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র উদ্যোগে আজ ২৬শে জুলাই, ২০২০ রবিবার সকাল ৯.৩০টায় “বাংলাদেশের জ্বালানী নীতি: বাজেট এবং পরিবেশের উপর প্রভাব” শীর্ষক এক ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বাপা’র নির্বাহী সহ-সভাপতি ডা. মো. আব্দুল মতিন এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক, শরীফ জামিল এর সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে মূল বক্তব্য প্রদান করেন বাপা’র সহ-সভাপতি ও বেন এর প্রতিষ্ঠাতা ড. নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ড. আতিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর, ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সম্মানিত ফেলো, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ, অধ্যাপক আহমেদ বদরুজ্জামান, ইউনির্ভাসিটি অব ক্যালিফোনিয়া বার্কলে যুক্তরাষ্ট্র, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়, অধ্যাপক বদরুল ইমাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ড. সাজিদ কামাল, ব্রেন্দাইস বিশ^বিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্র।

ড. নজরুল ইসলাম তাঁর মূল বক্তব্যে বাংলাদেশের জ্বালানি নীতির সফলতাকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফলতা, পরিচালন ও বিতরণের সফলতা, জ্বালানী ব্যাবহারে শিল্পের প্রসার, মানুষের কল্যাণ, জলবায়ুর ও বাজেটের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং পরিবেশ সুরক্ষা, এই কয়টি মানদন্ডে বিচারের কথা উল্লেখ করেন। গত দশকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নাটকীয় বৃদ্ধি প্রণিধানযোগ্য যার স্বীকৃতি আমাদের দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে এই উৎপাদন পরিকল্পনায় পরিবেশ ও বাজেটের উপর এর দীর্ঘ মেয়াদি প্রভাব সম্পূর্ণরুপে উপেক্ষা করা হয়েছে যা অতি শীঘ্রই মানুষ ও প্রকৃতির উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাবফেলার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তোলার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অথচ এমন একটি জ্বালানী নীতি থাকা সম্ভব যা উৎপাদন, পরিবেশ সুরক্ষা, বাজেট ও মানুষের জন্য কল্যাণকর হতে পারে। তিনি দেশের নীতিসমূহ তৈরিতে দেশীয় উদাহরণ, মেধা ও দক্ষতা ব্যাবহারের পরামর্শ দেন এবং এ ব্যাপারে বাপা ও বেনের আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার সংকল্প ব্যক্ত করেন।

ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, আমরা করোনার ভয়ে ঘরে ঢুকেছি কিন্তু পরিবেশ বিধংসী দুর্নীতিবাজ প্রভাবশালী ব্যাক্তিগন তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। বড়াল নদী পুনর্দখলের কথা উল্লেখ করে তিনি দেশের সকল সেক্টরে করোনাকালে দূর্বিত্যায়ন বেড়ে যাবার কথা উল্লেখ করেন।

ড. আতিউর রহমান বলেন, কোভিড, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সবগুলোই জলবায়ু পরিবর্তনের কু-প্রভাব। জলবায়ু পরিবর্তন এবং শিক্ষা বিষয়ে বাংলাদেশের এখনই যুগোপযোগি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে চলমান পেনডেমিকের চেয়ে আরো বড় দূর্যোগের মধ্যে পড়তে হতে পারে। এ পেনডেমিক আমাদেরকে নতুন করে ভাববার সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা এখনও সোলার এনার্জি ০.৭% ব্যবহার করছি, যেখানে পার্শবর্তীদেশ ভারত ১৫% ব্যবহার করছে। গ্রিন এনার্জির দিকে দেশের পরিকল্পনাকে নিয়ে যাবার এখনি শ্রেষ্ঠ সময় উল্লেখ করে তিনি সৌর বিদ্যুত উৎপাদনে ব্যক্তি পর্যায়ে উৎসাহ প্রদানের অনুরধ করেন। তিনি মনে করেন, সরকার জীবাশ্ম জ্বালানী থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতে যে ভর্তুকি দেয়, তা সাধারণ মানুষকে দিলে, দেশে সৌর বিদ্যুতের বিপ্লব ঘটে যেতো বলে উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, আমরা রামপাল তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে সরকারকে ১৩টি বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রতবিদেন প্রদান করি। কিন্তু তার কোন উত্তর না দিয়ে সরকার দেশের পরিবেশ এবং জনগনের মতামতকে তোয়াক্কা না করেই রামপাল প্রকল্প চালু করছে। যা জাতীর জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। বাংলাদেশের সমুদ্রসিমায় প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রভূত সম্ভাবনার ভূতাত্ত্বিক ও ভৌগলিক কারণ উপস্থাপন করে তিনি মায়ানমার ও ভারত পাশাপাশি এলাকা থেকে গ্যাস উত্তলন করলেও, গত ১২ বছরে বাংলাদেশ নিজেদের এলাকায় কোন অনুসন্ধানেরও প্রচেষ্টা রহস্যজনকভাবে পরিচালনা করেনি বলে উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, আমাদের দেশের যারা নীতি নির্দ্ধারক আছেন তাদের মধ্যে জনগনের স্বার্থ না শোনার একটা প্রবনতা আছে। আর সে জন্যই এতো জনমত থাকা সত্বেও সুন্দরবনের রামপাল প্রকল্প বাতিল হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক ভাবেই প্রমানিত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষা করার কোন আগ্রহ সরকারের নাই বরং সুন্দরবন ধ্বংস করার পরিকল্পনায় তারা ব্যস্ত। দেশের উপকূলকে আরো হুমকির মুখে ফেলার জন্য উপকূল বেষ্টিত কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। গ্যাস-সৌর ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাংলাদেশের মানুষ ও পরিবেশ প্রকৃতিকে বাঁচাতে হলে ক্ষতিকর সকল প্রকল্প বন্ধ বরতে হবে। তিনি বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুপারিশ স্কয়ারের কাছে থাকলেও স্কয়ার এ বিষয়ে কর্ণপাত করছেনা বলে উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক আহমেদ বদরুজ্জামান বলেন, কয়লা দূষণের প্রভাবে বাংলাদেশের মানুষ একসময় নিরাপদ মাছ পাবেনা উল্লেখ করে রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মত এত সর্বনাশা প্রকল্প থেকে সরকারের এখনই সরে আসা উচিৎ বলে উল্লেখ করেন।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অতিলোভের জন্য এ ধরণের আত্মঘাতি প্রকল্প চালু হচ্ছে, ওভার ক্যপাসিটি হচ্ছে এবং প্রকল্প বন্ধ রেখেও সরকারকে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *