- গুম ও হত্যার নির্দেশ দিতেন হাসিনা।
- আযমীকেও হত্যার পরামর্শ দিয়েছিলেন হাসিনা।
- মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে রেবকে বিলুপ্ত করার দাবি।
- ২০ লাখ গোলাবারুদ এনেছিলো হাসিনা সরকার।
- আয়নাঘরে ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র দেখে হতবাক।
শামসুল ইসলাম, লণ্ডন: ‘আফটার দ্য মুনসুন রেভ্যুলুশন- এ রোডম্যাপ টু লার্স্টি সিকিউরিটি সেক্টর রিফর্ম ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) সোমবার ৫৫ পৃষ্ঠার রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা নিজেই গুম ও হত্যার নির্দেশদাতা ছিলেন। তার সরাসরি নির্দেশে গুম ও হত্যার মত ঘটনা ঘটেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্টে মানবাধিকার লঙ্ঘনের এমন সব ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে।
এই রিপোর্টে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে রেবকে বিলুপ্ত করার জন্য দাবি জানানো হয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালে কিছু ক্ষেত্রে গুম ও হত্যার সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন ইন্ডিয়ায় পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের পতিত ফ্যাসিবাদী শাসক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমনকি এক পর্যায়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুল্লাহ আমান আযমীকেও হত্যার পরামর্শও দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এসব বিষয়ে জানেন এমন কর্মকর্তারা এইচআরডব্লিউকে জানিয়েছেন ভয়াবহ এ তথ্য।
পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে পুলিশ-রেবসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হয় বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি বিচার বিভাগের সংস্কারের সুপারিশের কথাও জানিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারকে আগামী মার্চে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক অধিবেশনে সংস্কারকে দীর্ঘমেয়াদি করতে প্রস্তাব উত্থাপনেরও পরামর্শ দিয়েছে এইচআরডব্লিউ। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, কমপক্ষে গত ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনার নিষ্পেষণমূলক হাতিয়ারের মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা পর্যায়ক্রমে বিরোধীদলীয় সদস্য, সমালোচক, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মীদের টার্গেট করেছে। এক্ষেত্রে বানোয়াট মামলা দেয়া হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, খেয়ালখুশিমতো গ্রেপ্তার এবং জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে।
একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বাহিনীকে রাজনীতিকরণ করার মধ্যদিয়ে জনগণের সামনে পুলিশের ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং রেবে (যারা হলো পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি বাহিনী) পছন্দের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পুরস্কার দিয়ে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তারা বলেছেন, বাহিনীতে একটি সিস্টেম দাঁড় করা হয়েছিল। এর ওপর নির্ভর করতো রাজনৈতিক স্পন্সরশিপ এবং ঘুষের বিষয়। নিষ্পেষণের প্রণোদনা হিসেবে পুলিশকে পুরস্কার দেয়া হতো। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতে ব্যবহার করা হতো নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ পতিত প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার কুক্ষিগত নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর পদ্ধতিগত সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আইনের মাধ্যমে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার যে পদ্ধতি রয়েছে তা বাতিল করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মনে করে, সংস্কারের মাধ্যমে সিভিল সার্ভিস, পুলিশ, সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে আলাদা করা উচিত। এক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সহায়তা নেয়া উচিত বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
২৮ জানয়ারি, মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ইলেইন পিয়ারসনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অধ্যাপক ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ করে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ওপর হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট হস্তান্তর করেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক এলেন পিয়ারসন বলেন, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার বাংলাদেশি প্রাণ দিয়েছেন। তারা বাংলাদেশে মানবাধিকারের ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি যুগান্তকারী সুযোগ এনে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার যদি দ্রুত এবং কাঠামোগত সংস্কার না করে তাহলে ভবিষ্যতের সরকারগুলো যেকোনো সময় দমন-পীড়নের পথে পরিচালিত হতে পারে। যদি এমনটা হয় তাহলে কষ্টার্জিত অভূতপূর্ব এই সুযোগ সম্পূর্ণরূপে হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০ বছরের বেশি গবেষণা এবং নথিপত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মী, অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্য, বর্তমান ও সাবেক আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এবং সামরিক কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বর্তমান সুপারিশমালা তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থা। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, নিজ ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে হাসিনা বিচার বিভাগ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পাশাপাশি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। এ বিষয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, উচ্চ পদের ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্যকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে হাসিনা সরকার। যার ফলে পুলিশ ক্রমশ পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে ওঠে। তারা বছরের পর বছর ধরে দলীয় ক্যাডারদের মতো আচরণ করেছে।
ইতিমধ্যেই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ছাত্রদের ডাকে সাড়া দেয়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের আগে এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু সংস্কারের প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে তিনি বেশ কয়েকটি কমিশনও গঠন করেছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের বাইরেও সংস্কার প্রক্রিয়া যেন দীর্ঘ হয় সে বিষয়ে ২০২৫ সালের মার্চে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের অধিবেশনে একটি প্রস্তাবনা উত্থাপন করা উচিত। কেননা, বাংলাদেশে পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা খাতের সংস্কারে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন রয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পরও বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে পুলিশ। তারা এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করছে। পুলিশ আগের মতোই মানুষকে নির্বিচারে আটক করছে। অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গণ ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করছে তারা। ফলত পুলিশ যে কাউকেই গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে হুমকি দিতে পারছে এখনো। হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরপরই ‘আয়নাঘর’ খ্যাত হাসিনার গোপন কারাগার থেকে তিনজনকে মুক্তি দেয়া হয়। যাদের আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারকে আইনপ্রয়োগের তত্ত্বাবধানে থাকা কর্মীদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাঠামোগত সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়া উচিত। এ ছাড়া প্রসিকিউশন এবং বিচার বিভাগ যাতে নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষিত থাকে তা নিশ্চিত করার জন্যও সরকারকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংস্থা।
নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের নির্যাতন বা ক্ষমতার অপব্যবহার অংশে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক গুমের ঘটনা তদন্তের জন্য ২০২৪ সালের ১৪ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে একটি কমিশন। তারা প্রথম যে রিপোর্ট দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে কমপক্ষে ৩ হাজার ৫০০ মানুষকে গুম করা হয়েছে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি ‘কেন্দ্রীয় কমান্ড কাঠামোর অধীনে গুম করা হতো। গুমের ঘটনা দেখাশোনা করতেন স্বয়ং শেখ হাসিনা এবং তার শীর্ষ কর্মকর্তারা। তার মধ্যে আছেন মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক, মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। তারা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গুমের সঙ্গে জড়িত থাকা কর্মকর্তারা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বলেছেন, আটকের বিষয়ে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সিনিয়র সদস্যরা জানতেন। তবে এটা প্রকাশ করা হতো না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গুম এবং হত্যাকাণ্ডের সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। একজন সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, ব্রিগেডিয়ার আযমীকে আটকের বিষয়ে সরাসরি জানতেন হাসিনা। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যেহেতু আযমী একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন, তাই শেখ হাসিনার কাছে তিনি মুক্তি দেয়ার আবেদন জানাতে থাকেন। কিন্তু প্রতিবারই তার আবেদন নাকচ করেন হাসিনা। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এক পর্যায়ে শেখ হাসিনা পরামর্শ দেন আযমীকে মেরে ফেলতে।
ওই কর্মকর্তার ভাষায়- ‘আমি সেটা করতে পারিনি। আমি থেমে গিয়ে তাকে মুক্তির বিষয়ে কথা বলেছি’। আযমীকে যখন মুক্তি দেয়া হয় তার আগেই শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। ওই রিপোর্টে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের নিয়ম লঙ্ঘনের বিশদ বর্ণনা দিয়েছে। বলা হয়, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর মাইকেল চাকমা, মীর আহমেদ বিন কাসেম (আরমান) ও আবদুল্লাহ আমান আযমীকে মুক্তি দেয়া হয়। তিনজনের ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষ তাদের হেফাজতে থাকা এসব ব্যক্তির বিষয় অস্বীকার করেছে। তারা সবাই সাংবাদিকদের বলেছেন, তাদের নিঃসঙ্গ কারাবাসে রাখা হয়েছিল। একই বন্দিশিবিরে তারা অন্য বন্দিদের কথা শুনতে পেতেন। হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে আটক করা হয় ২০১৬ সালের আগস্টে। প্রায় কাছাকাছি সময়ে আযমী ও আরমানকেও আটক করা হয়। তারা তিনজনই বিরোধীদলীয় নেতাদের ছেলে। এসব বিরোধীদলীয় নেতা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত হয়ে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। হুম্মাম হলেন বিএনপি’র প্রয়াত নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে। বেআইনিভাবে আটকে রাখার বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখবেন এই শর্তে তাকে ২০১৭ সালের মার্চে মুক্তি দেয়া হয়। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরেই শুধু তিনি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাছে মুখ খুলতে সক্ষম হয়েছেন। ওদিকে মীর আহমেদ বিন কাসেম (আরমান) তার পিতা মীর কাসেম আলীর আইনি টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। মীর কাসেমকেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত একই অভিযোগে অভিযুক্ত করে শাস্তি দেয়। ২০১৬ সালের ৯ই আগস্ট সাত থেকে আট সদস্যের একদল অফিসার তার বাড়ি থেকে স্ত্রী, বোন ও সন্তানের সামনে থেকে আরমানকে তুলে নিয়ে যায়।
একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি গ্রেপ্তারের পরোয়ানা দেখতে চান। কিন্তু কর্মকর্তারা তা প্রত্যাখ্যান করে তাকে বাসার ভেতর থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যান। তাকে একটি ভ্যানে তোলে এবং চোখ বেঁধে ফেলে। তিনি এর প্রতিবাদ করলে একজন কর্মকর্তা তাকে বলেন- আমাদেরকে নিষ্ঠুর হতে বলবেন না। ওদিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় একজন কর্মকর্তা তাকে আটক করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। আরমানের গুমের বিষয়ে দেখাশোনা করেছেন এমন সাবেক আরেকজন উচ্চ পর্যায়ের কমান্ডিং অফিসার বলেছেন, এ ধরনের আটকের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক এবং সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, যখন তিনি জিজ্ঞাসাবাদ টিমে যোগ দেন তখন তাকে বলা হয় আরমান, আযমী ও চৌধুরী হলেন বিরোধী দলের প্রথম সারির তিন নেতার সন্তান। তাদের মুক্তি দেয়ার যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন শেখ হাসিনা। বিরোধী দলের তিন নেতার এই তিন ছেলেকে কীভাবে তুলে নেয়া হয় এবং তাদের সঙ্গে কি নির্যাতন করা হয়েছে, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওই রিপোর্ট। এতে বলা হয়, একজন কর্মকর্তা বলেছেন, রেব, ডিবি এবং ওই সময়ের বিভিন্ন এজেন্সির কর্মকর্তারা অনেক মানুষকে হত্যা করেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংসতা অংশে বলেছে, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার রিপোর্ট আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে সমর্থন করতেন এমন হিন্দু এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু ব্যক্তিরা আক্রান্ত হয়েছেন। পাবনার একজন সাংবাদিক বলেছেন, যেসব মানুষ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারাই টার্গেট হয়েছেন। ওই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায় আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এ জন্যই সেখানে হিন্দুরা আক্রান্ত হয়েছেন। এমন হামলার কিছু রিপোর্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থি গ্রুপ এবং ভারতে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি’র সমর্থকরা অতিরঞ্জিত করে প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যদিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার খবর সত্য। হিন্দুত্ববাদী গ্রুপগুলো দাবি করেছে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও উপাসনালয় টার্গেট করে শত শত হামলা হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার নিশ্চিত করেছে কমপক্ষে ৮৮টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মামলা হয়েছে ৫ই আগস্ট থেকে ২২শে অক্টোবরের মধ্যে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৭০ জনকে। এ বিষয়ে দোয়ারাবাজারের ২৯ বছর বয়সী ব্যবসায়ী চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুরা দ্বিমুখী সমস্যায়। একদিকে ভারতীয় মিডিয়া মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে, ঘটনাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রকাশ করছে, যার কিছুই কখনো ঘটেনি। এর ফলে ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট বাড়ছে। ফলে তাতে হিন্দুদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে। সেপ্টেম্বরে বার্তা সংস্থা পিটিআই’কে একটি সাক্ষাৎকার দেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ক্যাডারদেরকে প্রহার করতে গিয়ে লোকজন হিন্দু সম্প্রদায়ের কাউকে কাউকে প্রহার করেছে। তারা মনে করেছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত হিন্দুরা আওয়ামী লীগের সমর্থক।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান নিয়ে লিখেছে, ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলনে ১৫ই জুলাই সহিংসতা দেখা দেয়। এ সময় অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। তারা নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর বৈষম্যমূলকভাবে সরাসরি গুলি করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদের পেছন থেকে গুলি করা হয়েছে। পরে একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বলেছেন- আমি দেখেছি কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে গুলি করছে। অনেক ক্ষেত্রেই আমি দেখেছি, কর্মকর্তাদের জীবন বিপজ্জনক অবস্থায় না থাকলেও তারা সরাসরি গুলি করছেন। ১৮ই জুলাই সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ। বন্ধ করে দেয় সব রকম যোগাযোগ। বন্ধ করে দেয় তথ্য পাওয়ার সব পথ। তা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা সংগঠিত হতে থাকেন। পুলিশ তাদের পিছু নেয় এবং গুলি করে। ১৮ বছর বয়সী আমির হোসেন বলেন, তিনি ১৯শে জুলাই পুলিশের হামলার সময় এক ভিড়ের মধ্যে পড়ে যান। তিনি কীভাবে নিজের জীবন রক্ষার চেষ্টা করছিলেন তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পায়। বিক্ষোভকারীরা একটি জেলে নিরাপত্তা ভেঙে প্রবেশ করার পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনের অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ অবস্থায় ২০শে জুলাই সরকার সারা দেশে কারফিউ জারি করে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেয়।
গ্রেপ্তার করে কয়েক হাজার মানুষকে। একজন পুলিশ কর্মকর্তার কলেজপড়ুয়া ছেলে ইমান হোসেন তায়েম ২০শে জুলাই তার দুই বন্ধুকে নিয়ে একটি চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তাদের দিকে গুলি শুরু করে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। তাদের একজন বুলেটবিদ্ধ হওয়ার পর দোকানের ভেতরে লুকিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেন তারা। নামিয়ে দেন দোকানের শাটার। তাদের এক বন্ধু মোহাম্মদ রাহাত হোসেন বলেন, ১০-১৫ জন পুলিশ সদস্য দোকানের ভেতর প্রবেশ করে। তারা আমাদের দিকে বন্দুক ধরে। আমাদেরকে বুট ও তাদের অস্ত্র দিয়ে শারীরিকভাবে আঘাত করতে থাকে। কোনো কোনো কর্মকর্তা বলতে থাকেন, আমাদেরকে গুলি করা উচিত। অন্যরা পরামর্শ দেন আমাদের পায়ে গুলি করা উচিত। তায়েম ও আমি একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আমাদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালি দেয় পুলিশ। বলে দৌড়ে পালাতে। এ নির্দেশ পেয়ে তায়েম দুই থেকে তিন পা সামনে যেতেই আমি ওকে অনুসরণ করার কথা ভাবি। কিন্তু আমি যাইনি। ও দৌড় দেয়ার পর পেছন থেকে ওকে দু’টি বুলেট মারা হয়। তার একটি তার বুক ভেদ করে চলে যায়। দ্বিতীয় বুলেটটি লাগে তার পায়ে। এমনতরো বিভিন্ন ব্যক্তিকে হত্যা করে পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা।
এইচআরডব্লিউ’র প্রতিনিধিদলটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি এবং দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া প্রধান বলেন, ‘আপনারা এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতি করেছেন তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই।’ জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান সময়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এখন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবাধিকারের গুরুত্ব উপলব্ধি করছে।’
এইচআরডব্লিউ রেপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (রেব) বিলুপ্ত করার সুপারিশ তুলে ধরে বলেছে, গুম ও হত্যার জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের অপরাধের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত। তিনি বলেন, ‘এখানে জবাবদিহিতা থাকা জরুরি।’
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনামলের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের যে প্রচেষ্টা ছিল- তার প্রশংসা করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘গত ১৬ বছর আপনাদের প্রতিবেদনগুলোতে ১৬ বছরের একনায়ক শাসনামলের ব্যাপক অপরাধ উন্মোচনে সহায়ক হয়েছে। র্যাব তাদের অপরাধের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছে, তবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখী হতে হবে এবং শাস্তি পেতে হবে। আমরা উন্মুক্ততা এবং স্বচ্ছতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সমস্ত সংস্কার সুপারিশ প্রকাশ করছি এবং জনগণকে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার নির্ধারণের সুযোগ দিচ্ছি। ১৬ বছরের দমন-পীড়ন এবং অপরাধের ক্ষতি পূরণ করা একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ হবে। প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, তিনি রাখাইনে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার রোহিঙ্গার জন্য একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মিয়ানমারের প্রধান বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ‘নিরাপদ অঞ্চল’-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’
২০ লাখ গোলাবারুদ এনেছিলো হাসিনা সরকার
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াতের সরকারবিরোধী আন্দোলন দমাতে তুরস্ক থেকে ২০ লাখ গোলাবারুদ আমদানি করে আওয়ামী লীগ সরকার। মূলত আওয়ামী লীগের একতরফা নির্বাচনকে বাধা দিতে জুলাই থেকেই সরকার বিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে। আন্দোলন ঠেকাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তড়িঘড়ি করে সরকারকে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহের একটি চাহিদাপত্র দেয়। চাহিদা অনুযায়ী, দ্রুত সময়ে গোলাবারুদ সংগ্রহ করে সরকার। জানা গেছে, তৎকালীন ডিএমপি’র যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল আমদানির আগে ওই গোলাবারুদের গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে তুরস্ক সফরে যান। সফরে যাওয়া বাকি দু’জন হলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস ও পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার দেওয়ান জালাল উদ্দিন চৌধুরী। গত বছরের ২৯শে আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাদের বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তুরস্ক থেকে সংগ্রহ করা ওই অস্ত্র দিয়েই ২৮শে অক্টোবর বিএনপি’র মহাসমাবেশে হামলা করেন পুলিশ। আমদানি করা গুলি, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড, হ্যান্ড গ্রেনেড ও ভারী বল কার্তুজ বুলেটে সেদিন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আহাহত হন। এদিন নয়াপল্টন, কাকরাইল, পুরানা পল্টন, দৈনিক বাংলার মোড়, মতিঝিল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের মুহুর্মুহু গুলিতে দুপুরের আগেই বিএনপি’র মহাসমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। অলিগলিতে পুলিশের গুলিতে শত শত নেতাকর্মী আহত হন। পুলিশের ওই সূত্র বলছে, ব্যাপক প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই মজুত বাড়াতে আগাম এই অস্ত্র গোলাবারুদ সংগ্রহ করে পুলিশ। যা ২৮শে অক্টোবরই প্রথম ব্যবহার করা হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পরে এটি ছিল পুলিশের সবচেয়ে বড় গোলাবারুদ আমদানির চালান।
নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের পহেলা জুলাই তুরস্কের সঙ্গে অস্ত্র ও গোলাবারুদ আমদানির একটি চুক্তি করেন আওয়ামী লীগ সরকার। ওই বছরের ৫ই সেপ্টেম্বর গোলাবারুদের ব্যবহারযোগ্যতা পরীক্ষা করতে তুরস্কের সমরাস্ত্র কারখানা পরিদর্শন করেন দুই পুলিশ সদস্য ও এক সচিবসহ তিনজন। দেশে ফিরে তারা ছাড়পত্র দিলেই অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তুরস্ক থেকে বিপুল সংখ্যক এই গোলাবারুদের চালান বাংলাদেশে আসে। পরে তা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পৌঁছে দেয়া হয়। ওই অস্ত্র দিয়ে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত চলা আন্দোলনে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর ব্যবহার করা হয়। সর্বশেষ জুলাই আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ব্যাপকহারে এই গোলাবারুদ ব্যবহার করে পুলিশ।
আয়নাঘরে ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র দেখে হতবাক
রাজধানীর উত্তরা রেব-১ বাউন্ডারির পাশেই রয়েছে রেবের আয়না ঘর। ওই ভবনের দ্বিতীয় তলা ও আন্ডারগ্রাউন্ডেই ছিল রেবের আয়নাঘর। ওই আয়নাঘরে আটক রেখেই নির্যাতন করা হতো বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষকে। এখানে আটকে রেখে বন্দীদের নির্যাতনের ভয়াবহতা এখনও বিদ্যমান। যা দেখে হতবাক পরিদর্শনকারীরা। তবে ওই আয়নাঘর পরিচালনা করা হতো র্যাবে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে।
পুলিশ বা অন্য কোন সংস্থার কর্মকর্তা ও সদস্যদের এর কাছেও যেতে দেয়া হতো না। এমন তথ্য তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। মঙ্গলবার ওই ভবনের আয়নাঘর পরিদর্শন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর সাবেক পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ চৌধুরী। এ সময় সিআইডির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
পরির্দশনে যাওয়া এক কর্মকর্তা বলেন, পরির্দশনের সময় মনে হয়েছে বাস্তবতা বড়ই ভয়াবহ ও বিভীষিকাময় এক চিত্র প্রকাশ করে। আয়নাঘরের ছোট ছোট কুঠুরিতে গুম হওয়া মানুষদেরকে বন্দি করে রাখা হতো। তাদের সার্বক্ষণিক চোখ বন্ধ করে রাখা হতো। গুহার ভেতর দিন-রাতের কোনো পার্থক্য করা যেতো না। তাদের খাবার, ঘুম ও অন্যান্য কাজকর্ম সারতে হতো চোখ বাঁধা অবস্থায়। এখানে অন্য বন্দিদের কেউ কাউকে দেখতে পেতো না। দম বন্ধ করা মৃত্যুকুপে অনেকের বছরের পর বছর কেটেছে। কেউ কেউ সেখানে মৃত্যুবরণ করেছেন। এমনটিই মনে হয়েছে পরিদর্শনের সময়।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর কারওয়ান বাজার রেব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রেব মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি একেএম শহিদুর রহমান বলেছিলেন, রেবে আয়না ঘর, গুম, খুনসহ যতো ধরণের অভিযোগ রেবের বিরুদ্ধে ছিল তার তদন্ত করছে কমিশন। আমরা রেবের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহায়তা করছি। আমরা মনে করি, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

