শিরোনাম
বৃহঃ. ফেব্রু ১৯, ২০২৬

টাটকা ইলিশের স্বাদ নিতে গন্তব্য ভোলার ইলিশ বাড়ি

হাবিবুর রহমান, ঢাকা: বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। সর্ষে ইলিশ, ইলিশ পোলাও, ইলিশ দোপেয়াজা, ইলিশ পাতুরি, ইলিশ ভাজা, ভাপা ইলিশ, স্মোকড ইলিশ, দই ইলিশ, ইলিশের টক, ইলিশের মালাইকারী, ইলিশের ভর্তা-এমন নানা পদের খাবার বাংলাদেশে জনপ্রিয়। প্রকৃতির অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পর্যটন নগরী দ্বীপজেলা ভোলা। ভোলার মেঘনায় মেলে প্রচুর ইলিশ। পৃথিবীর মোট ইলিশের প্রায় ৬০ শতাংশ উৎপন্ন হয় বাংলাদেশে।

তবে বিখ্যাত পদ্মার ইলিশ। পদ্মা- মেঘনা অববাহিকায় যে ধরনের খাবার খায় ইলিশ, এবং জলের প্রবাহের যে মাত্রা তার ফলে এর শরীরে উৎপন্ন হওয়া চর্বিই এর স্বাদ অন্য যেকোন জায়গার ইলিশের চেয়ে ভিন্ন করেছে। ইলিশকে কেন্দ্র করে পর্যটন হিসেবে বিবেচনায় এনে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় গড়ে উঠেছে বহু স্থাপনা। এরমধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুউচ্চ দৃষ্টিনন্দন ১৮ তলার জ্যাকব ওয়াচ টাওয়ার, বাংলাবাজারে স্বাধীনতা জাদুঘর, লালমোহন উপজেলায় সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল পার্ক, চরফ্যাশনে শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্ক, খামার বাড়ি, দক্ষিণ দিঘলদী তেঁতুলিয়া পাড়ের বঙ্গবন্ধু পার্ক, দৃষ্টিনন্দন বাঘমারা ব্রিজ, তুলাতলী পর্যটন কেন্দ্র, ভেলুমিয়া কায়াকায়িং পয়েন্ট, জেলা পরিষদ চত্বর, মেঘনা ও তেতুলিয়া পাড়ের ইকোপার্ক এবং মেঘনার কোলঘেষা মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা স্পট বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক।

বিনোদনের পাশাপাশি টাটকা ইলিশের স্বাদ পেতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে যাচ্ছেন ভ্রমণপ্রিয় মানুষ। ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট থেকে দক্ষিণে নাছিরমাঝি পর্যন্ত মেঘনা তীরে ব্লকবাঁধ। মে মাসে মেঘনা হয়ে ওঠে আরও উত্তাল। সাগরের মতো এদিক-ওদিক জলরাশি ছাড়া কিছু দেখা যায় না।

সর্বজন বিদিত ‘পদ্মা’ আর ‘ইলিশ’ পরষ্পর অঙ্গাগীভাবে জড়িয়ে রয়েছে। অর্থাৎ একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। পদ্মা নামের সঙ্গে চোখের ওপর ভেসে ওঠে ইলিশ। তাই বাংলাদেশের পদ্মাপারে নানাস্থানে গড়ে উঠেছে ইলিশের রেস্তোরাঁ। খদ্দের টানতে রেস্তোরাঁর নামও দেওয়া হয়েছে ‘ইলিশ রেস্তোরাঁ।” ঢাকার অদূরে মাওয়া ফেরিঘাটে টাটকা ইলিশের স্বাদ নিতে সেখানে গড়ে উঠেছে অর্ধশত রেস্তোরাঁ।মাওয়া-শিমুলিয়া ঘাটে রয়েছে‘রূপসী বাংলা’, ‘রূপালি ইলিশ’, ‘শখের হাঁড়ি’, ‘কুটুমবাড়ি’, ‘শখের ইলিশ’, ‘ইলিশ আড্ডা’ ‘ইলিশ ভোজ’সহ আরও নানা রকম বাহারি নামের রেস্তোরাঁ।

রেস্তোরাঁর সামনে ভাজা ইলিশ মাছের টুকরো সাজানো থাকে। সঙ্গে ভাত, ভর্তা, ভাজিসহ অন্যান্য খাবার নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন কর্মচারীরা। ক্রেতা মাছ দেখে অর্ডার করার পর টেবিলে ইলিশ ভাজা পৌঁছাতে বেশি সময় লাগে না।শিমুলিয়ার ইলিশ রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠন ‘ইলিশ রেস্তোরাঁ হাট’।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *