শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

ডি’মারিয়ার গোলে মেসির স্বপ্নপূরণ, ব্রাজিলকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন

অবশেষে আন্তর্জাতিক ট্রফি উঠছে লিওনেল মেসির হাতে। অ্যাঞ্জেল ডি’মারিয়ার বিশ্বমানের গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হল মেসির আর্জেন্টিনা। বন্ধুর দৌলতে অবশেষে আর্জেন্টিনার হয়ে ট্রফির খরা কাটালেন মেসি। এই নিয়ে ১৫ বার কোপা চ্যাম্পিয়ন হল আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ের পাশাপাশি কোপার সবচেয়ে সফল দল তারাই। ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবার কোপা আমেরিকা জিতল আর্জেন্টিনা। অর্থাত্‍, ২৮ বছর ধরে বড় মানের আন্তর্জাতিক ট্রফির জন্য যে অপেক্ষা আর্জেন্টিনা সমর্থকদের করতে হয়েছিল, সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল মেসিদের হাত ধরেই।

রবিবার মারাকানায় ম্যাচের শুরুটা তেমন জাঁকজমক হয়নি। খেলাও তেমন দৃষ্টিনন্দন হচ্ছিল না। কিন্তু সবকিছু বদলে গেল ম্যাচের ২২ মিনিটে। রড্রিগো ডি’পলের বাড়ানো বিশ্বমানের পাস থেকে বিশ্বমানের চিপ। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের যেন সপ্তম স্বর্গে পৌঁছে দিলেন ডি মারিয়া। ম্যাচের ২২ মিনিটে সেই যে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেল, তারপর শত চেষ্টাতেও আর সমতা ফেরাতে পারেনি ব্রাজিল। নেইমার, রিচার্লিসনদের যেন একেবারে পকেটে পুরে ফেললেন ওটামেন্ডি, অ্যাকুনারা। নেইমারের পায়ে বল পড়লেই কোনও না কোনও আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার তাঁকে ট্যাকল করেছেন। আর ডি-বক্সের মধ্যে বল নিয়ে গেলেই পাঁচিলের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন ওটামেন্ডি। গোলরক্ষক মার্টিনেজের কৃতিত্বও কম কিছু নয়। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে। একাধিক বিশ্বমানের সেভ উপহার দিয়ে দলকে জিতিয়ে এনেছেন তিনি।

অন্যদিনের তুলনায় বরং এদিন খানিকটা ম্লান মনে হয়েছে ইনজুরি আক্রান্ত মেসিকেই। তবে, এবারে আর ট্রাজিক নায়ক নন তিনি। কোপা আমেরিকা ২০২১-এর ইতিহাসে মেসির নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা হবে। হ্যাঁ , ম্যাচের শেষ মুহূর্তে স্বপ্নের সুযোগ নষ্ট করার পরও। যে সুযোগটা পেলে হয়তো ১০০ দিনের মধ্যে বাকি ৯৯ দিন চোখ বন্ধ করেও বিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে দিতেন লিও। ইনজুরি ও পাহাড় প্রমাণ চাপে সেটিও নষ্ট করেছেন তিনি। কিন্তু গোটা বিশ্বের অগণিত মেসি ফ্যানের প্রার্থনা হয়তো এতদিনে কাজে এল। সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করা সত্ত্বেও এবারে আর মেসির নামের পাশে ব্যর্থতার তকমা লাগানো যাবে না। এবারে তিনিই চ্যাম্পিয়ন। তাঁর হাত ধরেই ২৮ বছর পর শাপমুক্তি হল আর্জেন্টিনার।

মারাদোনাকে মিস করল মেসির মারাকানা, উচ্ছাসেও আক্ষেপের সুর

দীর্ঘ ২৮ বছর পরে কোপার শিরোপা জিতল আর্জেন্টিনা। নীল সাদা সমর্থকদের মুখে হাসি ফুটলেও কোথায় একটা আক্ষেপ রয়ে গেছে। ট্রফি জিতলেও, সেই ছবিটা যে তাদের প্রিয় মারাদোনার দেখে যাওয়া হলনা। ফুটবল বিশ্বকে কাঁদিয়ে গত ২৫ নভেম্বর কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন মারাদোনা। বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। মাঠে বসে তিনি দেখে যেতে পারলেন না লিওনেল মেসি, অ্যাঞ্জেল ডি’মারিয়াদের সাফল্য, জীবদ্দশায় যেটা ছিল তার বহুকাঙ্ক্ষিত।

আর্জেন্টিনার খেলা হলেই তিনি ছুটে যেতেন মাঠে। দুই হাত উঁচিয়ে, বুকটা চিতিয়ে শিশুতোষ উল্লাসে ফেটে পড়তেন। শেষ পর্যন্ত হতাশায় ডুবে মাঠ ছাড়তে হতো তাঁকে। দিনের পর দিন এই একই ছবি দেখেছিল বিশ্ব ফুটবল। টুর্নামেন্টের পর টুর্নামেন্ট। হ্যাঁ, তিনি দিয়েগো আরমান্দো মারাদোনা; আর্জেন্তিনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপের নায়ক। ফুটবলের ভগবান। আজকের দিনে বেঁচে থাকলে তিনি হয়তো মারাকানার গ্যালারিতে থাকতেন। উচ্ছ্বাস, উল্লাসে ফেটে পড়তেন উত্তরসূরিদের অর্জনে। গভীর আলিঙ্গনে বাঁধতেন মেসিকে।

এবারের আগে সবশেষ ১৯৯৩ সালে কোনো বড় টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর থেকে আর সাফল্য ধরা দিচ্ছিল না। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ছয়টি ফাইনাল থেকে ফিরতে হয়েছিল শূন্য হাতে। আর সব প্রতিযোগিতা থেকে মাথা নিচু করে ফিরেছিলেন মারাদোনাও। তবে আজ তিনি মাঠে থাকলে ছবিটা হয়তো বদলে যেত।

কে জানে, হয়ত স্বর্গে বসেই তিনি উপভোগ করছেন উত্তরসূরিদের সাফল্য! আবেগের বাঁধনহারা উল্লাসে অসীমে ছোটাছুটি করছেন,যেমনটা করতেন গ্যালারিতে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *