শিরোনাম
শনি. জানু ৩, ২০২৬

ঢাকার কোথাও সচল নেই ডিএনসিসি’র বেসিন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) একটি হাত ধোয়ার বেসিনও সচল পাওয়া যায়নি। পথচারীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন করতে চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে রাজধানীর ২৫টি স্থানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছিল ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। ঘটা করে উদ্বোধনও করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। উদ্বোধনের প্রথম কিছুদিন ঠিকঠাক চললেও, পরে সেগুলো অচলের তালিকায় যুক্ত হয়। এদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে, বেসিনগুলো নিয়ে চলছে স্থায়ী পরিকল্পনা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে পুলিশ প্লাজার সামনে, গুলশান-২ ডিএনসিসি মার্কেটের সামনে, কাকলী বাসস্ট্যান্ড, শ্যাওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড, মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরের শাহ আলী মার্কেটের কোনায়, মিরপুর শপিং মলের নিচে, মিরপুরে সনি সিনেমা হলের সামনে, উত্তরার মাসকট প্লাজার সামনে, খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটের সামনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কোথাও বেসিন আছে, আবার কোথাও নেই। বেসিন থাকলেও সচল নেই একটিও।

অথচ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। এই সচেতনতার প্রথম শর্ত হচ্ছে হাত ধোয়া। মূলত পথচারীদের সচেতন করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে সাবান ও পানি সরবরাহ করা হবে।’

গুলশান-২ ডিএনসিসি মার্কেটের সামনেদেখা গেছে, গুলশান পুলিশ প্লাজার সামনে যে বেসিন রাখা হয়েছিল সেটির পানির ট্যাংকে ময়লা জমে আছে। বেসিন নিচে উল্টো হয়ে পড়ে আছে। সেখানের পথচারীরা জানিয়েছেন, প্রথম কিছুদিন খুব ভালো ছিল। সাবান ছিল, পানি ছিল। কিন্তু এরপরে হঠাৎ করেই সেখানে পানি আর সাবান দেখতে পাওয়া যায়নি। কিছুদিন পর কে বা কারা বেসিন ওপর থেকে নামিয়ে নিচে রেখেছে।

গুলশান ২ নম্বর ডিএনসিসি মার্কেট সামনে যে বেসিন রয়েছে, সেটিও পড়ে রয়েছে অযত্নে অবহেলায়। সেটির পাশের এক ফল বিক্রেতা জানান, আগে প্রতিদিন ওয়াসার গাড়ি পানি দিয়ে যেতো, সাবান থাকতো। তবে এই এলাকার কিছু পথশিশু সে সাবানগুলো মুহূর্তের মধ্যেই নিয়ে চলে যেতো। আর ওই পানি দিয়ে তারা গোসলও করতো। এরকম কিছুদিন করতে করতে প্রায় দুই মাস যাবৎ এটি এখন বন্ধ রয়েছে। কেউ খোঁজ নিতে আসে না।

বনানীর কাকলী বাসস্ট্যান্ডে যে জায়গাটিতে হাত ধোয়ার বেসিন রাখা ছিল, সেখানে বেসিন নেই। সেখানের পথচারীরা জানান, এই জায়গাটিতে একটি বেসিন সেট ছিল। প্রথম কিছুদিন খুব ভালো চললেও পরে সেটিতে হঠাৎ করে পানি-সাবান দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এর কয়েকদিন পরে এটি আর এখানে দেখা যায়নি। কে বা কারা নিয়ে গেছে সেটা বলতে পারছি না।

রাজধানীর শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে বেসিনের কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সেখানে দোকানিরাও জানিয়েছে, কোনোদিন তাদের চোখে পড়েনি। মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে শাহ আলি প্লাজা চারদিকে ঘুরে বেসিনের কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে মিরপুর-২ শপিং মলের সামনে যে বেসিনটি রাখা হয়েছিল সেটি প্রায় ২ মাস আগে সিটি করপোরেশনের লোক এসে নিয়ে গেছে বলে জানান সেখানে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা। পরে মার্কেট কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে সেখানে একটি বেসিনের ব্যবস্থা করেছে।

কাকলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা শুধু এগুলোই নয়, ডিএনসিসির রাখা ২৫টি স্থানের হাত ধোয়ার বেসিনের বর্তমান অবস্থা একই। কোথাও বেসিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও আবার অনেক জায়গাতেই নেই বেসিন। ডিএনসিসির বেসিন রাখা ২৫টি পয়েন্ট হচ্ছে- উত্তরায় রবীন্দ্র সরণি (বঙ্গবন্ধু মুক্ত মঞ্চ), রাজলক্ষ্মী মার্কেটের সামনে, মাসকট প্লাজার সামনে, খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটের সামনে, মিরপুরে সনি সিনেমা হলের সামনে, গ্রামীণ ব্যাংকের বিপরীত দিকে ডিএনসিসি আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে, মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে ফায়ার সার্ভিসের সামনে, মিরপুর-১২ নম্বর বাসস্ট্যান্ড, মিরপুর-১৪ নম্বর মার্ক মেডিক্যালের সামনে, মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরের শাহ আলী মার্কেটের কোনায়, মিরপুর শপিং মলের নিচে (মিরপুর সরকারি কলেজের বিপরীতে), মিরপুর-১ নম্বর কো-অপারেটিভ মার্কেটের সামনে, গাবতলী পশু হাট, শ্যাওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড, ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে, মোহাম্মদপুর টাউন হলের সামনে, মোহাম্মদপুর বসিলা রোডের নতুন রাস্তার কালভার্টের ওপর, কাওরান বাজার (কিচেন মার্কেটের সামনে), আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতালের সামনে, গুলশান-২ ডিএনসিসি মার্কেটের সামনে, গুলশানে পুলিশ প্লাজার সামনে, কাকলী বাসস্ট্যান্ড, মহাখালী ডিএনসিসি আঞ্চলিক অফিসের সামনে এবং রামপুরা বাজার।

হাত ধোয়ার এই বেসিনগুলোর এমন করুণ অবস্থা কেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পার্মানেন্ট করার একটা পরিকল্পনা করছি। যার ফলে নতুন করে সেখানে আর হাত দিচ্ছি না। এগুলো পার্মানেন্ট কীভাবে করা যায় তার জন্য ওয়াসার সঙ্গে কথা বলে সিভিল কনস্ট্রাকশন করে পার্মানেন্ট করার ব্যবস্থা করছি। বর্তমানে আগের পরিকল্পনাটি স্থগিত রয়েছে, যেখানে চালু আছে তা চলছে। এছাড়া অনেক বেসিন ভাড়া করা ছিল, সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে।’


সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *