শিরোনাম
শনি. জানু ৩, ২০২৬

ঢাকা উপনির্বাচনে পোস্টারের ছড়াছড়ি

কিরণ শেখ ও শেখ তৌফিকুর রহমান

আসন্ন ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৮ উপনির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এই দুই আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন। যদিও ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৮ উপনির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কী না এবিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি দলটি। এরপরও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

গত ৬ মে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মোল্লা এবং ১০ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মরহুম সাহারা খাতুনের মৃত্যুর পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি নির্বাচনী আসন এখন খালি হয়।

পরে গত ২০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর জানান, আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকা-৫ ও পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এছাড়া করোনাকালে অনুষ্ঠিত অন্যান্য উপনির্বাচনের মতো সিরাজগঞ্জ-১ ও ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনও পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান আলমগীর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালীন সময়েও নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই ঢাকা-৫ আসনে পোস্টারের ছড়াছড়ি। বড় বড় রাস্তা থেকে শুরু করে অলিগলিসহ সব স্থান পোস্টারের দখলে। আর এর বাইরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণাও শুরু করেছেন। পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন পেতে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপও শুরু করেছেন।

নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-৫ আসন ঘুরে দেখা গেছে, আসন্ন ঢাকা-৫ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের থেকে মনোনয়ন চান দলটির কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য চৌধুরী সাইফুন্নবী সাগর। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চৌধুরী সাইফুন্নবী সাগর ঢাকা-৫ আসনের জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে রাস্তা থেকে শুরু করে অলিগলিসহ সব স্থানে পোস্টার টাঙিয়েছেন।

এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশিদ মুন্না। দল থেকে হারুনর রশিদ মুন্নাকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য তার কর্মী ও সমর্থকরা ঢাকা-৫ আসনের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার টাঙিয়েছেন। তারা পোস্টারে লিখেছেন, ঢাকা-৫ আসনে হারুনর রশিদ মুন্না ভাইকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই।

একই আসন থেকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চান ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল। সজলের কর্মী ও সমর্থকরা তার মনোনয়ন চেয়ে বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন নেতা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল ভাই হোক জনগণের সেবক।

এদিকে ঢাকা-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী নগর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আলহাজ্ব কামরুল হাসান রিপন। তিনি মনোনয়ন চেয়ে ঢাকা-৫ আসনের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানায় পোস্টার টাঙিয়েছেন।

এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান মাসুদ। মাসুদ এর কর্ম-সমর্থকরা তার মনোনয়ন চেয়ে ঢাকা-৫ আসনে বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার টানিয়ে লিখেছেন, ঢাকা-৫ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান মাসুদ ভাইকে এমপি হিসেবে দেখতে চাই।

ঢাকা-৫ উপনির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান বিশিষ্ট শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও সংগঠক আলহাজ্ব মো. হারুন-উর-রশিদ। এছাড়া একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কাজী মনিরুল ইসলাম মুন।

ঢাকা উপনির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, জনগণের সাথে যার সম্পৃক্তা ও গ্রহণযোগ্যতা বেশী রয়েছে- এমন কাউকেই প্রাধান্য দেয়া হবে। একই সাথে দলের প্রতি ত্যাগ এবং সাম্প্রতিক সময়ে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও যারা জনগণের জন্য কাজ করেছেন তাদের মধ্যে থেকেই প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হবে।

উপনির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা করবেন বলেও জানান জাহাঙ্গীর কবির নানক।

অন্যদিকে ঢাকা-৫ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চিঠি পেয়েছিলেন মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ সভাপতি নবীউল্লাহ নবী এবং দলের কেন্দ্রীয় গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়া। পরে ঢাকা-৫ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান নবীউল্লাহ নবী।

যদিও ঢাকা-৪ এবং ঢাকা-৫ আসনটি আগে একটি আসন ছিল। ওই সময় এই আসনের আধিপত্য ছিল বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহম্মেদের। কিন্তু একাদশ নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন সালাহউদ্দিন আহম্মেদ। তবে এবার সালাহউদ্দিন আহম্মেদ কিংবা তার ছেলে তানভীর আহম্মেদ রবিন ঢাকা-৫ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ সভাপতি নবীউল্লাহ নবী এবং দলের কেন্দ্রীয় গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়াও এই আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

তবে এই আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী নবীউল্লাহ নবী শুধু পোস্টার টাঙিয়েছেন। অন্য কোন প্রার্থীর পোস্টার এখনোও দেখা যায়নি।

জানতে চাইলে নবীউল্লাহ নবী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, নির্বাচনের যাওয়ার বিষয়ে আমাদের দল সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তাই দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই আমার সিদ্ধান্ত। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সকল ধরণের প্রস্তুত আমাদের রয়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহম্মেদের ছেলে তানভীর আহম্মেদ রবিন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, দল যদি চায় তাহলে আমার বাবা আবার এই আসন থেকে নির্বাচন করবেন। আর দল না দিলে তো তিনি চাইবেন না। তবে এটা তো তারই আসন ছিল। তিনি এখানের প্রতিষ্ঠাকালীন এমপি। তাই দল যদি আবার তাকে প্রয়োজন মনে করেন তাহলে তিনি নির্বাচন করবেন।কেএস/এনএইচ

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *