শিরোনাম
শনি. ফেব্রু ৭, ২০২৬

তাঁদের নিজেদেরও ইজ্জত নেই, অন্যকেও ইজ্জত-সম্মান দিতে পারেন না: বাপ্পারাজ

বিনোদন প্রতিবেদক: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এরই মধ্যে দুই প্যানেলের সদস্য গোছানোর কাজও প্রায় গুছিয়ে নিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন ও নিপুণ এবং মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান। মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে নির্বাচনে কার্যকরী সদস্য পদে বাপ্পারাজ লড়বেন, এটা নিশ্চিত। তবে মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে নির্বাচন করলেও সভাপতি হিসেবে বিরোধী প্যানেলের ইলিয়াস কাঞ্চনকে দেখতে চান বাপ্পারাজ। তিনি বিশ্বাস করেন, শিল্পীদের ইজ্জত–সম্মান ফেরাতে হলে ইলিয়াস কাঞ্চনকে সভাপতি হিসেবে দরকার।

২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এবারের আসরের নির্বাচন। সভাপতি হিসেবে বিরোধী প্যানেলের ইলিয়াস কাঞ্চনকে চাইলেও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চাইছেন নিজ প্যানেলের জায়েদ খানকে। কারণ হিসেবে বাপ্পারাজ বললেন, ‘ভোট শেষে সবাই কিন্তু এক সমিতির লোক। রেষারেষি করেই তো ইন্ডাস্ট্রির আজ এই হাল। সবাইকে উদারতার প্র্যাকটিস করতে হবে। এটা সবাইকে শেখাতেও হবে। প্যানেল গঠন কিন্তু শুধু একটা নির্বাচনের জন্য, যখন আমরা সবাই মিলে সমিতিতে দাঁড়িয়ে যাব, একসঙ্গে কাজ করব—সবাই আমরা শিল্পী। কে কোথা থেকে এসেছি, কোন প্যানেল—এসব নিয়ে ভাবার দরকার নেই।’

জায়েদ খানের ব্যাপারে বাপ্পারাজ বলেন, ‘ও কিছু করুক না করুক, প্রতি সপ্তাহে তো অন্তত দোয়া মাহফিল করেছে। সিনিয়র শিল্পী যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের নানাভাবে স্মরণ করছে। ব্যক্তিগতভাবে সে কী করছে না করছে, তা আমার জানার দরকার নেই। তাই আমি সবাইকে বলছি, ইলিয়াস কাঞ্চন সাহেবকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করতে আর জায়েদ খানকে সাধারণ সম্পাদক—এটা আমার ব্যক্তিগত চাওয়াও বলতে পারেন।’

কবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিলেন জানতে চাইলে বাপ্পারাজ বললেন, ‘১ জানুয়ারি জায়েদ খান আমার বাসায় আসে। বলল, “আপনাকে আমাদের সঙ্গে নির্বাচন করতে হবে।” বললাম, আমি তো নির্বাচন করব না। জায়েদ বলল, “আপনি করার দরকার নেই। গতবারও তো করেননি। শুধু আমাদের প্যানেলের সঙ্গে আছেন, এই সই করে দেন। পাস করা না করাটা পরের ব্যাপার।” আমিও ভাবলাম, অসুবিধা কী। আমি তো এখনকার কমিটিতেও আছি, কিন্তু কোনো মিটিংয়ে অ্যাটেন্ড করিনি। আমাকে শোকজও দেয় না, কিছু বলেও না।’

কিন্তু অনেকেরই অভিযোগ প্রকৃত শিল্পীরা শিল্পী সমিতিতে না আসার কারণে আজ এই অবস্থা। আপনাদের সবার সামনে আসা উচিত। এমন কথায় বাপ্পারাজ বলেন, ‘এখন তো যাঁরা আছেন, তাঁদের নিজেদের কোনো ইজ্জত নেই, অন্য কাউকে তো তাঁরা ইজ্জত-সম্মান দিতে পারেন না। খামাখা এই ধরনের লোকের সামনে গিয়ে নিজের ইজ্জত খোয়ানোর কোনো মানে হয় না! কারণ, এই ইজ্জত কামাতে আমার তো ৩৫টি বছর লেগেছে।’

তাহলে শিল্পীদের ইজ্জত–সম্মান ফিরিয়ে আনতে বা বজায় রাখতে কী করা দরকার বলে মনে করছেন আপনি? ‘এ জন্যই কাঞ্চন সাহেবকে দরকার। যাঁর ইজ্জত আছে, যিনি অন্যকে ইজ্জত দিতে পারেন, তাঁকেই তো দরকার। তাই আমি মনে করি, শিল্পীদের ইজ্জত–সম্মান ফেরাতে ইলিয়াস কাঞ্চনকে সভাপতি করা দরকার। বর্তমান কমিটির সভাপতি যদি একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে তাঁর কলিগদের ইজ্জত-সম্মান দিয়ে কথা বলতে না পারেন, কলিগকে হিউমিলিয়েট করেন—তাঁর তো সভাপতি পদে থাকার কোনো অধিকারই নেই। খামোখা জায়েদ খান জোর করে মিশাকে বানিয়েছেন। চান্সেও মিশা হয়ে গেছে। মিশার তো সভাপতি হওয়ার কোনো যোগ্যতা নেই। সভাপতি হতে তো মিনিমাম কিছু যোগ্যতা লাগে, স্ট্যান্ডার্ড লাগে। জায়েদ খানও এখন ব্যাপারটা বুঝছে,’ বললেন বাপ্পারাজ।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *