নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: এনএসআই নামে পরিচিত জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল আবু মোহাম্মদ সরোয়ার ফরিদ বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক ব্যতিক্রমধর্মী সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। এই সাক্ষাতকারটি শনিবার তারেক রহমানের ব্যক্তিগত বাসভবনে নয়, বরং ঢাকার গুলশানে অবস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরেই অনুষ্ঠিত হয়েছে—যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। ঢাকার বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে গিয়ে দলটির শীর্ষ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই ঘটনা দেশের গোয়েন্দা ও সামরিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র জানায়, এনএসআই মহাপরিচালক গতকাল শনিবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার শোকে মুহ্যমান তারেক রহমানের সঙ্গে দুপুর ১টা ২১ মিনিট পর্যন্ত রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সাধারণত এ ধরনের বৈঠক শীর্ষ নেতাদের বাসভবনে বা গোপনীয় কোনো স্থানে হলেও, এবার তা সরাসরি দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়াকে ‘অপ্রত্যাশিত ও প্রথা-বহির্ভূত’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে।
এই ঘটনা নিছক একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং বেসামরিক–গোয়েন্দা কাঠামোর প্রচলিত রীতিনীতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। বিভিন্ন সূত্র মতে, একটি দায়িত্বপ্রাপ্ত গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে গিয়ে দলীয় প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ রাষ্ট্রের ক্ষমতা কাঠামোতে এক অস্বাভাবিক বার্তা বহন করে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মীর জাহান নামে একজন লিখেছেন, “রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী একজন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে গিয়ে কোনো নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন না, যদি না তিনি রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতার অংশ হন। তারেক রহমান না প্রধানমন্ত্রী, না রাষ্ট্রপ্রধান, না কোনো সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত। তাহলে এই সাক্ষাৎ কি ভবিষ্যৎ ক্ষমতার প্রতি আগাম আনুগত্যের ইঙ্গিত? নাকি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই ঠিক করে নিচ্ছে, কে ক্ষমতায় আসছে? এটা ব্যক্তি তারেক রহমানকে নিয়ে প্রশ্ন নয়, এটা রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন। আর এই প্রশ্নের উত্তর রাষ্ট্র না দিলে, মানুষ নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করবে।”
ওদিকে খবরটি নিজের ফেইসবুক পেইজে প্রচার দিয়ে সাবেক সেনাকর্তা কর্নেল মোস্তাফিজ লিখেছেন, ‘ অশনি সংকেত এখানেই—মনে হচ্ছে কেউ আর সরকারি প্রোটোকল মানছে না, কিংবা মানার প্রয়োজনও বোধ করছে না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা যদি এভাবে প্রকাশ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে তা শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলাই নয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’

