মানকাচর (অসম), ২৮ জুন (হি.স.): লাগাতার বৃষ্টির ফলে উজান থেকে নিম্ন অসমে ব্ৰহ্মপুত্ৰের জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। বন্যার জলে উজান ও মধ্য অসমের কয়েকটি জেলা প্লাবিত করে ফেলেছে।
এদিকে নিম্ন অসমের দক্ষিণ শালমারা মানকাচর জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র। নদের জলস্তর ৪৩ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে বইছে। ফলে মানকাচর জেলার ২ শতাধিক গ্ৰাম জলে প্লাবিত হয়েছে। বন্যার জলে নষ্ট হয়েছে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি। ধানের পাশাপাশি পাট, শাকসবজি জলের নীচে পঁচে নষ্ট হয়েছে। বন্যায় সর্বস্বান্ত হয়ে চরম দুৰ্ভোগের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ।
বন্যা দুৰ্গতদের গরু ছাগল ইত্যাদি গৃহপালিত পশুর সঙ্গে খোলা আকাশের নীচে বাস করতে হচ্ছে। প্ৰশাসনের তরফ থেকে এখন পৰ্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে এলাকার কিছু কিছু লোক যে যার নিজের সাধ্যমতো ছোট নৌকা, ভুটভুটিতে করে প্ৰয়োজনীয় যত্সামান্য জিনিসপত্ৰ নিয়ে নিরাপদ জায়গায় গিয়ে আশ্ৰয় নিচ্ছেন।
নিরন্তর বৃষ্টি, মহাবাহু ব্রহ্মপুত্রের বাড়তি জলে দক্ষিণ শালমারা মানকাচর জেলার মালির আলগা, পাটাকাটা, হাজিরহাট, মলাখোয়া, সুখচর, বরেরআলগা, গোটাবাড়ি, খোপাতিয়া সমেত বিভিন্ন গ্ৰাম জলের নীচে চলে গেছে।
এদিকে ধুবড়ি জেলার অধীনে দক্ষিণ শালমারা কেন্দ্ৰের ফকিরগঞ্জ, চালাকুরা, বিরসিং, আইরকাটা, জামাদারহাট, জরুয়া-বন্দিহানা অঞ্চলের শতাধিক গ্ৰাম ব্ৰহ্মপুত্ৰের বাড়তি জলে প্লাবিত। এলাকার প্ৰায় দুই লক্ষাধিক লোক বন্যায় ক্ষতিগ্ৰস্ত হয়েছেন। গৃহপালিত পশুগুলিকে পৰ্যন্ত খাদ্যের ব্যবস্থা করে দিতে পারছে না। বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় গিয়ে বহু কষ্টে দুৰ্ভোগের মধ্যে দিন রাত কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। একাংশ বন্যার্ত পাৰ্শ্ববৰ্তী রাজ্য মেঘালয়ের দিকে রওয়ানা হয়েছেন, আবার একাংশ জাতীয় সড়ক কিংবা বাঁধের ওপরে গিয়ে আশ্ৰয় নিয়েছেন।
মানকাচরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও বন্যা ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন সীমান্ত রাস্তার বেশ কয়েকটি জায়গায় ছোট ছোট নালার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই নালাগুলো দিয়ে বাংলাদেশের দিক থেকে জল হু হু করে ঢুকতে শুরু করেছে। মানকাচর এলাকার আন্তৰ্জাতিক সীমান্তের বেশির ভাগ পোস্টই জলের নীচে ডুবে গেছে। ফলে অঞ্চলে তীব্ৰ আতঙ্কের পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ভারত-বাংলাদেশের অসমের আলগা অঞ্চলে বন্যায় নষ্ট হওয়া সীমান্ত পথ এবং কাঁটাতারের বেড়া সংস্কারের কাজ এখন অবধি শেষ হয়নি। তার মধ্যে এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কে দিন রাত কাটাচ্ছেন এলাকার লোকজন। কিছুদিন আগে জেলা প্ৰশাসনের তত্পরতায় সিপিডব্লিউডির তত্ত্বাবধানে ফুটো বন্ধ করা হলেও যে হারে জল বাড়ছে তাতে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যে কোনও মুহূৰ্তে কাঁটাতারের বেড়া ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হিন্দুস্থান সমাচার / রিংকি / এসকেডি / অরবিন্দ

