রাজীব ঘোষ: পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের জন্য দেশি-বিদেশি শিল্পপতিরা মুখিয়ে রয়েছেন। সেখানে বাধা রয়েছে শুধু রাজনৈতিক হিংসা, পুলিশের পক্ষপাতদুষ্টতা। পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ বেশি করে নিয়ে আসার জন্য দেশের অন্যান্য সমস্ত রাজ্য চেষ্টা চালাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে খুব বেশি করে শিল্প আসা উচিত। তার জন্য শিল্পপতিরা তৈরি। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের জন্য তৈরি রয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গে ফের শিল্পায়ন শুরু হবে। এদিন ভার্চুয়াল জনসভায় বললেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নের দশা খুব একটা ভালো নয়। বিভিন্ন শিল্প সম্মেলনে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দিলেও খুব সামান্যই বিনিয়োগ হয়েছে। ফলে রাজ্যের যুবক-যুবতীরা কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে ছুটছেন। করোনা লকডাউন এরপর পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার যে কী প্রবল সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে দাবি বিরোধী রাজনৈতিক দলের।
রাজ্য সরকারের জমি নীতি শিল্পায়নে অন্যতম বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো চাষযোগ্য জমি শিল্পের জন্য কোন অবস্থাতেই নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তার জেরে বহু শিল্পপতি পিছিয়ে গিয়েছেন বলে দাবি শিল্পমহলের। তাদের কথায়, কোনো বিনিয়োগকারী সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জমি কেনার জটিলতায় যেতে চান না। পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্য যেখানে ভূমি সংস্কারের ফলে জমির মালিকানা ছোট ছোট ভাগে ভাগ হয়েছে সেখানে শিল্পপতির পক্ষে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে জমি কেনা অসম্ভব।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই সমস্যার সমাধান হিসাবে ল্যান্ড ব্যাংক তৈরি করেছিল। তবে সরকারের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী অবস্থানের জন্য কোনো শিল্পপতি আগ্রহ দেখাননি। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন হয়নি এ কথা মানতে নারাজ। বড় শিল্পের বদলে ছোট ও মাঝারি শিল্পে উত্সাহ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি সরকারের। পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেষ্টা সত্ত্বেও কেন বিনিয়োগ আসছেন না তার কারণ ব্যাখ্যা করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ বছর ধরে হিংসার রাজনীতি চলছে।
রাজনৈতিক দলের কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে। বিরোধীদের ন্যায় পাওয়ার জায়গা নেই। এইজন্য পশ্চিমবঙ্গে শিল্পপতিরা বিনিয়োগ করতে ভয় পান। আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকলে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের চেষ্টা হতে পারে। তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস রাজ্য হিংসা ছড়িয়ে রেখেছে। তাই মানুষের আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকেছে। এদিন বিজেপির ভার্চুয়াল জনসভায় এই মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

