টোকিও: করোনাভাইরাস বিপর্যয়কে দেশ থেকে দূর করতে নতুন আইন আনল জাপানের ইয়োশিহিদে সুগা সরকার। দেশবাসী যে বিনামূল্যেই করোনাভাইরাস রোধের প্রতিধেষক পাবেন, তাইই বলা হয়েছে গৃহীত আইনে। বুধবার সকালে সংসদের উচ্চকক্ষে সংশ্লিষ্ট আইন সংক্রান্ত বিলটি পাস হয়ে যায়। তার আগেই এই বিলটি লোয়ার হাউসে ধ্বনিভোটে পাস হয়ে গিয়েছে। বিলে স্পষ্ট লেখা আছে, করোনার ভ্যাকসিনের যাবতীয় খরচ বহন করবে সরকার। এই আইনের আওতায় টীকাকরণের যাবতীয় দায়িত্ব থাকবে প্রাদেশিক সরকারের কাঁধে। এমন একটা সময় এই আইন আসছে যখন জাপানে নতুন করে করোনার সংক্রমণ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। মহামারী শুরুর পর গত ২৮ নভেম্বর সে দেশে সবথেকে বেশি দৈনিক সংক্রমণ হয়।
২ হাজার ৫৭৭ জন একদিনে আক্রান্ত হয়েছিলেন। মহামারী শুরু পর থেকে এই প্রথম দৈনিক সংক্রমণে রেকর্ড গড়ল জাপান। দেশজুড়ে ভাইরাস সংক্রমণের সেকেন্ড শুরু হতেই ফের কড়া নিষেধাজ্ঞা বলবত্ করেছে সরকার। কয়েকদিন আগেই দেশের পর্যটনক্ষেত্রকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে প্রচার শুরু করেছিল সরকার। কিন্তু করোনার কাঁটায় আঞ্চলিক ভ্রমণ ফের নিষিদ্ধ হল জাপানে। রেস্তরাঁ ও বারগুলি যেন তাড়াতাড়ি বন্ধ করা হয়, সেই মর্মে নোটিস দেওা হয়েছে। দিনের যতটুকু সময় রেস্তারাঁ ও বার খোলা থাকবে ততটুকু সময় যেন কোভিড-১৯ গাইড লাইন সঠিকভাবে মেনে চলা হয় এবং সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং বজায় থাকে। মহামারী করোনা থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে অনেকটাই সফল হয়েছে জাপান। জি-৭ দেশগুলিরমধ্যে জাপানেই মৃত্যুর হার সর্বোনিম্ন। সেখানে করোনার বলি ২ হাজারের থেকে সামান্য কিছু বেশি। অন্যদিকে করোনার কবলে বিধ্বস্ত মার্কিন মুলুকে প্রতিদিনে অন্তত ১৫০০ লোকের প্রাণ যাচ্ছে।
এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সুগা এই বিল পাস প্রসঙ্গে বলেছেন, দেশের জনগণের টীকাকরণের দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। ২০২১-এর প্রথম দিকেই শুরু হবে টীকাকরণ প্রক্রিয়া। তবে যেসব বিদেশি নাগরিকরা কর্মসূত্রে জাপানে রয়েছেন তাঁরাও এই বিনামূল্যে টীকাকরণের সরকারি আওতায় আসছেন কি না তানিয়ে বিলে স্পষ্ট করে কিছুই বলা হয়নি। যখন সরকার জনগণের সার্বিক টীকাকরণের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তখন দেশবাসী হয়তো টীকার পক্ষে সমর্থন নাও জানাতে পারে। তবে এক জনসমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ৬৯ শতাংশ জাপানিজ এই টীকাকরণের সমর্থনে রয়েছেন।

