পঙ্কজকুমার দেব, হাফলং: যুদ্ধকালীন গতিতে হচ্ছে পাহাড় লাইনে রেলপথ পুনর্নির্মাণের কাজ। তবে নতুন অ্যালাইনমেন্টে হবে দাওটুহাজা- ফাইডিঙের মধ্যে ওয়াসড আউট হয়ে যাওয়া রেলপথ। অসমের নিউ হাফলং স্টেশনের অতীতের গরিমা ফিরিয়ে আনতে রেল বদ্ধপরিকর।
মঙ্গলবার দাওটুহাজার ধসবিধ্বস্ত লোকেশনে দাঁড়িয়ে এককথা জানান এন এফ রেলের লামডিং ডিভিশনের ডিআরএম যুগীন্দর সিং লাকরা। এদিন তিনি অসমের নিউ হাফলং স্টেশন পরিদর্শন করে ট্রলি করে দাওটুহাজা ফাইডিঙের মাঝখানে উপস্থিত হয়ে সামগ্রিক কাজের অগ্রগতির খোঁজ নেন। ডিআরএম লাকরা বলেন যে লামডিং-বদরপুর পাহাড় লাইন সচল করে তোলা নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ সজাগ রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড় বরাকের পাশাপাশি প্রতিবেশী ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং মণিপুরের সঙ্গে রেল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন।
তিনি বলেন আমাদের টার্গেট জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ। তথাপি সব নির্ভর করছে প্রকৃতির সদিচ্ছার উপর। ডিআরএম আরও বলেন যে ১৪ মে ডিমা হাসাও জেলায় ১৫০০ এমএম রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ের ষাট সত্তর বছরের ইতিহাসে এধরনের ভারি বৃষ্টিপাত হয় নি। উল্লেখ্য, দাওটুহাজা- ফাইডিঙের মধ্যে মোট চার জায়গায় ভূমিস্খলন হয়েছে। এরমধ্যে ৭৯ কিঃমিঃ লোকেশনে প্রায় একশো মিটার এলাকার ট্র্যাক পঞ্চাশ মিটার নীচে গিয়ে পড়ে।
এছাড়া ৭৮ কিঃমিঃ লোকেশনের ২৬০ নম্বর সেতুর মুখেও অনুরূপ ট্র্যাকের নীচের মাটি ওয়াসড হয়ে গেছে। ৭৮-৬ এবং ৭৮-৭ কিঃমিঃ রেলপথে ধস নেমে জলে কাঁদায় একাকার অবস্থা। এরপর ৭৭ কিঃমিঃতে প্রায় দেড়শো মিটার ট্র্যাকের নীচের মাটি পাথর ওয়াশড আউট হয়ে গেছে। রেল এই মুহূর্তে ৭৭ কিঃমিঃ এলাকায় বর্তমান ট্র্যাক থেকে প্রায় বারো মিটার সরিয়ে নিয়ে নতুন অ্যালাইনমেন্টে বসানো হবে ট্র্যাক।
কিন্তু মোদ্দা কথা হলো রেল এই মুহূর্তে পাহাড় কেটে মাটি ভরাট করেই ট্র্যাক বসানোর পরিকল্পনায় রয়েছে। এতে রেল কতটা সফল বলা মুশকিল।ঠিকাদারি সংস্থা ত্রিবেণী কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার মহেশ শর্মা বলেন ‘ পঁয়ত্রিশটি বিশাল আকৃতির মেশিন দিন-রাত সমান তালে কাজ করছে। তাছাড়া রেলের তরফে প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। তথাপি দাওটুহাজা- ফাইডিং এলাকার ট্র্যাক সচল করে তুলতে অন্তত একমাস সময় লাগবে। প্রটেকশনের জিও টেক্সটাইল ব্যবহার করে সোসেস বসানো হবে।

