শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

নবান্নে সাংবাদিক সন্মেলনে কেন্দ্র সরকার ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গ নিউজ ডেস্ক: নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক থেকে কেন্দ্র সরকার ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারের সাংবাদিক বৈঠক থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বঙ্গ সফর ও বীরভূমে গিয়ে তাঁর বক্তব্য প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করছি। তিনি কখনওই সংবিধানের শপথ নিয়ে বলতে পারেন না ৩৫টা আসন পাব, এরপর বাংলায় সরকার চলে যাবে।” সেই সঙ্গে সাম্প্রতিক একের পর এক প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্র সরকার ও বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

সেখানে তিনি বলেন, “রিপ্লাইটা আমার আগেই দেওয়া উচিত ছিল। গত ১৪ এপ্রিল ভারতবর্ষের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলায় বিজেপির মিটিং করতে এসেছিলেন। সেটা তিনি করতেই পারেন। এটা তাঁর স্বাধীনতা। তাঁর পার্টির মিটিংয়ে তিনি কী বলবেন, সেটা তাঁর বিষয়। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করছি। সংবিধানের অধিকার রক্ষার শপথ নিয়ে তিনি কখনওই বলতে পারেন না ৩৫টা আসন পাব আর পেলেই আর অপেক্ষা করতে হবে না। বাংলায় সরকার আর থাকবে না। সরকার চলে যাবে। এই কথার অর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চক্রান্ত করছেন। কোন আইনে তিনি নির্বাচিত সরকার ভাঙতে পারেন? যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভাঙতে চাইছে কেন্দ্র। সংবিধানও কি বদল হচ্ছে তাহলে? আমরা মনে করি এই কথা বলার পর তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে থাকার অধিকার নেই। আমরা সংবিধান মেনেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি’।

তিনি এও বলেন, ওরা জুডিশিয়ারি রিপ্লেস করবে, ও কনস্টিটিউশন রিপ্লেস করবে, ওরা ইতিহাস রিপ্লেস করবে, ওরা ল’ অ্যান্ড অর্ডারকে কিলার অ্যান্ড রুলার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করবে। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই এ কথা বলার কোনও অধিকার নেই তাঁর। এ কথা বলার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে তাঁর থাকবার কোনও অধিকার নেই। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। গণতান্ত্রিকভাবে।

ভোটের পর হিংসা নিয়ে বিজেপি বারবার কাঠগড়ায় তোলে রাজ্যের শাসক দলেকে । যা নিয়ে এদিন মমতা বলেন, “ভোটের পর হিংসার নাম করে, যদিও সে সময় নির্বাচন কমিশনের আওতায় ছিল সরকার, আমার আওতায় ছিল না, কয়েকটা ছোট ছোট ঘটনা ঘটেছিল। ভোটের পর ঘটেই থাকে সব জায়গায়। বাংলার বেলায় সব দোষ। আমি দায়িত্ব নিয়েছিলাম ৫ মে সম্ভবত। তার পর আর ঘটনা ঘটেনি। খুব কম ঘটেছে। তা সত্ত্বেও ১৫১টা সেন্ট্রাল টিম পাঠিয়েছে। আমার শ’য়ে শ’য়ে ছেলে, যাঁরা আমাদের পার্টির আসল গ্রাসরুট ওয়ার্কার, লিডার অব দ্য পার্টি মিথ্যা মামলায় তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে, মিথ্যা কথা বলে রোজ মিডিয়া ট্রায়াল করা হচ্ছে। পরিকল্পনা করে করা হচ্ছে।”

এদিন তিনি সরব হন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল নিয়ে । এবিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় কিছু হলেই, সরকার তাতে সরাসরি রেসপন্সিবল না হলেও, কখনও কখনও এমনও কিছু ঘটে, যা আমরা সমর্থন করি না। তারা কেন্দ্রীয় দল পাঠিয়ে দেয়। কমিশন পাঠায়। দিল্লি থেকে আসে। এমনকী আমাদের উন্নয়নমূলক কাজ থামিয়ে দিতে… ওরা ইতিমধ্যেই আমাদের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।”


এদিন ফের সরব হন রাজ্যের বকেয়া নিয়ে । এবিষয়ে বিজেপি ও কেন্দ্র সরকারকে এক যোগে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি বলেন, “বহু বিজেপি নেতাই তথ্য দিচ্ছে, ২০২৪ সালের পর বাংলাকে আর কোনও টাকা দেব না। কারণ লোকসভা ভোট ওটা। এটা কেন হবে? আমাদের মৌলিক অধিকার এটা। এটা জনাদেশ, এটা সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে পড়ে।জিএসটি, সবরকম কর বাংলা থেকে নেবে, সরকারের অধিকার নেই কর আদায়ের, আমাদের প্রাপ্যও আমাদের দেয় না। ১০০ দিনের কাজের লোকেদের পর্যন্ত টাকা দিচ্ছে না। কাল অমিত শাহ গেলেন মিটিং করতে। মিটিং করতেই পারেন। নেতারা থাকবেন ছাউনির এসির তলায়, আর কাঠফাটা রোদে বাইরে থেকে ক্ষমতা দেখাতে, লোকপ্রিয়তা দেখাতে জোর করে মানুষকে বসিয়ে রাখবেন। এমনকী যারা সভা ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন, তাঁদের যেতে দেওয়া হয়নি।”


মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে মমতা বলেন, “আমার মিটিংয়েও আপনারা লক্ষ্য করবেন, বুঝি তাঁর কষ্ট হচ্ছে বা কাজ আছে। রমজান মাস, রমজানের একটা সময় আছে, আমরা মিটিং করলেও তাঁদের ছেড়ে দিই। এরকম প্রতিটা ধর্মীয় উৎসবেই আমরা করি। আমরা মিটিংগুলিতে সবার জন্য হ্যাঙার করি। মানুষও তার তলায় বসতে পারেন। লু বইছে। প্রায় ১১ জন মারা গেলেন। ৬০০র উপর মানুষ আহত হলেন। কতটা চোখের জল ফেলেছেন? ক’টা কেন্দ্রীয় দল গিয়েছে। পরশুদিন ইউপিতে, আমি কোনও অপরাধকে সমর্থন করি না, তবে বিজেপিরাজে যা হচ্ছে। কেউ যদি জুডিশিয়ারি কাস্টডিতে থাকেন, সে যদি সাক্ষ্যর জন্য যায়, সেখানেও যেভাবে মেরে দেয়, তারপর ক’টা কেন্দ্রীয় দল গিয়েছে। কী চলছে দেশে? যাকে খুশি মেরে দেওয়া। যাকে খুশি কেটে ফেলো? যাকে খুশি এজেন্সি লাগিয়ে দাও? ”

এদিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধে মমতা বলেন, “সবার বিরুদ্ধে সিবিআই লাগিয়ে দিয়েছে। সকলের বিরুদ্ধে ইডি লাগিয়ে দিয়েছে। সবার বিরুদ্ধে কোনও না কোনও এজেন্সি। একটা চকোলেট বোমা ফাটলেও এনআইএ পাঠিয়ে দেয়। এনআইএ -এর কাজ কী? দেশকে সুরক্ষিত করা। কোনও ডিল করা এনআইএর কাজ নয়। আমরাও অনেক কিছু জানি। দিনে দিনে আরও তথ্য আসবে। আমরা গণতন্ত্র মানি, সৌজন্য মানি। এর জন্য কখনও কখনও আমরা সরব হলেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করি। এখানে আমরা সরব হই না।” এরপরই এদিন হুঁশিয়ারির সুর শোনান যায় তাঁর কথায় । তিনি বলেন, “তবে হামকো কোয়ি টকরায়েগা, ও চুর চুর হো যায়ে গা। খালি হামকো নেহি, অরবিন্দ কেজরীবালকো টকরায়া। বিজেপির বিরুদ্ধে এই মামলা নেই? ক’জন বিজেপিকে দেখেছে? বিজেপির সব সৎ। সবাই সন্ত?”


দুর্নীতি ইস্যুতে বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে ব্যাপম প্রসঙ্গ তোলেন মমতা। তিনি বলেন, “ব্যাপম কেসে মধ্য প্রদেশে কী হয়েছিল? চাকরির নামে, পরীক্ষার নামে? যারা তদন্ত করছিল, ৫০ জনকে মার্ডার করে দিয়েছে। কী ফল বেরোল? আজ বাংলাকে নিয়ে। কারও ঘরে একটা অ্যাডমিট কার্ড পেলেও। আমি তো সাত বছর সাংসদ ছিলাম। বহু মানুষই এরকম করে। আমি যখন ছিলাম, কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও ইন্টারভিউ হলে আমার কাছে আসত। এসে বলত, দিদি একটা অনুরোধ করে দাও না, যদি চাকরিটা হয়ে যায়। তো হাম ফরোয়ার্ড করতে থে মিনিস্টার কো। জাস্ট ফরোয়ার্ডিং দিস অ্যাপিল টু ইউ।আগে তো জনপ্রতিনিধি ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিত, পাসপোর্টে সই করতে হতো। জনপ্রতিনিধি শুধু বাংলারই খারাপ? ”

সিপিএম-বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, “যখন সিপিএমের সরকার ছিল, কিছু বলেছে। খালি তো বন্ধুত্ব করে চলে। আমাদের সরকারে আমরা চেষ্টা করি, ভাল কাজ হোক। দুর্নীতির ক্ষেত্রে বহু অফিশিয়ালের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের দলের অন্দরেও কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এলে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে বিজেপিকে বলতে চাইব, কার ইশারায় আমাদের লোককে এজেন্সি লোক হেনস্থা করছে? ও তো নিজেই একটা ডাকাত। যার ইশারায় অমিত শাহ চলেন, ওনার যে চিফ অ্যাডভাইজার এখানে আছেন, সব থেকে বড় ডাকাত তিনিই। শিক্ষায় যদি কোনও সমস্যা হয়, উনিই তা প্রথম করেন। বিচার চলছে, তাই এ নিয়ে আমি এর বেশি কিছু বলব না। যা বলার বললাম।

তিনি, একটা চিঠি পাঠিয়েছে ৪-৫ দিন আগে। অমিত শাহের মিটিংয়ে যে স্ট্র্যাটেজি হয়েছে তা তো আমরা জেনে গিয়েছি। বিজেপিকে কমিউনাল টেনশন বাড়াতে হবে, কাস্টিজম করতে হবে, যা করবে এজেন্সি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। আমি তো শুনলাম কেন্দ্র থেকে একটা বড় দল এসেছে। বাংলায় বসে আছে। তথ্য আমাদের কাছেও আসে। সব অফিসার বিজেপির সঙ্গে আছে, এমন নয়।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *