শিরোনাম
শুক্র. জানু ৩০, ২০২৬

নাচ-গান, সিঁদুর খেলা সবই এবার ‘ভার্চুয়াল’, মন খারাপ এডিনবার্গের বাঙালিদের

সুমনা আদক : অতিমারীর মধ্যেও, শান্ত সময়ে শিশির ভোরে, মহালয়ায় বীরেন্দ্র ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনীর সুর জানান দেয় ‘মা আসছেন, ‘ দিনে দিনে সময়ের মুহূর্তগুলো কখনই বা শারদআনন্দে ডুবদেয় বোঝাই যায় না, দেখতে দেখতে স্বদেশের সীমানা ছাড়িয়ে শারদ আনন্দের রেশটা পৌঁছে যায় প্রবাসে।

এতদিন এমনটাই চলছিল কিন্তু ২০২০ এই উলোটপুরানে পাল্টে গেল সময়টা। কেনাকাটা, আনন্দ আড্ডা, প্যান্ডেল হপিং বলতে গেলে সবই বন্ধ এবারে। স্বদেশের পাশাপাশি বিদেশেও হুজুগটা এবারে অনেক কম। মহামারীর কালোছায়া পড়েছে এডিনবার্গ এর শারদ আনন্দেও।

এই তো সেদিনের কথা, ফেসবুক পেজে গত বছরের এডিনবার্গের ‘সাবাশ’পুজো কমিটির উদ্যোগে পুজোর দিনের স্মৃতিগুলো এখনো যেন সতেজ রয়েছে। সবাইকে বেজায় খুশি দেখছিলো আগের বারে। ষষ্ঠীর বোধন থেকে অষ্টমীর অঞ্জলি, সন্ধি পুজা, কুমারী পূজা হয়ে মায়ের বিদায় বেলায় সিঁদুরে রাঙা হওয়া, প্রাসাদ বিতরণ হয়ে বারবেলায় একসাথে পাতপেরে বাঙালি খাবার খাওয়া। এডিনবার্গ এর এমন দিনগুলো মনে করাত কলকাতার কথা।

পুজো আনন্দ আড্ডা যাকে বলে বাঙালির বৈঠকখানা। ষষ্টি থেকে নবমীর প্রতিটা সন্ধ্যা ছিলো নাটক নাচে গানে কবিতায় একেবারে জমজমাট। সবাই ভেবেছিলো এরপরের পুজোটা হবে দুর্দান্ত। কিন্ত এমনটা যে হয়ে যাবে কেউ ভাবতেই পারেনি কখনো।

২০২০ এই উলোটপুরানে মুহূর্তের মধ্যেই স্বদেশে বিদেশে কেমন পাল্টে গেল সময়টা, এবারের শারদোত্‍সবের বেরঙিন আমেজটাই ছড়িয়ে পড়লো চারিদিকে। এডিনবার্গের বাঙালিদের কাছেও এবারের পুজোটা যেন স্বপ্নভঙ্গের মতো। না, এবারে এডিনবার্গের মাটিতে উমা আসছেন না। মায়ের বোধন অঞ্জলি, সন্ধি পূজা কুমারী পুজো,গল্প , আনন্দ, স্টাইল ফটোশেসন, খাওয়া দাওয়া সিঁদুর খেলা এবারে সবই বন্ধ এখানে। ফেলে আসা দিনগুলো বার বার মনে পরে, এক এক করে কভিড গ্রাস করে গেল পৃথিবীর সুখের দিনগুলোকে।

দেখতে দেখতে বছরটাও শেষের দিকে বেজায় মনখারাপের সময় এটা। একটু হলেও আনন্দ খুঁজে নিতে অনলাইন এ চারিদিকেই চলছে সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এডিনবার্গ ও ব্যাতিক্রম নয়। এডিনবার্গ এর ‘সাবাশ ‘ কমিটির পুজোতে এবছর সমস্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে অনলাইনের মাধ্যমে।

ইতিমধ্যে ষষ্ঠীর রাত থেকেই শুরু হয়ে গেছে অনুষ্ঠান পর্ব। বিগত একমাস চলছিল তারই মহড়া। কমিটির সদস্যরা বেজায় খুশি সকল কে আনন্দ দিতে পেরে। এভাবেই বা কম কিসের। এত বছরের জীবন্ত স্মৃতিগুলোর ভিড়ে ‘সাবশ’ কমিটির দুর্গা পুজোটা একটু অন্যরকম হলেও মনটা বার বার বলেছে ‘এবারটা যাই হোক, আসছে বছর আবার হবে ‘।

ছবি সৌজন্যে : এডিনবার্গ ‘সাবাশ ‘ দুর্গা পুজো কমিটি

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *