শিরোনাম
বুধ. ফেব্রু ১৮, ২০২৬

নৌকায় ভোট দিলে কেন্দ্রে আসবেন, না হয় অপমানিত হবেন

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। তার অনুসারীরা সাধারণ ভোটার ও প্রতিদ্বন্দ্বী আলতাফ হোসেন খানের (ঘোড়া) এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। তাদের সাফ কথা, ‘নৌকায় ভোট দিলে কেন্দ্রে আসবেন। না হয় অপমানিত হবেন’, জানালেন আলতাফ।

এ ছাড়া তার নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর ও প্রচারকাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

এসব ঘটনায় বুধবার (২০ জুলাই) দুপুরে প্রার্থী আলতাফ ঢাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট ১১টি কার্যালয়েও দাখিল করা হয়। একই সময় সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ও বহিরাগতদের দাপট রোধের দাবিতে তিনি (আলতাফ) সংবাদ সম্মেলন করেন। জেলা শহরের মাদাম এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থী নিজেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। এ সময় তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ চান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৪ জানুয়ারি দিঘলীর ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন মারা যান। এ কারণে ২৭ জুলাই সেখানে উপনির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে নৌকার প্রার্থী সালাহ উদ্দিনের পক্ষে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা, সদর ও চন্দ্রগঞ্জ থানার সিনিয়র নেতারা গণসংযোগ ও প্রচারণায় নেমেছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) সালাহ উদ্দিনের পক্ষে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু গণসংযোগ করেছেন। বুধবারও (২০ জুলাই) লক্ষ্মীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ আহম্মদ পাটওয়ারীসহ একদল বহিরাগত নেতাকর্মী প্রচারণায় অংশ নেন।

আলতাফের অভিযোগে বলা হয়, সালাহ উদ্দিন জাবেদ দলীয় ৫০-৬০ জন ক্যাডার নিয়ে মঙ্গলবার তার দিঘলী বাজারে নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছেন। এ সময় কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর ও দুই কর্মীকে মারধর করা হয়। এর আগে মাইক ভাঙচুর ও প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়। রাব্বি, বাবুল, তাজুল ইসলাম, রাকিব হোসেন মুন্না, মাকসুদুল করিম মামুন, আলাউদ্দিন, সবু, আবদুল কাদের, জুয়েল রানা, জসিম, সাইফুল ইসলাম রাফিসহ সহযোগীরা সাধারণ ভোটার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের বাড়িতে যাচ্ছেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের তারা হুমকি দিচ্ছেন। তাদের সাফ কথা, ‘নৌকায় ভোট দিলে কেন্দ্রে আসবেন। না হয় অপমান হবেন। ’ নির্বাচনে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের আহ্বান জানান আলতাফ।

আলতাফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রার্থী জাবেদ ও তার ক্যাডারদের ভয়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পৌরসভা ও সদরের অন্তত ১০টি ইউনিয়ন থেকে বহিরাগত লোকজন প্রতিদিনই তার পক্ষে প্রচারণা করছেন। নৌকায় ভোট না দিলে অপমান হতে হবে বলে তারা হুমকি দিচ্ছে। অভিযোগগুলো লিখিতভাবে জানিয়েছি। ‘

মন্তব্য জানতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জাবেদের মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি কেটে দেন। এ সময় ফোনে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি। তবে তার ভাগ্নে পরিচয়দানকারী কৃষক লীগ নেতা মাকসুদুল করিম মামুন দাবি করেছেন, অভিযোগগুলো বানোয়াট। নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতেই এমনটি করা হচ্ছে।

সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ইউপি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার স্বপন কুমার ভৌমিক বলেন, ‘এ পর্যন্ত প্রার্থী আলতাফ হোসেন খানের তিনটি আলাদা অভিযোগ পেয়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দেওয়া হয়েছে। ‘

এ ব্যাপারে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন। অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *