কলকাতা ব্যুরো: অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ইন্ডিয়ায় প্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা বাংলাদেশ পুলিশের এক কর্মকর্তাকে বিচার বিভাগীয় জেলহাজতে রাখা হয়েছে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিনি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগর থানা এলাকার অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে ইন্ডিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় হাকিমপুর সীমান্ত চৌকিতে প্রহরারত বিএসএফের ১৪৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তাকে আটক করেন।
স্বরূপনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার করা ব্যক্তির নাম মো. আরিফুজ্জামান। তার বাবার নাম আফসার আলী আহমেদ, তার বাড়ি নীলফামারী জেলার শাহীপাড়া এলাকায়। ৪৮ বছর বয়সি আরিফুজ্জামান রংপুর মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসিপি) পদে কর্মরত ছিলেন।
শনিবার রাতে আরিফুজ্জামানকে আটকের পর তাকে স্বরূপনগর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে সরকারিভাবে রবিবার তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত বেশ কিছু পরিচয়পত্র, সরকারি নথি দেখে ইন্ডিয়ার পুলিশ এক প্রকার নিশ্চিত হয় যে, তিনি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।
ইন্ডিয়ার সংবাদমাধ্যম লিখেছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে পড়ে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পরই গা ঢাকা দিয়েছিলেন আরিফুজ্জামান। নিজের কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে সম্প্রতি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বাংলাদেশের সাতক্ষীরা এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন তিনি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে এখনো কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৪ (এ) ফরেনার্স আইন এবং ইন্ডিয়ান পাসপোর্ট আইনে (১২ ধারা) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার (২৪ আগস্ট) কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের (জেলহাজতে) নির্দেশ দেন অতিরিক্ত মুখ্য বিচারক। তবে শনিবার সন্ধ্যায় তাকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই তার পরিচয় নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা তৈরি হয়। বিএসএফ ও স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকেও প্রচণ্ড গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়। তদন্তের স্বার্থে স্থানীয় পুলিশ বাংলাদেশি এই পুলিশ কর্মকর্তার নাম ও পরিচয় গোপন রাখে। যদিও পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ইন্ডিয়ান পুলিশের হাতে বাংলাদেশ পুলিশের এক কর্মকর্তার গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিককালে দেখা যায়নি।
এদিকে, সীমান্ত পেরিয়ে ওই বাংলাদেশি নাগরিকের ইন্ডিয়ায় অনুপ্রবেশ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্ক। রবিবার কলকাতার মেয়র ও পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম কেন্দ্রকে নিশানা করে অভিযোগ করেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিএসএফ অনুপ্রবেশকারীদের ইন্ডিয়ায় ঢোকাচ্ছে, আবার তারাই গ্রেপ্তার করছে।” “বিএসএফ যদি তাদের না ঢোকায়, তবে তারা প্রবেশ করছে কীভাবে? নয় তো অমিত শাহ কিছুতেই বিএসএফকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। সে ক্ষেত্রে তার পদত্যাগ করা উচিত,” বলেন তিনি।