পশ্চিম মেদিনীপুর:- সোমবার রাত থেকে একটানা প্রবল বর্ষণের জেরে পশ্চিম মেদিনীপুরের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং , পিংলা , ডেবরা , নারায়ণগড় , দাঁতন , মেদিনীপুর সদর , শালবনি,খড়গপুর গ্রামীণ , ঘাটাল , দাসপুর , চন্দ্রকোনা ব্লকের ৬ লক্ষ মানুষ বন্যার কবলে ।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টির জেরে জেলায় মাটির বাড়ি ভেঙেছে ৮২৬৭৫ টি । ৫২৯ টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। এই শিবির গুলিতে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৫ হাজার মানুষ। বন্যা কবলিত এলকায় যাতায়াতের জন্য ৭০ টি সরকারি নৌকা নামানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৫ হাজার ত্রিপল বিলি করা হয়েছে। আরো পাঠানো হচ্ছে।
সবথেকে খারাপ অবস্থা সবং এর। কেলেঘাই , কপালেশ্বরী , চন্ডিয়া নদীর বাঁধ ভেঙেছিল গত সপ্তাহে। বৃষ্টি না থামায় সেই বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করতে পারছে না সেচ দপ্তর। এর ওপর একনাগাড়ে বৃষ্টিতে নদীর জল আরো ফুলে ফেঁপে উঠে গ্রাম গুলিতে ঢুকছে।
মঙ্গলবার রাজ্যের মন্ত্রী ডাক্তার মানস ভুঁইয়া , তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অমল পান্ডা , পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হাজরা বিবি , কর্মাধক্ষ্য আবু কালাম বক্স কে নিয়ে সবং এর বন্যা পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের মহারাজরা। সেই সঙ্গে তারা বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিলি করেন। ফিরে এসে তাঁরা বিডিও অফিসে বৈঠক করেন।
রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী ডাক্তার মানস ভূইঁয়া জানান , গত ১২ বছরে এরকম অবস্থা হয়নি। সবং এর পরিস্থিতি তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে জানিয়েছেন। এছাড়াও একটানা বৃষ্টির ফলে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ব্লক এর বেশ কিছু এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য সড়কের উপর দিয়ে জল বইছে। তেমনি শালবনি ব্লকের গড়মাল থেকে মেদিনীপুর যাওয়ার পিচ রাস্তার উপর দিয়ে প্রবল স্রোতে জল বইছে। যার ফলে গড়মালের সাথে মেদিনীপুর শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে । চরম সমস্যায় পড়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।একটানা বৃষ্টির ফলে সবজি ও ধান চাষের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ।করোনা যেভাবে মানুষের ক্ষতি করতে পারে নি।কিন্তু এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় তার থেকে অনেক বেশি মানুষের ক্ষতি করছে বলে দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা জানান।

