গুয়াহাটি: করোনা ভাইরাসের আবহে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ব্রহ্মপুত্র নদের ঘাটে ঘাটে নিয়ম মেনে চলেছে পিতৃতর্পণ ক্রিয়া। বৃহস্পতিবার হাটু জলে নেমে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করেছেন বহুজন। তবে করোনা ভাইরাসের জন্য অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর রাস্তায় বা নদের পারে ভিড় ছিল বহু কম। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া কোভিড প্রটোকল ভেঙেও অনেকে তর্পণ করেছেন আজ। মানা হয়নি সামাজিক দূরত্ব এবং পরা হয়নি মুখাবরণও।
এদিকে মানুষের সুরক্ষা ও সামাজিক দূরত্ব পালন করার জন্য মহানগরের প্রতিটি ঘাটে রিভার পুলিশ, দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর দল মোতায়েন রাখাছিল। যাতে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। তবে এত নিয়ম সত্ত্বেও মানুষের সচেতনতা ছিল না এতটুকু। অনেকেই মুখে মাস্ক না পরে, সামাজিক দূরত্ব না মেনে রাস্তায় বা নদীর ঘাটে অবস্থান করেছেন। তর্পণের ঘাটে অবশ্য ছিল বেশ ভিড়। পুলিশে মানুষকে বার বার সতর্ক করে দিলেও অনেকেই তাতে তেমন আমল দেননি।
মহালয়া তথা দেবীপক্ষের সূচনাতেই শারদোত্সবের শুরু হয়ে যায়। শারদীয় উত্সব শুরুর মুহূর্তে হিন্দুরা স্মরণ করেন তাঁদের পরলোকপ্রাপ্ত পিতৃপুরুষদের। তাঁদের বিশ্বাস, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের প্রতিপদ থেকে আশ্বিন কৃষ্ণ-পঞ্চদশী অর্থাত্ মহালয়া পর্যন্ত পূর্বপুরুষের আত্মা ফিরে আসে পরিজনদের কাছে। তাঁরা অপেক্ষা করেন উত্তরপুরুষের হাতে তিলজল গ্রহণ করার। এই বিশ্বাস চলে আসছে ভারতীয় সংস্কৃতির পরম্পরায়।
মহালয়ার দিন দেবীপক্ষের সূচনার এই তিথিতে করা হয় তর্পণ। এছাড়াও তর্পণে বিশ্বশান্তির মন্ত্রও উচ্চারিত হয়। তাই মহালয়া মানেই পুজোর শুরু। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুনে শুরু হয় মানুষের পথ চলা। হাজার হাজার মানুষ পথে নেমে চলে যান ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে।
মহালয়ার দিনই দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হয়। এবার মল মাস পড়ে যাওয়ার ফলে মহালয়ার একমাস পর অর্থাত্ ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হবে দুর্গাপূজা। ব্যতিক্রমী এ বছর চক্ষুদান পরম্পরা পালন করা হয়নি। দেবযানী / এসকেডি

