ফ্রান্সে মুসলিমদের পবিত্র পয়গম্বর হযরত মুহাম্মদ সা.-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ নিয়ে সেদেশের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সওয়ার করার পর বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ ধ্বনিত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন্ মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকরা যেমন ফরাসি পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছেন তেমনি বিভিন্ন দেশপ্রধানরাও তাতে শামিল হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান ফরাসি প্রেসিডেন্টকে মানসিক রোগী অবিহিত করার পর সরব হল লিবিয়া সরকার। এবার মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে বিশ্ব মুসলিমের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাল লিবিয়ার জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার। মহানবী হযরত মুহাম্মদকে সা.-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে লিবিয়া। দাবি করেছে, এর জন্য ফরাসি প্রেসিডেন্টকে ক্ষমা চাইতে হবে।
সোমবার লিবিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুহাম্মাদ আল-কাবলাবি বলেছেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে ম্যাক্রোঁ এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। ইসলাম অবমাননাকর বক্তব্যে তার প্রতি মানুষের ঘৃণা বেড়েছে।
ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের পক্ষ থেকে ২০১৮ সালে দেয়া এক রায়ের কথা উল্লেখ করে লিবিয়ার এই মুখপাত্র বলেন, ইসলামের নবী (সা.)-এর অবমাননা বাক স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে না।
উসকানিমূলক বক্তব্য প্রত্যাহার করে বিশ্ব মুসলিমের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য ম্যাক্রোঁর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।গত বুধবার খুন হওয়া ফরাসি শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটিকে সম্মান জানাতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, ইসলাম ধর্ম ও বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শন বন্ধ করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এরপরই ফ্রান্সের মুসলিমরা ম্যাঁক্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, তাদের ধর্মকে দমন করা ও ইসলামফোবিয়াকে বৈধতা দিতে চেষ্টা করছেন তিনি।
ম্যাঁক্রোর এমন বিতর্কিত মন্তব্যের পরই তুরস্ক এবং পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশ নিন্দা জানিয়েছে। সঙ্গতকারণেই তাই তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিত্সা দরকার।

