শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

ফিরে দেখা ২০২০ : পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

কাকলি, কলকাতা: করোনা মহামারীর আতঙ্কের মধ্যে শেষ হল ২০২০। এবছরের শুরু থেকে ঘটে গিয়েছে একের পর এক ঘটনা। তাতে যেমন আছে রাজনৈতিক লড়াই, নেতাদের দল বদল । তেমনই এই বছরটিতে আমরা হারালাম একের পর এক তারকাকে। বছর শেষে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলির একঝলক।

জানুয়ারি

৮- কেন্দ্রের বিরোধিতায় বাম-কংগ্রেসের ডাকে শিল্প ধর্মঘট : কর্মসংস্থান, কেন্দ্রীয় সরকারের অমানবিক নীতি, নূন্যতম মজুরির দাবি, বেসরকারিকরণের প্রতিবাদ-সহ একাধিক ইসু্যতে দেশজুড়ে ৪৮ ঘন্টার সাধারণ ধর্মঘট ডেকেছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন| ৪৮ ঘন্টার সাধারণ ধর্মঘটের প্রথম দিন, মঙ্গলবার মিশ্র প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে। ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘটের আজ মঙ্গলবার প্রথমদিন । বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া এই ধর্মঘটে স্বাভাবিক শহর কলকাতা।

১১- পশ্চিমবঙ্গে উত্‍পাদন শিল্পে সোনার দিন ফেরাতে হবে, শিল্পপতিদের কাছে আহ্বান প্রধানমন্ত্রী মোদীর : পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে শিল্পপতিদের সম্মেলনে পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই এলাকার শিল্পের ব্যপক সম্ভাবনা সম্পর্কে আশাবাদী বলে জানান তিনি। ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের ৯৫তম প্লেনারি অধিবেশনে শিল্পপতিদের আহ্বান জানান, পশ্চিমবঙ্গে উত্‍পাদন শিল্পে গৌরবময় দিন ফেরাতে হবে।

ফেব্রুয়ারি

১৮- অভিনেতা তাপস পাল (৬২) প্রয়াত : মুম্বইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ তাপস পাল । ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে কৃষ্ণনগর থেকে লোকসভার সাংসদ হয়েছিলেন তাপস পাল। তবে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার বেশিদূর এগোয়নি। ২০১৬ সালে রোজভ্যালি চিটফান্ড কান্ডে নাম জড়ায় অভিনেতার। এর পরেই আসে পুলিশের হাতে গ্রেফতারি, তারপর ভুবনেশ্বরে হাজতবাস। তাপস পালের গগনচুম্বী কেরিয়ার তখন সায়াহ্নে। মাত্র বাইশ বছর বয়সে ১৯৮০ সালে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর প্রথম ছবি, তরুণ মজুমদার পরিচালিত ‘দাদার কীর্তি’। বক্স অফিসে প্রবলভাবে সফল সেই ছবি রাতারাতি সুপারস্টার করে দেয় তাঁকে। এর পর একের পর এক সুপারহিট ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় মাতিয়ে রাখেন দর্শকদের। ‘সাহেব’, ‘ভালবাসা ভালবাসা’, ‘গুরুদক্ষিণা’, ‘মায়া মমতা’, ‘সুরের ভুবনে’, ‘সমাপ্তি’, ‘উত্তরা’, ইত্যাদি ছবি তাঁকে তুলে দেয় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ‘সাহেব’ ছবির জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। এছাড়াও বলিউড সুপারস্টার মাধুরী দীক্ষিতের প্রথম ছবি ‘অবোধ’-এ তাঁর নায়ক ছিলেন তাপস।

২২- প্রয়াত হলেন প্রাক্তন সাংসদ ও বর্ষীয়ান ঐতিহাসিক কৃষ্ণা বসু (৯০) : বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯।দীর্ঘদিন ধরে বার্ধত্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে তাঁকে ই এম বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয়। শুক্রবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। শনিবার সকালে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের সদস্যর। সমাজ সংস্কারক, বিখ্যাত করি ও সাহসী শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন সবাই।’ ১৯৩০ সালের ২৬ ডিসেম্বর বর্তমান বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ করেন কৃষ্ণা বসু। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেন। তারপর শিক্ষকতা শুরু করেন। প্রায় ৪০ বছর সিটি কলেজে পড়িয়েছেন তিনি। ইংরেজি বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি সিটি কলেজের অধ্যক্ষাও ছিলেন।রাজনীতির দুনিয়াতেও পা রেখেছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জেতেন। ১৯৯৮ সালে একই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে দাঁড়ান বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। সেবারও তিনি জেতেন। ১৯৯৯ সালে ফের লোকসভা ভোটে জেতেন। বিদেশ মন্ত্রকের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারপার্সনও ছিলেন তিনি। একাধিক বইও লিখেছিলেন। ‘প্রসঙ্গ সুভাষচন্দ্র’, ‘এমিলি অ্যান্ড সুভাষ’-র মতো বইয়ের লেখিকা ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভাইপো শিশির বসুর স্ত্রী।

মার্চ

১১- প্রয়াত হলেন প্রাক্তন অভিনেতা সন্তু মুখোপাধ্যায় (৬৯): নিজের গল্ফগ্রিনের বাড়িতে সন্ধ্যে ৭.৩০ নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দুরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগছিলেন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা। কিছুদিন আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। ১৯৭৫ সালে তাঁর পর্দার অভিনয় শুরু। পর্দার অভিনয়ের পাশাপাশি নিয়মিত থিয়েটার করেছেন। আশি ও নব্বই দশকে সন্তু মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠের রবীন্দ্রসঙ্গীত ছিল শ্রোতাদের অত্যন্ত প্রিয়। পারফরমিং আর্টসের প্রতি অদম্য টান ছিল তাঁর ছোটবেলা থেকেই। গোপাল ভট্টাচার্যের কাছে এক সময় নাচও শিখেছিলেন তিনি।

২০ – প্রয়াত হলেন কিংবদন্তী ফুটবলার প্রদীপ ব্যানার্জী (৮৪)। প্রয়াত হলেন প্রখ্যাত প্রাক্তন ফুটবলার ও প্রশিক্ষক প্রদীপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কলকাতা ময়দানের কোনও বড় ক্লাবে কখনও খেলেননি। তা স্তত্বেও জাতীয় দলের হয়ে দুরন্ত খেলার সুবাদে ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তীতে পরিণত হন পি কে। ১৯৫৫ সালে ঢাকায় চারদেশীয় টুর্নামেন্টে ভারতের জার্সিতে প্রথমবার আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। দীর্ঘ ১২ বছর জাতীয় দলের হয়ে চুটিয়ে ফুলবল খেলা পি কে ভারতের হয়ে অংশ নিয়েছেন ১৯৫৬ মেলবোর্ন ও ১৯৬০ রোম অলিম্পিকে। ১৯৬১ সালে অর্জুন পুরস্কারে ভূষিত হন প্রবাদপ্রতীম এই ফুটবলার তথা কোচ। ১৯৯০ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিক্সের বিচারে বিংশ শতকের সেরা ভারতীয় ফুটবলার নির্বাচিত হন পিকে। ২০০৪ সালে ফিফা তাদের সর্বোচ্চ সম্মান অর্ডার অফ মেরিট প্রদান করে প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনিই এশিয়ার একমাত্র ফুটবলার, যাঁকে ইন্টারন্যাশনাল ফেয়ার প্লে পুরস্কার প্রদান করে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক সংস্থা।

২৩- দমদমের বাসিন্দা, ৫৭ বছরের এক রেলকর্মী পশ্চিমবঙ্গে প্রথম করোনায় মারা গেলেন : এই রাজ্যে করোনাভাইরাসের প্রথম মৃত্যু ঘটল সোমবার দুপুরে। সল্টলেকের আমরি হাসপাতালে মৃত্যু হল ৫৭ বছরের প্রৌঢ়ের। গত শনিবার তাঁর করোনাভাইরাস হয়েছে বলে জানা যায়। দক্ষিণ দমদমের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি বেশ কিছুদিন ধরেই সল্টলেকের আমরি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। প্রথমে তাঁর বিদেশ সফর বা তাঁর কোনও আত্মীয়ের বিদেশ থেকে ফেরার তথ্য অস্বীকার করেছিলেন ওই ব্যক্তি। ফলে তাঁর করোনাভাইরাস হয়েছে বলে প্রথমে সন্দেহ করেননি চিকিত্সকরা। পরে অবশ্য তাঁর করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে।

এপ্রিল

৩০- প্রয়াত হলেন কিংবদন্তী ফুটবলার চুনী গোস্বামী (৮২) : শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্রাক্তন ফুটবলার।

শেষ কয়েক বছর ধরে অসুস্থ ছিলেন ভারতীয় ফুটবলের এই নক্ষত্র। হাসপাতাল সূত্রে খবর, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন চুনী গোস্বামী। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রীড়া জগত্‍ সহ সর্বস্তরে। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। ১৯৬২ সালে চুনী গোস্বামীর অধিনায়কত্বেই এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছিল ভারতীয় ফুটবল দল। স্ট্রাইকার হিসেবে ৫০টি আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। এছাড়াও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচও খেলেছেন। ঘরোয়া লিগে মোহনবাগানের হয়ে সবচেয়ে সফল তিনি। ১৯৬৩ সালে অর্জুন পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে পদ্মশ্রী এবং ২০০৫ সালে মোহনবাগান রত্ন পুরস্কারে সম্মানিত হন চুনী গোস্বামী।

মে

১৯-বঙ্গোপসাগরে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্পান রাজ্যে বড় আঘাত হানে : সর্বগ্রাসী ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’র তান্ডবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র উপকূলবর্তী বিভিন্ন অঞ্চল। এলাকার পর এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। লাখ লাখ মানুষকে সরিয়ে নিয়েও মৃতু্য এড়ানো যায়নি। ১৭৩৭ সালের পর আবার এমন ভয়ংকর ঝড় দেখল পশ্চিমবঙ্গবাসী। ১৯ মে বুধবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন উপকূলে আছড়ে পড়ে আম্পান। কলকাতায় ঘণ্টায় প্রায় ১৩৩ কিলোমিটার বেগে বয়ে যায় ঝড়ো হাওয়া। এর জেরে লন্ডভন্ড হয় কলকাতাসহ দুই ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর। হাওড়া, হুগলি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরেরও হাজার হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি এবং গাছপালা ভেঙেছে।

২২- পশ্চিমবঙ্গের আমফান বিধ্বস্ত এলাকা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী : আম্পানের পর বিধ্বস্ত পশ্চিমবঙ্গের কিয়দংশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের এহেন পরিস্থিতি দেখে রাজ্য সরকারের পাশে থাকার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড রাজ্যের পাশে দাঁড়িয়ে হাজার কোটির অর্থ সাহায্য়ের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সুপার সাইক্লোনে মৃতদের পরিজনদের ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মোদী।

জুন

আমফান বিধ্বস্ত সুন্দরবন নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : আমফান বিধ্বস্ত সুন্দরবনের পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদল বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী, সূর্যকান্ত মিশ্র। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, জয়প্রকাশ মজুমদার। কংগ্রেসের প্রদীপ ভট্টাচার্য। সর্বদল বৈঠকে আমফান মোকাবিলায় সব দলের নেতাদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। এই কমিটিতে রয়েছেন তৃণমূলের পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়, সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী, কংগ্রেসের প্রদীপ ভট্টাচার্য। অন্যদিকে, আমফানে ত্রাণ দুর্নীতি প্রসঙ্গে মমতার কড়া বার্তা, “আমফানে ত্রাণ নিয়ে বঞ্চনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না”।

জুলাই

১৩ – বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু : সোমবার সকালে উদ্ধার হয় গত বছর বিজেপিতে যোগ দেওয়া উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের সিপিএম বিধায়কের ঝুলন্ত মৃতদেহ। তাঁর মৃত্যুকে খুন বলে দাবি করেছেন তাঁর পরিবার ও বিজেপি । যে ভাবে গলার পাশাপাশি একটি হাতও দড়িতে বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল মুখের সামনে থেকে, সেই ভিডিয়ো দেখিয়ে বিজেপির দাবি, দেবেন্দ্রনাথ রায়কে খুন করে ঝুলিয়ে দেওযা হয়েছে, যাতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া যায়- এই দাবি বিজেপির রাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় স্তর পর্যন্ত সব নেতার। ঘটনার পর থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা উত্তর দিনাজপুর জেলা। ঘটনার পরের দিন উত্তরবঙ্গে ১২ ঘণ্টা বন্ধ পালন করে বিজেপি ।

৩০- প্রয়াত বরিষ্ঠ রাজনীতিক সোমেন মিত্র (৭৯): প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। দীর্ঘদিন ধরেই হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন সোমেনবাবু। ষাট এবং সত্তরের দশকে প্রভাবশালী এবং আগুনে রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর উত্থান। ছাত্র রাজনীতির হাত ধরে ষাটের দশকের শেষভাগে যোগ দিয়েছিলেন কংগ্রেসে। ১৯৭২ সালে শিয়ালদহ বিধানসভা আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতির ‘ছোড়দা’ সোমেনবাবু তিনবারের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হয়েছিলেন। প্রথম দফায় ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল, দ্বিতীয় দফায় ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষপদে ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ফের তাঁকে রাজ্যে কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। ঘোর দুর্দিনেও কংগ্রেসে থাকা সোমেনবাবু ২০০৮ সালে দল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তৈরি করেছিলেন নিজের দল ‘প্রগতিশীল ইন্দিরা কংগ্রেস’। পরে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সেই দল মিশিয়ে দিয়েছিলেন এবং ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূলে গিয়েছিলেন। ঘাসফুল টিকিটে দাঁড়িয়ে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে জয়লাভও করেছিলেন। ২০১৪ সালে তৃণমূল ছেড়ে আবারও নিজের ঘরে ফিরে এসেছিলে। তারপর থেকে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কংগ্রেসেই ছিলেন। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট তৈরির অন্যতম স্থপতিকার ছিলেন তিনি।

আগস্ট

২- ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শতবর্ষে ভাবাবেগকে টুইটারে কুর্নিশ জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী : শতবর্ষের ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশের সব থেকে প্রাচীন ক্লাবগুলির মধ্যে অন্যতম ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে এমন শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ক্লাব, ফুটবলার ও সমর্থকদের আলাদা করে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর টুইট, “ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ১০০ বছর পূর্তিতে ক্লাবের ফুটবলার, সদস্য এবং অবশ্যই সমর্থকদের জন্য শুভকামনা রইল। এই শুভ মুহূর্ত ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্র ও বাংলার ফুটবল ঐতিহ্যের জন্য একটি মাইলফলক। ইস্টবেঙ্গলের মশাল যেন চিরকাল এভাবেই ময়দানে আলো ছড়াতে থাকে!”

৬-প্রয়াত হলেন প্রবীন কমিউনিস্ট নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামল চক্রবর্তী (৭৯): করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হার মানলেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা শ্যামল চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার বেলা ১.৪৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কিছুদিন ধরেই কোভিড আক্রান্ত হয়ে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন ছিলেন তিনি। শ্যামল চক্রবর্তীর জন্ম ১৯৪৩ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি। ১৯৭৮ সাল থেকে সিপিএম দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছিলেন রাজ্য কমিটির সদস্য। ১৯৮৯ থেকে সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন শ্যামল চক্রবর্তী।

১৭-পে লোডার দিয়ে ভাঙা হল বিশ্বভারতীর মেলার মাঠের নির্মীয়মান পাঁচিল : সকালে টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে বিশ্বভারতীর মেলার মাঠের নির্মীয়মান পাঁচিল ভেঙে দেয় কয়েক হাজার মানুষ। পে লোডার নিয়ে এসে ভাঙা হয় মাঠে ঢোকার গেট। এ নিয়ে তোলপাড় হয়।

অক্টোবর

৩- হাথরাস কান্ডের প্রতিবাদে কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিল : উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে ১৯ বছরের দলিত কন্যাকে ধর্ষণ করে খুন এবং পরে পরিবারের অনুমতি ছাড়াই তার দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদে কলকাতায় মিছিল করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কলকাতার রাজপথে নামেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেল ৪টে নাগাদ ময়দান চত্বরে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে থেকে এই মিছিল শুরু হয়। আর তা শেষ হয় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে এসে।

৮- প্রয়াত হলেন বিজ্ঞান মঞ্চের কলকাতা জেলার প্রাক্তন সভাপতি, সমুদ্রবিজ্ঞানী, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য, জাতীয় শিক্ষা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আনন্দদেব মুখোপাধ্যায়। বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

৮- বিজেপি-র নবান্ন অভিযান নিয়ে তুলকালাম : পুলিশ বনাম বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষে রাজপথে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হল কল্লোলিনী কলকাতা। হেস্টিংস ও বড়বাজার রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। একই পরিস্থিতি দেখা যায় সাঁতরাগাছি এবং হাওড়া ময়দানেও। নবান্ন বন্ধ। তবুও বিজেপির নবান্ন অভিযান ঘিরে অশান্তি সহ্য করল বাংলার মানুষ। জি টি রোড, হেস্টিংস, হাওড়া ময়দান সংলগ্ন এলাকায় মিছিলকে কেন্দ্র করে তুলকালাম বাঁধে। ব্যারিকেড ভেঙে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা এগোতেই গোটা এলাকায় শুরু হয়ে যায় ধুন্ধুমার। মিছিল প্রতিহত করতে জল কামান, টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটায় পুলিশ ।

১৫-প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান ক্রীড়াসাংবাদিক কিশোর ভিমানি (৮১): কোভিড সংক্রমণে মৃতের তালিকায় যুক্ত হলেন আরও এক বিশিষ্টজন। প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান ক্রীড়াসাংবাদিক কিশোর ভিমানি। গত একমাস যাবত্‍ তিনি কলকাতার উডল্যান্ডস হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন ছিলেন। তাঁর স্ত্রী রীতা ভিমানি ও ছেলে গৌতম ভিমানি বর্তমান। যে কোনও রকম খেলাধুলোর প্রতি অসাধারণ জ্ঞান এবং আগ্রহের কারণে ভারতীয় ক্রীড়া সাংবাদিকতার দুনিয়ায় সর্বকালীন উজ্জ্বলতমদের অন্যতম ছিলেন কলকাতার বাসিন্দা ভিমানি। ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য স্টেসম্যান’ পত্রিকার সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন কর্মসূত্রে যুক্ত ছিলেন। শুধু ক্রীড়া সাংবাদিকতাই নয়, ঔপন্যাসিক হিসেবেও কিশোর ভিমানি পাঠকদের সমাদর কুড়িয়েছেন। তাঁর শেষ প্রকাশিত উপন্যাস ‘দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল গডম্যান’ সমালোচকদের সমীহ আদায় করেছিল।

১৯- রাজ্যের সমস্ত পুজো প্যান্ডেলে দর্শকদের ঢোকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট : রাজ্যের সমস্ত পুজো প্যান্ডেলে দর্শকদের ঢোকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। অতিমারি পরিস্থিতিতে আদৌ পুজো করার অনুমতি দেওয়া সঙ্গত কি না তা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় সোমবার হাইকোর্ট রাজ্যের সমস্ত পুজো প্যান্ডেলকে ‘নো এন্ট্রি’ জোন হিসাবে ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ কী ভাবে এবং কতটা মানা হল, তা হলফনামা হিসাবে লক্ষ্মীপুজোর পর আদালতকে জানাতে হবে রাজ্যকে। রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে ওই আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে ওই হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

২২- মহাষষ্ঠীর দিন পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ : মহাষষ্ঠীর সকালে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে শারদীয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ দিন ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সল্ট লেকের ইজেডসিসি-তে বিজেপি আয়োজিত দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যবাসীর উদ্দেশে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে মোদী বলেন, ‘প্রথমেই আপনাদের সকলকে জানাই শ্রীশ্রী দুর্গাপুজো ও শ্রীশ্রী কালীপুজো এবং দীপাবলি উপলক্ষে আপনাদের সবাইকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই। বাংলার এই পবিত্র ভূমিতে আজ আপনাদের সকলের মাঝে আসতে পেরে আমি আনন্দিত ও ধন্য বোধ করছি।’

নভেম্বর

৩- ছট পুজো নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতের জারি করা নির্দেশিকা ঠিকমত হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট : অনিশ্চয়তার মুখে রবীন্দ্র সরোবরের ছট পুজো। ছট পুজো নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতের জারি করা নির্দেশিকা ঠিকমত হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে কলকাতার মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (সিএমডি)কে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজো বন্ধের নির্দেশিকা জারি করেছিল জাতীয় পরিবেশ আদালত। পরিবেশ আদালতের নির্দেশ কে চ্যালেঞ্জ করে মামলায় পুজোর আবেদন চেয়ে এবং পরিবেশ আদালতের নির্দেশিকার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কলকাতার মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা সিএমডিএ। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা ট্রাইবুনালের নির্দেশ, রবীন্দ্র সরোবর নিয়ে পরিবেশ আদালতের নির্দেশ ঠিক মতো মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে এই বছর তো বটেই আগামী বছরগুলিতেও রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজো হওয়া বাস্তবে অনিশ্চিত হয়ে গেল।

১০- রাজ্যে ছটের শোভাযাত্রা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করল কলকাতা হাইকোর্ট : রাজ্যে ছটের শোভাযাত্রা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করল কলকাতা হাইকোর্ট। ছট নিয়ে হাইকোর্ট দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দেন বিচারপতি। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এ বারে ছট পুজোয় রাজ্যের কোনও প্রান্তে কোনও শোভাযাত্রা করা যাবে না। যেখানে ছট পুজো হয়, সেই সমস্ত এলাকাতে নিয়মিত প্রচার চালাতে হবে প্রশাসনকে।

১১- লকডাউন অন্তে শুরু হল শিয়ালদহ ও হাওড়ায় লোকাল ট্রেন পরিষেবা : প্রায় সাড়ে ৭ মাস পর রাজ্যে চালু হল লোকাল ট্রেন। বুধবার ভোররাত থেকেই হাওড়া, শিয়ালদহ এবং খড়্গপুর ডিভিশনে শুরু হয়েছে রেল পরিষেবা। করোনা সুরক্ষাবিধির কথা মাথায় রেখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে প্রত্যেক স্টেশনে। অধিকাংশ জায়গায় যাত্রীরাও সুরক্ষাবিধি মেনে চলছেন। গোটা প্রক্রিয়ায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে রেল পুলিশ এবং রাজ্য প্রশাসন।

১৫ নভেম্বর- প্রয়াত বিশিষ্ট অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (৮৫) : দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে অবশেষে হার মানলেন ফেলুদা। মৃত্যুর কাছে পরাজিত হলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ৫ অক্টোবর কোভিড টেস্টের রিপোর্ট আসে সৌমিত্রের। পরের দিন বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অভিনেতাকে। কোভিড-মুক্ত হন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত বাধ সাধল কো-মর্বিডিটি ফ্যাক্টর। একের পর এক অঙ্গ নিষ্ক্রিয় হতে থাকল। কোভিড-এনসেফ্যালোপ্যাথিই এর কারণ বলে জানান চিকিত্‍সকেরা। একটু একটু করে অবস্থার অবনতি হতে থাকে রোজই। শেষ রক্ষা হল না। ১৫ নভেম্বর রবিবার সৌমিত্রের মৃত্যুর খবর ঘোষণা করল হাসপাতাল। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্রের একটা যুগ যেন শেষ হয়ে গেল। উত্তম সমসাময়িক যুগেও বাঙালির মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছিলেন সৌমিত্র। ছয় দশকের দীর্ঘ তাঁর চলচ্চিত্র জীবন। অভিনেতার রুপোলি সফর শুরু হয়, ১৯৫৯ সালে। ছবির নাম অপুর সংসার, যা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিত্‍ রায়। সেই পথচলা শুরু এই জুটির। সত্যজিত্‍ পরিচালিত ৩৪টি ছবির ১৪টি ছবিতে অভিনয় করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় । এছাড়া, তপন সিনহা, মৃণাল সেন, অজয় কর, তরুণ মজুমদার থেকে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-নন্দিতা রায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অতনু ঘোষ, সুমন ঘোষের মতো আজকের প্রজন্মের পরিচালকদের ছবিতে অভিনয় করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ৬১ বছরের দীর্ঘ ফিল্মি কেরিয়ারে প্রায় ৩০০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি মঞ্চাভিনয়, নাট্য পরিচালনা ও নাট্য রচনাতেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে তিনি সফল হন। আজীবন তাঁর এই মঞ্চপ্রীতি বজায় ছিল। নাটক নিয়ে নিত্যনতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতেও বিশেষ দক্ষ ছিলেন নাট্যাচার্য শিশির কুমার ভাদুড়ির অনুসারী এই অভিনেতা। আবার সাহিত্য জগতেও ছিল তাঁর অনায়াস পদচারণ। তাঁর এ যাবত্‍ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ডজন ছাপিয়ে গিয়েছে। ছবি আঁকাতেও প্রবল আগ্রহ ছিল সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের।

১৯- নন্দীগ্রামে রাজ্যের বিদ্রোহী মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বিতীয় জনসভা : প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি একেবারেই বন্ধ রেখেছেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে অরাজনৈতিক কর্মসূচি যথারীতি অব্যাহত। দুর্গাপুজোর উদ্বোধন, বিজয়া সম্মেলনী, নন্দীগ্রাম দিবস, কালীপুজোর উদ্বোধনে হাজির থেকেই জনসংযোগ বজায় রেখেছেন শুভেন্দু। দলের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক দূরত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। শুভেন্দুর বিজেপি যোগ, নতুন দল গঠন বা দল ছাড়া নিয়ে ব্যাপক জল্পনা ছড়িয়েছে। ১৯ নভেম্বরে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে জনসভা করলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।

২৭ – মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন শুভেন্দু অধিকারী : জল্পনার অবসান। এবার মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন শুভেন্দু অধিকারী। জেড ক্যাটাগরি নিরাপত্তা ছেড়েছিলেন আগেই। স্রেফ পাইলট কারই নয়, শুক্রবার ছেড়ে দিলেন মন্ত্রিত্বও। চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালকে।

ডিসেম্বর

৭ – উত্তরকন্যা অভিযানে বিজেপি-র এক সমর্থকের মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা : বিজেপির উত্তরকন্যা অভিযানে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান কিছুই বাদ গেল না । পুলিশের মারে এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর অভিযোগ। উলেন রায় নামে ওই বিজেপি কর্মীর বাড়ি শিলিগুড়ির কাছে গজলডোবা এলাকায়। সন্ধ্যার দিকে শিলিগুড়ি পুলিশের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর মিলেছে। এই ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার ১২ ঘন্টার উত্তরবঙ্গ বনধ পালন করে বিজেপি ।

১০-ডায়মন্ডহারবার রোডে বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতির কনভয় আক্রান্ত, আলোড়ণ : বৃহস্পতিবার দুপুরে ডায়মন্ড হারবারে বিজেপির কর্মিসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে শিরাকোল এলাকায় আক্রান্ত হয় বিজেপি সভাপতি জেপি নড্ডার কনভয়। কনভয়ের একাধিক গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুষ্কৃতীরা। বিজেপির দাবি, দুষ্কৃতীরা তৃণমূল আশ্রিত। ঘটনার খবর পেয়েই পথে নেমে পড়লেন দলের নেতাকর্মীরা। ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। বিভিন্ন জায়গায় চলে পথ অবরোধ। এদিকে, নাড্ডার কনভয় হামলার ঘটনায় যে তিনজন আইপিএস অফিসারের নাম উঠে এসেছিল, এবার তাদের রাজ্যের বাইরে বদলি করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কেন্দ্র। তিন আইপিএস অফিসার রাজীব মিশ্র, প্রবীণ ত্রিপাঠি এবং ভওলানাথ পাণ্ডেকে রাজ্যের বাইরে বদলি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। যা নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সংঘাত তীব্র হয় ।

১৯- মেদিনীপুরের সমাবেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সমাবেশে বিজেপিতে যোগ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী-সহ তৃণমূলের কিছু নেতা : সমস্ত জল্পনার অবসান।শনিবার মেদিনীপুর কলেজ ময়দানে বিদ্রোহী শুভেন্দু অধিকারী সহ একঝাঁক তৃণমূল বিধায়ক ও নেতা- অনুগামী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অমিত শাহের সামনেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগদান করলেন। অমিত শাহর পশ্চিমবঙ্গ সফরে মেদিনীপুর থেকেই তৃণমূলের বড়ো ভাঙ্গন শুরু হল।এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রথম গেরুয়া পতাকা তুলে দেন শুভেন্দুর হাতে।তারপর একের পর এক একঝাঁক তৃণমূল বিধায়কও বিজেপিতে যোগ দিলেন।

১৯- মেদিনীপুরে জনসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । হবিবপুরে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর মাসির বাড়িতে যান, পুজো দেন দুটি মন্দিরে।

২০- বোলপুরে অমিত শাহর রোড শো। বোলপুরে অমিত শাহের রোড শো-তে জনপ্লাবন, গেরুয়া ঢেউ। ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

২৪- বিশ্বভারতীর ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বভারতীর আচার্য নরেন্দ্র মোদী।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *