এ মেলার ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই নারী। সকালের গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে অসংখ্য দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে
নাজমুল হুদা নাসিম, বগুড়া: বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ইছামতী নদীর তীরে প্রতি বছরের মতো এবারও পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলা শেষে অনুষ্ঠিত হয়েছে “বউ মেলা”। মেলার ক্রেতা ও বিক্রেতা সবাই নারী। মেলা বিভিন্ন বয়সী নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে পছন্দের জিনিসপত্র কেনা-বেচা করেন।
বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মেলার ৩০তম আসরে সকালের গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে অসংখ্য দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি না থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ঐতিহ্যবাহী এ মেলা চলে। পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামের নানান বয়সী নারী দোকানগুলোতে ভিড় করেন। তাদের পদচারণায় মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
আয়োজকরা জানান, প্রশাসনের নির্দেশে মেলার প্রধান আকর্ষণ বাঘাইড় মাছ কেনাবেচা বন্ধ থাকায় হতাশ ছিলেন অংশগ্রহণকারীরা। এরপরেও গভীর রাত পর্যন্ত মেলায় নানা প্রজাতির বড় বড় মাছ কেনাবেচা হয়েছে। বিক্রি হয়েছে, কয়েক টন মিষ্টান্ন, আসবাবপত্র, তৈজসপত্র ও খাবার।
বগুড়া কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আকতার তিন বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে মেলায় এসেছেন। তিনি জানান, মেলার কারণে শহর থেকে তিন বান্ধবীকে দাওয়াত করে নিয়ে এসেছেন। তারা মেলায় ঘোরাঘুরি শেষে নিজেদের জন্য কিছু প্রসাধন সামগ্রী কিনেছেন।
খাতুন নামে এক দোকানী জানান, গত ৩০ বছর ধরে তিনি “বউ মেলা”য় কসমেটিকসের দোকান দিয়ে আসছেন। এবার সঙ্গে তার স্বামী হারুনার রশিদও এসেছেন।
দু’দিনের মেলায় এবার অন্তত ৫০ হাজার টাকা বিক্রির আশা তার।
মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জানান, এবারের ৩০তম মেলায় প্রায় ২০০ দোকান বসেছে। দোকানগুলোতে নারীদের সব ধরনের প্রসাধনী, তৈজসপত্র, বাচ্চাদের খেলনা ও ঘর সাজানোর সামগ্রী বিক্রি হয়েছে। মেলায় পুরুষদের যাওয়ার অনুমতি না থাকায় নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করে থাকেন। তবে এবার কিছু দোকানে নারীর বিক্রেতাদের সঙ্গে তাদের স্বামীরা সহযোগিতা করেছেন।

