শিরোনাম
বুধ. মার্চ ১৮, ২০২৬

‘বঙ্গবন্ধু টানেল’ রক্ষণাবেক্ষণসহ ৩ প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন

বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক: ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ রক্ষাণাবেক্ষণের দায়িত্ব পাচ্ছে টানেল নির্মাতা সংস্থা চীন সরকারের মালিকানাধীন নির্মাতা সংস্থা চায়না কমিউনিকেশনস কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি)। এই প্রস্তাবটিসহ তিনটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (১৮ মে) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তিনটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী।

সভা শেষে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ের লক্ষ্যে সার্ভিস প্রোভাইডার/অপারেটর হিসেবে সিসিসিসি-কে নিয়োগের সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে নির্মাণাধীন ৩.৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিসিসি কর্তৃক জি-টু-জি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে। নির্মাণ কাজ শেষে গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন জনবল ও প্রযুক্তি বাংলাদেশে নেই।

টানেল রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে এবং জনস্বার্থে পিপিএ ২০০৬ এর ৬৮ (১) ধারা এবং পিপিআর ২০০৮ এর ৭৫ (ঘ) ৭৬(২) বিধি অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ নির্মাণ কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান সিসিসিসিকে সার্ভিস প্রোভাইডার/অপারেটর হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এই টানেল নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

অতিরিক্ত সচিব জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘ঢাকা জেলার দোহার উপজেলাধীন মাঝিরচর থেকে নারিশাবাজার হয়ে মোকসেদপুর পর্যন্ত পদ্মা নদী ড্রেজিং ও বাম তীর সংরক্ষণ’ প্রকল্পের পূর্ত কাজ ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পের আওতায় পদ্মা নদীর ডান তীর ৬ কিলোমিটার স্থায়ী প্রতিরক্ষা এবং ২৪ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের পূর্ত কাজ রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে পিপিআর ২০০৮ এর বিধি ১২ অনুযায়ী অর্পিত ক্রয় কাজ অনুসরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।’

সভায়, কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলাধীন নির্মিতব্য মিঠামইন সেনা স্থাপনা এর ভ’মি সমতল উঁচুকরণ, ওয়েভ প্রটেকশন ও তীর প্রতিরক্ষা’ প্রকল্পের পূর্ত কাজ ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পের আওতায় ভূমি সমতল উঁচুকরণ-১২৩ হেক্টর, নদীর তীর প্রতিরক্ষা ১.৮৫ কিলোমিটার, ওয়েভ প্রটেকশন কাজ ৪.১০ কিলোমিটার, পেরিফেরাল ডাইক নির্মাণ ৪.১০ কিলোমিটার, মিঠামইন উপ-বিভাগীয় দপ্তর ১টি, ব্যারাক ১টি এবং নদীতীরে ২টি আরসিসি ঘাট নির্মাণ করা হবে। পূর্ত কাজগুলো রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে পিপিআর ২০০৮ এর বিধি ১২ অনুযায়ী অর্পিত ক্রয় কার্য অনুসরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *