সন্জয় ঘোষাল: বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। সমুদ্রগর্ভ হয়ে উঠছে উষ্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রার তারতম্য হচ্ছে। তার ফলে সাগরে ছোট দ্বীপগুলি অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা বাড়বে। ফলে প্রবল ঝড় আর তীব্র জলোচ্ছ্বাসের খেসারত দিতে হতে পারে দ্বীপগুলিকে।
জলবায়ু পরিবর্তন সাংঘাতিক রূপ নেবে
বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। তার ফলে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে যেমন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বাড়ছে, তেমনই বৃষ্টিপাতের ধরণও পরিবর্তন হচ্ছে। সমুদ্রে জলস্তরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসঙ্গে খরাপ্রবণও হয়ে উঠবে কিছু এলাকা। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনে যে সাংঘাতিক রূপ নেবে তা বলাই যায়।
সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
ভারতীয় প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তের এই প্রভাব দৃঢ়ভাবে পড়তে চলেছে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লাক্ষাদ্বীপে। সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে। এই পরিবর্তনের ফলে দ্রুত ছোট দ্বীপগুলিতে বন্যা বৃদ্ধি পায়। ১৯৯৪-২০১৪ সালের তুলনায় ২০৫০ সালে সমুদ্রের জলস্তর ১৮ থেকে ২৪ সেমি বাড়বে। কোথাও কোথাও তা ৪০ সেমি পর্যন্ত বাড়তে পারে।
বন্যার ফ্রিকোয়েন্সি দ্বিগুণ বাড়বে
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রীষ্ণমণ্ডলীয় ভারত মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরের বেশিরভাগ অঞ্চলে বন্যার ফ্রিকোয়েন্সি দ্বিগুণ বাড়বে। ক্যারিবিয়ান সাগর এবং দক্ষিণ গ্রীষ্মমন্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে বন্যার প্রধান চালক হয়ে উঠবে এই জলবায়ু পরিবর্তন। এর ফলে উপকূলীয় শহর এবং ছোট দ্বীপের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী সমস্যার মধ্যে পড়বেন।
ছোট দ্বীপগুলির জন্য প্রধান উদ্বেগ
ইতিমধ্যেই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি হয়ছে অনেকটাই। ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা বাড়বে, গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ও বাড়বে। ঝড়ের কারণে প্রভাবিত হবে উপকূলবর্তী এলাকা এবং দ্বীপাঞ্চল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জনবসতি এবং অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা, জল ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনীতি ও সংস্কৃতি ভেঙে পড়বে। এই পরিবর্তন ছোট দ্বীপগুলির জন্য একটি প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠবে বলেও ব্যাখ্যা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
জলবায়ু পরিবর্তন ভূমির ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে
প্রশান্ত মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন ছোট দ্বীপে সাংঘাতিক প্রভাব ফেলবে এই জলবায়ু পরিবর্তন। ছোট দ্বীপে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ আর্থিকভাবে দুর্বল, বিশেষ করে যারা জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রবাল প্রাচীর সিস্টেমের উপর নির্ভর করে, তাদের কাছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ঝুঁকিপূর্ণ। সমুদ্র তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে মানুষের জীবন ও জীবিকাকে সমর্থন করার জন্য ভূমির সক্ষমতাও দরকার। জলবায়ু পরিবর্তন ভূমির সেই ক্ষমতা কেড়ে নেবে।
গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
ছোট দ্বীপগুলি ইতিমধ্যেই গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ক্ষতির মুখে পড়েছে। মানব জীবনের ক্ষতি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি তো হয়েইছে, জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত ক্ষতিও হয়ে চলেছে। ছোট দ্বীপগুলি ভিতরে ভিতরে অনেকাংশে অনুন্নত রয়েছে। তা উন্নত করার মতো কোনও শক্তিশালী পদ্ধতি নেই এবং এই ধরনের মূল্যায়নও সীমিত।

