শিরোনাম
সোম. ফেব্রু ১৬, ২০২৬

বনভূমিতে প্রশিক্ষণ একাডেমি, সংসদীয় কমিটির না

কক্সবাজারে বনবিভাগের ৭০০ একর বনভূমিতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের বিরোধিতা করেছে সংসদীয় কমিটি। ওই জায়গায় যাতে প্রকল্পটি গ্রহণ না করা হয়, সেজন্য ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সংসদীয় কমিটি বলেছে, সংরক্ষিত ওই বিপুল বনভূমি কীভাবে বরাদ্দ দেয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হবে।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা যেখানে বেদখলে থাকা বনভূমি উদ্ধার করছি। সেখানে সরকারের আরেকটি সংস্থা যদি জমি নিয়ে নেয়, এটা তো ঠিক নয়। সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বোঝার চেষ্টা করছি- এটা কীভাবে হলো। যদি কেবল জমির দাগ ও খতিয়ান দেয়া হয় এবং ভূমির আকার ও প্রকৃত বর্ণনা না করে, সেটা হতে পারে কিনা। আমরা মনে করি, সেটাই হয়েছে। এটা আমরা দেখবো।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে যে অনুমতি এসেছে, সেই দপ্তর হয়তো এই বিষয়টি পুরোপুরি জানে না।

তিনি বলেন, এই জমির বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। সংরক্ষিত বন হিসেবে এই জমির মালিক জেলা প্রশাসন। আর এ জমি কোনো অবস্থাতেই বন্দোবস্তযোগ্য নয় বলে রিমার্ক থাকে। অর্থাৎ, এই জমি কোনো অবস্থাতেই বন্দোবস্ত দেয়া যাবে না। কাজেই এই জমি বন্দোবস্ত দেয়ার সুযোগ নেই।

সভাপতি আরও বলেন, ‘জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে আমরা সমর্থন করি। তবে ওই জায়গায় এটা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, আমাদের বিধিনিয়ম এমনকি এটা সংবিধান পরিপন্থি। এটা অন্য জায়গায় হোক।’

বনভূমির ওই জমি বরাদ্দ দেয়া ‘বিধিসম্মত’ হয়নি উল্লেখ করে সাবের হোসেন বলেন, ‘যেহেতু বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখন তারা প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র চেয়েছে। আমরা এটা না দিতে বলেছি। পরিবেশমন্ত্রীও আমাদের সঙ্গে একমত।’

বৈঠকের পর সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজারে ওই বনাঞ্চলের ৭০০ একর জায়গায় জনপ্রশাসন একাডেমি নির্মাণের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে পর্যালোচনা করার সুপারিশ করা হয়।

এ ছাড়া কমিটি ২০২১-২০২২ অর্থবছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার সুপারিশ করে। সাবের চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটি সদস্য পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, তানভীর শাকিল জয়, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এবং মো. শাহীন চাকলাদার বৈঠকে অংশ নেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *