শিরোনাম
বুধ. মার্চ ১১, ২০২৬

বন্দুক-পিস্তলের জোরে ‘একনায়কতন্ত্র’ চালু করেছে সরকার: বিএনপি

সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দখল করে দেশে ‘একনায়কতন্ত্র’ চালু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘আজকে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা(সরকার) দখল করে নিয়েছে এবং সেটা দখল করেছে শুধু বন্দুক-পিস্তলের জোরে তারা টানা ক্ষমতায় থাকার জন্য, একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করার জন্য। আজকে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্রবিহীন, একটা ফ্যাসিবাদী একনায়কোতন্ত্রে পরিণত হয়েছে।’

দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। দলটির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেলে ‘ব্যারিস্টার আবদস সালাম তালুকদার স্মৃতি সংসদ’র উদ্যোগে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়।

বিএনপি মহাসচিব, ‘এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরুতে হবে। এদেরকে সরাতে হবে, জনগণকে মুক্তি দিতে হবে এবং সেই মুক্তি দিতে হলে জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হবে। জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হলে বিএনপিকে আজকে দেশের সমস্ত মানুষকে, সকল রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদেরকে পরাজিত করতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসুন, আজকে এই স্মরণসভায় ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারকে অনুসরণ করে আমরা সবাই সচেষ্ট হবো, সক্রিয় হবো। তার শোককে শক্তিতে রুপান্তরীত করে আমরা অবশ্যই জয়ী হবো। ‘উই সাল ওভার কাম’-এই প্রত্যাশা আমি করছি।’

নির্বাচন কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘কোনও দিন আমরা কল্পনাই করতে পারি যে, এই নির্বাচন কমিশন দেশে একটা এই ধরনের ভয়াবহ নির্বাচন করবে। তিন তিনটা নির্বাচনই তারা একই ধরনের নির্বাচন করেছে। ফলে এটা একটা হাইব্রিড সরকার। তারা নির্বাচনকে ব্যবহার করবে তাদের ক্ষমতায় থাকার জন্য এবং করছেও তাই। তারা সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুলিশ, সেনাবাহিনী, এডমিনিস্ট্রেশন, আদালত সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করে বলেছে যে, আমরা তো নির্বাচিত সরকার।’

সরকারের দমনপীড়নের চিত্র তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে বিএনপির ৩৫ লক্ষ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, এক লক্ষের ওপরে মামলা। হাজারো নেতা-কর্মী গুম হয়েছে, খুন হয়েছে। ইলিয়াস আলীর মতো নেতা, চৌধুরী আলমের মতো নেতা, লাকসামের পারভেজের মতো নেতাসহ বহু নেতা-কর্মী গুম হয়ে গেছেন। তাদের কোনো খোঁজ নেই। আমরা এই পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিতি ছিলাম না। আমরা গুম শব্দটা জানতামই না, গুম কাকে বলে। আজকে আমরা আমাদের নেতাদেরকে গুম হয়ে যেতে দেখেছি।’

‘আমরা দেখেছি খুন করছে, বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড চলছে এবং মানুষের সমস্ত অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আজকে সত্যিকার অর্থে প্রত্যেকটি মানুষ এখান থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম এথান থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।’

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। এটা তো একটা অকল্পনীয় ব্যাপার। যে নেত্রী স্বাধীনতার পতাকা, গণতন্ত্রের পতাকাকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন, জনগণ তার পেছনে ছুটেছে। সেই নেত্রীকে তারা আটক করে রেখেছে। এটার একটি মাত্র কারণ। তিনি যদি বাইরে থাকেন তাহলে এই জনগনকে আটকিয়ে রাখা যাবে না। সেজন্য তারা তাকে আজকে আটকিয়ে রেখেছে।’

ফখরুল বলেন, ‘আজকে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব তিনি নির্বাসিত দেশের বাইরে রয়েছেন। আমাদের নেতারা যারা আছেন দুই-একজন বাদ দিয়ে সকলেল বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা। কারো কারো মামলা এমন পর্য়ায় এসেছে যে, রায় হয়ে যাবে কিছুদিনের মধ্যে। এইরকম একটা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আমরা লড়াই করছি। আমরা কখনো সরে যাইনি। আমরা এর মধ্যে সংগ্রাম করছি, আমরা দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য কাজ করছি। আমাদের সবচেয়ে বড় সক্ষম হয়েছে যে, আমরা দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছি, বিভক্ত হতে দেয়নি।’

‘ইনশাল্লাহ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেই এই যে ফ্যাসিস্ট দানবের মতো সরকার, এই সরকারকে পরাজিত করতে আমরা সক্ষম হবো, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে আমরা সক্ষম হবো।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের পরিচালনায় আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবির রিজভী, ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সিরাজুল হক, নিলোফার চৌধুরী মনি, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, যুব দলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, প্রয়াত নেতার সহধর্মিনী মাহমুদা সালাম, তার মেয়ে সালিমা বেগম, স্বামী মাহমুদুল হাসান, ভাতিজী সাদিয়া হক, স্মৃতি সংসদের সুজাত আলী, শামসুজ্জামান মেহেদি প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।ব্রেকিংনিউজ

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *