শিরোনাম
রবি. জানু ৪, ২০২৬

বন্ধ হলো টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে পর্যটক পারাপারের জাহাজ চলাচল

পর্যটক পারাপারে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে ১০টি জাহাজ চলাচল করে। বর্ষা মৌসুম ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকে তাই আজ ২ এপ্রিল থেকে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (স্কুয়াব)।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্কুয়াবের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ জানান, টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচলের অনুমতি ছিলো ৩০ মার্চ পর্যন্ত। তবে ২ এপ্রিল পর্যন্ত কিছু পর্যটক সেন্ট মার্টিনে রাত্রিযাপন করবেন বলে তাদের আনার জন্য আজ পর্যন্ত জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। আজ সেন্ট মার্টিন থেকে ফেরার সময় প্রতিটি জাহাজে দ্বীপের আবর্জনা টেকনাফে আনা হয়েছে। এরপর সেসব আবর্জনা টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে। আর প্লাস্টিক বর্জ্যগুলো লোকজনের কাছে বিক্রি করা হবে। এরপর আগামী অক্টোবর পর্যন্ত টানা সাত মাস এ দ্বীপে পর্যটকের যাতায়াত বন্ধ থাকবে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ দোকান রেস্তোরাঁ সমিতির সভাপতি আবু বক্কর বলেন, দ্বীপে পর্যটকের আগমন বন্ধ হয়ে যাবে জেনে ইতিমধ্যে ২০-৩০টি হোটেল-রেস্তোরাঁ ও শতাধিক দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। দ্বীপের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আগে দ্বীপের ৯০ শতাংশ মানুষ সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো। তবে কয়েক বছর ধরে অধিকাংশ মানুষ পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ চৌধুরী জানান, ৩০ মার্চ থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধের নির্দেশ ছিলো। কিন্তু জাহাজে করে দ্বীপের আবর্জনা বোঝাই করে টেকনাফে আনা হবে। এর জন্য দুই দিন সময় বাড়ানো হয়েছিলো। অবশেষে আজ বন্ধ হলো টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে পর্যটক পারাপারের জাহাজ চলাচল।

উল্লেখ্য, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মায়ানমারের উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *