নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে (৩৭) বিবস্ত্র করে নির্যাতনের প্রতিবাদে ‘ধর্ষণ ও নিপীড়ন বিরোধী ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। সমাবেশে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বর্তমান বাংলাদেশে আওয়ামী জাহেলিয়াতের যুগ চলছে বলে মন্তব্য করেন। সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শাহবাগে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ডাকসু’র ভিপি নুরুল হক নুর সমাবেশে বলেন, এই গণধর্ষণের ঘটনা দেশের আইন ব্যবস্থার মুখোশ খুলে দিচ্ছে। আজকে এই আওয়ামীলীগ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্রের সব বিভাগে একটা দুর্বৃত্তায়ন তৈরি করেছে। আজকে ছাত্রলীগ ধর্ষণ করে, যুবলীগ ধর্ষণ করে, আওয়ামীলীগ টাকা পাচার করে। আজকে যে দেলোয়ার, কালাম ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে তারা সবাই সরকারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য দা-চাপাতি নিয়ে ভোট কেন্দ্র দখল করেছে। তাই সরকারও বিনিময়ে তাদের আশ্রয় দেই। আমাদের দূর্বলতার কারণেই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেন ভিপও নুর।
ভিপি নুর বলেন, ময়মনসিংহে আমাদের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। জাতীয়বাদী ছাত্রলের নেতাদের সিলেটে পুলিশ হামলা করে গ্রেফতার করেছে। আমরা এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি বলেন, প্রত্যক দল ক্ষমতায় এসে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। বিচার ব্যবস্থা দলীয়করণ করেছে। বিরোধী দলের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। এই বাংলাদেশের সংস্কার করতে হবে। ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, সরকারের গুন্ডা বাহিনীর যদি আর কোন ধর্ষণের খবর আসে আমরা সরকারকে দেখে নিবো। আখতার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন নারীকে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা না করার অনুরোধ করেন।
বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা “ছাত্রলীগ ধর্ষণ করে শেখ হাসিনা কী করে?; যুবলীগ ধর্ষণ করে শেখা হাসিনা কী করে; ধর্ষক ও জনতা একসাথে চলে নায়; চলো যাই যুদ্ধে ধর্ষকের বিরুদ্ধে; স্লোগান দেন তারা।
উল্লেখ্য, প্রায় এক মাস আগেই নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এই নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার একমাসের মাথায় নির্যাতনের ভিডিয়ো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মানুষ ক্ষোভে ফুঁসে উঠে।
গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়েছে। এছাড়া তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে আরও একটি মামলা হয়েছে। রবিবার রাতে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ (৩৫) বাদী হয়ে প্রথম মামলাটি করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দু’দফায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে আটক করা হয়। তারা হলো, একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের আবদুর রহিম (২২) এবং রহমত উল্যাহ (৪১)। এদিকে, দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার, বাদল, কালাম ও আবদুর রহিমসহ ৫ তরুণ ওই ঘটনা ঘটায় বলে জানা গেছে। কিন্তু আসামি তালিকায় নেই দেলোয়ারের নাম।
মামলার এজাহারে এই নারী উল্লেখ করেন, তাঁর স্বামীকে বেঁধে রেখে আসামিরা তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তাঁরা এ ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণা করেন। গত এক মাস ধরে তাঁরা এই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁরা এই ভিডিও ছেড়ে দেন।

