শিরোনাম
শনি. জানু ৩, ২০২৬

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভিসা সহজ করছে মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়া শুধু কর্মসংস্থানের জন্যই নয়, দেশটিতে নানা আয়োজন আছে পর্যটকদের জন্য। পর্যটনকে প্রধান আয়ের উৎস করার লক্ষ্যে কাজ করছে মালয়েশিয়া সরকার, নিয়েছে নানা পদক্ষেপ। ভিসা জটিলতার কারণে আগ্রহ থাকলেও বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়া ভ্রমণের হার ছিল কম। বাংলাদেশ থেকে বছরে ১ লাখ ২০ হাজার পর্যটকের টার্গেট নির্ধারণ করেছে দেশটি। এ কারণে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভিসা সহজ করছে মালয়েশিয়া।

এশিয়ায় নিজেদেরকে প্রধান পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে চায় মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার সব চেয়ে বেশি পর্যটক আসে সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সাউথ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন থেকে। বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ মালয়েশিয়ায় যান কাজের উদ্দেশ্যে। অনেকেই ভিজিট ভিসায় (পর্যটন) গিয়ে সেখানে অবৈধভাবে থেকে যান বলে অভিযোগ আছে। এ কারণে বাংলাদেশিদের ভিজিট ভিসা দেওয়ার হার ছিল কম। তবে এসব চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পর্যটক টানতেও আগ্রহী দেশটি।

করোনা ভাইরাসের মহামারি সারা বিশ্বের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মানুষের চলাচল বন্ধ থাকায়, ভ্রমণকারী না থাকায়— পর্যটন শিল্প সবার আগে ক্ষতির মুখোমুখি হয়। মালয়েশিয়াও এর ব্যতিক্রম নয়। পর্যটন শিল্প হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। হোটেল, ট্যুর অপারেটর, খাদ্য ও পানীয় তথা রেস্তোরাঁ, থিম পার্কসহ পর্যটন-সংশ্লিষ্ট খাতগুলো বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। করোনার পর ফের বাজার দখল করতে তৎপর হয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির পর্যটন খাতের স্টেকহোল্ডাদের মতামতের ভিত্তিতে ‘মার্কেটিং প্ল্যান ২০২২-২০২৬’ প্রণয়ন করেছে দেশটির ট্যুরিজম প্রমোশন বোর্ড। মার্কেটিং কৌশল ও পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটির ট্যুরিজম প্রমোশন বোর্ড পুরনো বাজারে প্রচারণার পাশাপাশি নতুন নতুন বাজার সৃষ্টিতে কাজ করছে। বিভিন্ন দেশের ট্যুর অপারেটর, এজেন্সি, পর্যটন সাংবাদিক, ব্লগারদের জন্য আয়োজন করছে ফ্যাম ট্রিপ, মেলাসহ নানা আয়োজন।

মালয়েশিয়ার ট্যুরিজম প্রমোশন বোর্ডের সিনিয়র পরিচালক (আন্তর্জাতিক প্রমোশন, এশিয়া-আফ্রিকা) মনোহরন পেরিয়াস্বামী বলেন, ‘শুধু মাত্র অবকাশ যাপন নয়, আমরা সারা বিশ্বে মালয়েশিয়াকে বহুমাত্রিকভাবে তুলে ধরছি। নানানভাবে পর্যটকদের দৃষ্টি আর্ষণের জন্য কাজ করছি। আমরা বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি সংখ্যক পর্যটক প্রত্যাশা করছি। এ কারণে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

মনোহরন পেরিয়াস্বামী বলেন, ‘অনেক বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় কাজ করতে আসেন। অনেকেই মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ ভিসায় এসে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে কৌশলগত কারণে ভিসার বিষয়টি এতদিন কঠিন ছিল। তবে পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে আসতে পারেন, এজন্য বাংলাদেশিদের ভিসার বিষয়টি সহজ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে বছরে ১ লাখ ২০ হাজার পর্যটককে টার্গেট নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

জেমবক্স, এখানে মালয়েশিয়ার ১৩টি রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে পারবেন পর্যটকরা।

অনলাইন ট্রাভেল এজেন্ট (ওটিএ) শেয়ারট্রিপ-এর চিফ অপারেটিং অফিসার সোহেল মজিদ বলেন, ‘প্রকৃতি, অ্যাডভেঞ্জার, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য থাকায় মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ নিয়ে বাংলাদেশে মানুষের আগ্রহ আছে। কাছাকাছি গন্তব্য হওয়ায় অনেকেই পরিবার নিয়েও বেড়াতে যান। আগের তুলানায় মালয়েশিয়ায় ভিসা দেওয়ার হারও বেড়েছে। এখন অনলাইনেই ই-ভিসা পাচ্ছেন পর্যটকরা।’

তিনি বলেন, ‘তবে মালয়েশিয়া সিঙ্গেল এন্ট্রির ভিসা দেয়। এটা পর্যটকদের জন্য জটিলতা। অনেক পর্যটক কুয়ালালামপুরে আসেন, তারপর সিঙ্গাপুর কিংবা ইন্দোনেশিয়া ঘুরে ফের মালয়েশিয়া আসতে চান। সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার কারণে এ সুবিধা পাচ্ছেন না পর্যটকরা।’

জানা গেছে, পর্যটকদের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা দেওয়ার জন্য দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব করেছে সে দেশের পর্যটন, আর্ট এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। বর্তমানে মালয়েশিয়া সিঙ্গেল এন্ট্রির ভিসা দিয়ে থাকে। এটিকে পর্যটনের বড় বাধা হিসেবে দেখছেন দেশটির পর্যটন, আর্ট এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা এবং মেয়াদ থাকলে ফের ঘুরতে আসবেন অনেক পর্যটক।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর ভিন্ন ধরনেরমিশ্রণ রয়েছে। দেশটির সরকারি ধর্ম হলো ইসলাম। তবে বৌদ্ধ, হিন্দু এবং খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম অবাধে পালন করা হয়। থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ চীন সাগর থেকে ব্রুনাই এবং ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত সবকিছুর মিল রয়েছে মালয়েশিয়ার। যেমন রয়েছে, স্থাপত্য শৈলি, একইসঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়। মালয়েশিয়ায় রয়েছে মোট ১৩টি রাজ্য। সেগুলো হচ্ছে— কেলান্তান, তেরেঙ্গানু, পাহাং, জোহর, মেলাকা, নেগেরি সেম্বিলান, সেলাঙ্গর, পেরাক, পুলাউ পিনাং, কেদাহ, পেরলিস, সাবাহ এবং সারাওয়াক। দেশটির তিনটি ফেডারেল টেরিটোর হচ্ছে— কুয়ালালামপুর, পুত্রজায়া এবং লাবুয়ান।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *