শিরোনাম
শুক্র. ফেব্রু ২০, ২০২৬

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা ২০২৩ নিয়ে চিন্তিত

জান্নাতুল ফেরদৌসী, ঢাকা: করোনা মহামারী, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলারের দাম বাড়ারে কারণে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা এখন একটি বৈরী বাণিজ্যিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এ বছর রপ্তানিতে তারা শীর্ষে থাকলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অস্বাভাবিক মুদ্রাস্ফীতির কারণে তারা ২০২৩ নিয়ে ভীষণ চিন্তায় আছেন।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, বাংলাদেশ মূলত তৈরি পোশাক উৎপাদনের একটি মৌলিক উৎস হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এখানকার পোশাক ব্যবসায়ীরা যেকোন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সুলভ মূল্যে তৈরি পোশাক সরবরাহ করে থাকে।

উদ্যোক্তারা এখন অবশ্য সস্তা পোশাক তৈরির দুষ্টচক্র ভাঙতে এবং দামী পণ্য তৈরির জন্য আরও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে কঠোর পরিশ্রম করছে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট রআকস্মিক মুদ্রাস্ফীতি তাদের এ লড়াইকে আরো কঠিন করে তুলেছে। এছাড়া, পশ্চিমা দেশের ক্রেতারা, বিশেষ করে ইউরোপের বাসিন্দারা এখন উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং যুদ্ধসহ নানা কারণে দামে সস্তা তৈরি পোশাকই বেশি পছন্দ করছেন।

এতো কিছুর মধ্যেও তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা চলতি অর্থবছরে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছেন, যা ৪২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মুহাম্মদ হাতেম বলেছেন, কোভিড-১৯ মহামারী কমে যাওয়ায় কাজের অর্ডার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমেছিল। কিন্তু এরপরে অর্ডার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়তে শুরু করে। তৈরি পোশাকের ব্যবসা এখন স্থিতিশীল এবং আমরা এখন আমরা সঠিক পথেই রয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা এখনও প্রতিযোগিতার শীর্ষে রয়েছি। এ কারণেই বড় কারখানায় প্রচুর অর্ডার আসবে। আমি যদি নিজেদের কথা বলি, তাহলে বলতে হয় আমরা মৌলিক কাপড় তৈরিতে বিশেষজ্ঞ। এর পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব টেক্সটাইল ও সুতার কারখানা রয়েছে।

বাংলাদেশ মূলত ট্রাউজার, আন্ডারওয়্যার, সোয়েটার, ট্যাঙ্ক টপস, অর্ন্তবাস, বুনানো শার্ট, ব্লাউজ, ডেনিম, বোনা আইটেম এবং অন্যান্য দৈনন্দিন পোশাক রপ্তানি করে থাকে।

বিজিএমইএর তথ্য দেখা যায়, সবচেয়ে জনপ্রিয় মৌলিক পোশাক ট্রাউজারের রপ্তানি ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে, বুনা টি-শার্ট ২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার, সোয়েটার ১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার, শার্ট/ব্লাউজ ৭০৮ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলার এবং অন্তর্বাস রপ্তানি গেল বছরের তুলনায় ৫৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেড়েছে।

বিজিএমইএর মতে, ২০২১-২২ অর্থ বছরে বাংলাদেশের ট্রাউজার রপ্তানির মূল্য ছিল ১৪ দশমিক ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, নিটেড টি-শার্ট ৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, সোয়েটার ৫ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, শার্ট/ব্লাউজ ২ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আন্ডারওয়্যার ২ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আর ২০২০-২১ অর্থবছরে ট্রাউজার রপ্তানির মূল্য ছিল যথাক্রমে ১০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, নিটেড টি-শার্ট ৭ দশমিক ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, সোয়েটার ৪ দশমিক ০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, শার্ট/ব্লাউজ ২ দশমিক ০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আন্ডারওয়্যার ১ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বাংলাদেশ এখন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে স্বল্পমূল্যের পোশাক তৈরি করছে এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ঢাকা থেকে এখন ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা এবং বিশ্বের অন্যান্য বড় বড় বাজারে চালান পাঠানো হয়।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও কার্যাদেশ বাড়ার কারণে ২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-মে মাসে তৈরি পোশাকের কাঁচামাল এবং আনুষাঙ্গিক এক্সেসরিজের আমদানি আগের বছরের তুলনায় ৬৪ শতাংশ বেড়েছে।

ইতিমধ্যেই বেশিরভাগ বড় কারখানা এ বছরের কাজের জন্য বুকিং হয়ে গেলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় রপ্তানিকারকরা আগামী বছরের কাজ নিয়ে চিন্তিত।

অনেক বড় বড় কোম্পানি তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়িয়েছে। যদি কার্যাদেশ আসার প্রবাহ কমে যায়, তাহলে তারা অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং ব্যাংক থেকে মূলধন ধার করায় ব্যাপক ভাবে ভোগান্তির শিকার হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *