হাবিবুর রহমান, ঢাকা: করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিলম্বিত শিক্ষাবর্ষ শেষে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৯৫ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ সকল বোর্ডের ২০২১ সালের উচ্চ মাধ্যমিক, আলিম ও উচ্চ মাধ্যমিক (ভোকেশনাল/বিএম/ডিপ্লোমা- ইন- কমার্স) পরীক্ষায় পরীক্ষায় পাসের হার ৩৫.২৬%। আর আলাদাভাবে, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এ পরীক্ষার পাসের হার ৯৫.৫৭%। দীর্ঘ অপেক্ষার পর দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পর্যায়ে পা রাখতে যাওয়া এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে, যা উত্তীর্ণের মোট সংখ্যার ১৩. ৭৯ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০২১ সালের উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ করেন। পরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলন করে এবারের ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে এবং এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানা যাবে। এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও সংগ্রহ করা যাবে ফল।
মহামারির কারণে ২০২০ সালে এইচএসসি ও সমমানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় বসার সুযোগ পায়নি। পরে জেএসসি ও এসএসসির ফলের ভিত্তিতে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তাদের মূল্যায়ন ফল প্রকাশ করা হয়। তাতে ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৭ জন শিক্ষার্থীর সবাই পাস করে, জিপিএ-৫ পান এক লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন।
পদ্ধতিগত পার্থক্যের কারণে ২০২০ সালের সঙ্গে ২০২১ সালের ফলের তুলনা করে পাসের হারে হ্রাস-বৃদ্ধির হিসাব করা যৌক্তিক হবে না। তবে আগের বারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ২৭ হাজার ৩৬২ জন। মহামারী শুরুর আগে ২০১৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় সার্বিকভাবে পাস করে ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে মোট ৪৭ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী পাঁচে পাঁচ জিপিএ পেয়েছিল। আর ২০১৮ সালে পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৯ হাজার ২৬২ জন।
২০২০ সালে দেশে মহামারির প্রকোপে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া যায়নি। তবে ২০২১ সালে পরীক্ষা ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের পরের ধাপে পাঠাতে চায়নি সরকার। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের অপেক্ষায় আট মাস পিছিয়ে যায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। স্বাভাবিক সময়ে এপ্রিলে এ পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয় গত ২ ডিসেম্বর। বিশেষ পরিস্থিতিতে এবার সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে গ্র“পভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে ছয়টি পত্রে এইচএসসি পরীক্ষা হয়। সময় কমিয়ে আনা হয় দেড় ঘণ্টায়।
বাংলা ও ইংরেজির মতো আবশ্যিক বিষয়গুলোর পরীক্ষা এবার নেওয়া হয়নি। তার বদলে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে সেসব বিষয়ের মূল্যায়ন করে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল তৈরি করা হয়েছে। এগারোটি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ১১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৮১ জন শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৩ লাখ ৬ হাজার ৭১৮ জন পাস করেছে। সার্বিক পাসের হার ৯৫.২৬ শতাংশ। ৯ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৯৫.৫৭%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫২২ জন। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৯৫.৪৯%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৮৭২ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৯২.৮৫%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭৭৫ জন।
ফলাফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা সেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘যারা কৃতকার্য হয়েছে, তাদেরকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং যারা হতে পারেনি, আমি মনে করি যে, একটা অস্বাভাবিক পরিবেশের মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে। কাজেই এখানে শিক্ষার্থীদের কোনো দোষ নেই।’
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য আপনারা সুযোগ করে দেবেন। এবং তাদেরকে আদর দিয়ে, ভালোবাসা দিয়েই- তাদের অকৃতকার্য হওয়া তাদের কোনো অপরাধ না। বিশ্বব্যাপী এই সমস্যাটা হচ্ছে। এটা শুধু বাংলাদেশ না। সারাবিশ্বেই এই করোনা মহামারীর কারণে একটা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।’ শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখব, তারা কারিগরি শিক্ষা ও গবেষণায় জোর দিয়েছে।’ শিক্ষার সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে অনার্স বা মাস্টার্স শেষ করে সনদ পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে অনার্স পর্যায়ে শর্ট কোর্সের ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের যোগ্যতানির্ভর কোর্স ও কম্পিউটারে দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
ফলাফল জানা যাবে যেভাবে:
শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে এবং এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানা যাবে। এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করা যাবে। বোর্ডগুলোর সমন্বিত ওয়েবসাইটে (www.educationboardresults.gov.bd) পরীক্ষার্থীর রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে। মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০২১ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসেই ফল পাওয়া যাবে।
আলিমের ফল পেতে ALIM লিখে স্পেস দিয়ে Mad লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০২১ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। কারিগরি বোর্ডের ক্ষেত্রে HSC লিখে স্পেস দিয়ে Tec লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০২১ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে ফলাফল জানানো হবে।
ফল পুনঃনিরীক্ষণ: প্রত্যাশিত ফল না পেলে আগামী ১৪ থেকে ২০ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে। পুনঃনিরীক্ষণ আবেদনের প্রক্রিয়া শিক্ষাবোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট ও রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের ওয়েবসাইটে জানা যাবে।
জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১,৮৯,১৬৯ জন: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫২২ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৭২ জন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৭৫ জন।
পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা: এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে আছে মেয়েরা। ফলাফলে দেখা যায়, এ বছর অংশগ্রহণকারী মোট ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৮১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ১৫ হাজার ৫১৬ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৫৬ হাজার ১৬৫ জন। তাদের মধ্যে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৮০ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৩৮ জন ছাত্রী পাস করেছেন। শতকরা হারে ৯৪ দশমিক ১৪ শতাংশ ছাত্র এবং ৯৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ ছাত্রী পাস করেছে।
পাসে সেরা যশোর, পিছিয়ে চট্টগ্রাম: এবারের এইচএসসিতে দেশসেরা হয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৯৮.১১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২০ হাজার ৮৭৮ জন। যশোর বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ জন তবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ১৬৩ জন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৬৫ হাজার ৭০৬ জন, ছাত্রী ছিলেন ৬২ হাজার ৪৫৭ জন। ছাত্রদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮ হাজার ৭০৭ জন, ছাত্রীদের মধ্যে ১২ হাজার ১৭১ জন।
এরপর পাসের হারে এগিয়ে কুমিল্লা। এ বোর্ডে ৯৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। এক লাখ ১৪ হাজার ৫৫৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন কুমিল্লা বোর্ড থেকে। এর মধ্যে পাস করেছেন এক লাখ ১১ হাজার ৬৮০। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ১৫৩ জন শিক্ষার্থী। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বোর্ড। রাজশাহী বোর্ডে এবার মোট পাসের হার ৯৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৫০ হাজার ৯১৮ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৮৯ জন।
পাসের হারে রাজশাহীর পরে অবস্থান ঢাকা বোর্ডের। ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পাসের হার ৯৬ দশমিক ২০ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯৫৭ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭৯ জন। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে বরিশালে বোর্ড। বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৬৬ হাজার ৭৯৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৩২ হাজার ৫৭ জন এবং ছাত্রী ৩৪ হাজার ৭৩৯ জন। এরমধ্যে পাস করেছেন ৬৩ হাজার ৯৬৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৩০ হাজার ২৮৯ জন আর ছাত্রী ৩৩ হাজার ৬৭৫ জন। প্রতিবারের মতো এবারও এই শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা পাস ও জিপিএর হারে এগিয়ে। গত বছর বোর্ডে পাসের হার ছিল শতভাগ। এ বছর কোনো কলেজ শতভাগ ফেল না থাকলেও ৫৬টি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শতভাগ রয়েছে।
তারপর রয়েছে ময়মনসিংহ বোর্ডের অবস্থান। এ বোর্ডে ৯৫ দশমিক ৭১ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৭০ হাজার ৯৮২ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৬ হাজার ২৫০ জন। ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশ পাসের হার নিয়ে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৩১ জন। এই বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৬ হাজার ৬৬১ জন। এর মধ্যে মোট উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৩ হাজার ১৯৩ জন। সিলেট বোর্ডে শতভাগ পাস করেছে ৫৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সিলেট পরের অবস্থানে রয়েছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে পাসের হার ৯২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। দিনাজপুর বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৮৬ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৪৮৪ জন। পাসের হার সবচেয়ে কম চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে পাসের হার ৮৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ হাজার ৭২০ জন।
সবাই পাস ১৯৩৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সারা দেশের ১ হাজার ৯৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার শতভাগ। আর ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি। শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ৭৩৬টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ১ হাজার ৩টি ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ১৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ৫টি শূন্য পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডে ২টি, দিনাজপুর বোর্ডে ২টি ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানেও রয়েছে ঢাকা বোর্ড। এ বোর্ডে ১৭৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে। এছাড়া যশোর বোর্ডে ১১৬, রাজশাহী বোর্ডে ১৬২, কুমিল্লা বোর্ডে ৭৫, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১৬, বরিশাল বোর্ডে ৫৬, সিলেট বোর্ডে ৫৩, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৩ ও ময়মনসিংহ বোর্ডে ২৯টি শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মাদরাসা বোর্ডে এক হাজার ৩টি এবং কারিগরি বোর্ডে ১৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে।
বিদেশের কেন্দ্রে পাস ৯৮.৮৮ শতাংশ: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার দেশের বাইরের আটটি কেন্দ্রে ৯৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। বিদেশের আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০২১ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া ২৬৭ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৬৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯২ জন।
মহামারির মধ্যে গত বছর পরীক্ষা হয়নি, মূল্যায়ন ফলে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। বিদেশের কেন্দ্রগুলোতে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬২ জন। সেই হিসেবে এবার বিদেশের কেন্দ্রে পাসের হার কমেছে ১ দশমিক ১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী বেড়েছে ৩০ জন।

