এ যেন সত্যি এক স্বপ্নের উড়ান ৷ উত্তরচব্বিশ পরগনার ভাগচাষির মেয়ে সোনালি মজুমদার এর দুবেলা দু’মুঠো অন্ন জুটত না৷ ভাগচাষি সন্যাসীর সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরাতো ৷ আর সেই সোনালি এখন পনেরো বছর বয়েস কাঁপিয়ে দিচ্ছে লস এঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন এর মঞ্চ ৷ আমেরিকার বিশ্ববিখ্যাত ব্যাড সালশা নাচের দলের সদস্য সোনালি ৷ ভাগচাষি সান্যাসীর দৈনিক রোজগার পঁচাত্তর টাকা ৷ আর সোনালি আয় করছে হাজার হাজার ডলার ৷ এই স্বপ্নের উড়ান শুরু ইন্ডিয়াস গট ট্যালেন্ট নামে এক টিভি রিয়ালিটি শো এর মাধ্যমে ৷ সেই শো তে সোনালির দক্ষতা তাকে পৌঁছে দেয় আমেরিকার গত ট্যালেন্ট শো তে ৷ সেখানে আদৃত হয় সোনালির নাচ ৷ আমেরিকার ব্যাড সালশা তুলে নেয় তাকে ৷ সোনালিকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি ৷ আমেরিকার হৃদয় কেড়েছে বাগদার মেয়েটি ৷ ভাগচাষি সন্যাসী শোনাচ্ছিলেন সোনালির ছোটবেলার কাহিনী ৷ বাগদার সালুয়াদারি গ্রামে আইসক্রিম ওয়ালা কাঠের গাড়ি নিয়ে আইসক্রিম ফেরি করতো গান গেয়ে ৷ গানের সঙ্গে সঙ্গে নেচে উঠতো সোনালি ৷ মেয়ের প্রতিভা দেখে তাকে গ্রামের নাচের শিক্ষিকা পিঙ্কি পালের কাছে নাচ শিখতে পাঠান সন্যাসী ও তাঁর স্ত্রী আল্পনা ৷ সেখান থেকে কলকাতার লেক গার্ডেন্স এ বিভাস চৌধুরীর হাতে ৷ বিভাস বাবু সোনালীকে নিয়ে যান ইন্ডিয়াস গট ট্যালেন্ট এর মঞ্চে ৷ বাকিটা ইতিহাস ৷

