শিরোনাম
শুক্র. জানু ৩০, ২০২৬

বাবরি মসজিদ ধ্বংস ‘পরিকল্পিত নয়,’ আদভানিসহ সব আসামি খালাস

বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়েছিল কিন্তু তা সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল না বলে উল্লেখ করেছেন ভারতের একটি আদালত। অভিযুক্তদের কারও বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণও মেলেনি। তাই বেকসুর খালাস পেলেন সবাই। আজ বুধবার ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌয়ে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার যাদব এই রায় দেন।

বিচারপতি বলেন, বিজেপির প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মসজিদ ভাঙার চক্রান্ত, পরিকল্পনা ও উসকানির যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তার উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলী মনোহর যোশি, উমা ভারতী, কল্যাণ সিংসহ ৩২ জনই বেকসুর খালাস পেলেন।

মোগল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মীর বাঁকি উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় ১৫২৮ সালে বাবরি মসজিদ তৈরি করেছিলেন। অভিযোগ, হিন্দু দেবতা রামচন্দ্রের মন্দির ভেঙে সেই কাঠামোর ওপর তৈরি হয়েছিল বাবরি মসজিদ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, রামচন্দ্র ওখানেই জন্মেছিলেন। সেই জন্মস্থানের ওপরেই গড়ে উঠেছিল রামের মন্দির। তা ভেঙে তৈরি হয় বাবরি মসজিদ। বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ রাম জন্মভূমি উদ্ধারে যে আন্দোলন শুরু করেছিল, তারই পরিণতিতে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়। দীর্ঘ ২৮ বছর পর সেই মামলায় মসজিদ ধ্বংস হওয়া প্রমাণিত হলেও কারা তার জন্য দায়ী তা প্রমাণিত হলো না। বুধবার রায় ঘোষণার পরেই অবসর নেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার যাদব।

বিচারপতি মোট পাঁচটি বিষয়ে ‘নিশ্চিত’ হয়ে এই রায় দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ১) মসজিদ ধ্বংস হলেও তা পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত প্রমাণিত হয়নি। ২) মামলায় যে ৩২ জন অভিযুক্ত ছিলেন তাঁদের কারও বিরুদ্ধেই পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ৩) অভিযোগের সমর্থনে সিবিআই যে সব অডিও ও ভিডিও টেপ দাখিল করেছে সেগুলোর সত্যাসত্য তদন্ত করা সম্ভব হয়নি। ৪) মসজিদের চূড়ায় উঠে যাঁরা তা ধূলিসাৎ করেছেন তাঁরা সমাজ বিরোধী। ৫) সেই সময় যে সব ভাষণ দেওয়া হচ্ছিল তা স্পষ্ট নয়। বিচারপতি আরও বলেছেন, অভিযুক্তরা ধ্বংসের বিরুদ্ধে ছিলেন। তাঁরা বাধাও দিয়েছিলেন।

এই রায়ের সময় আদালত কক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে হাজির হতে সব অভিযুক্তকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৯২ বছরের আদভানি, ৮৬ বছরের যোশি সহ কল্যাণ সিং, উমা ভারতী, সতীশ প্রধান ও রামমন্দির ট্রাস্টের প্রধান নৃত্য গোপাল দাসকে করোনাজনিত কারণে আদালতে হাজিরা থেকে ছাড় দেওয়া হয়। তাঁরা সবাই ভিডিও কনফারেন্স মারফত হাজিরা দেন।

বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি নিয়ে মূলত দুটি মামলা চলছিল। একটি ধ্বংস সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলা, অন্যটি জমির মালিকানা। দ্বিতীয় মামলার নিষ্পত্তি সুপ্রিম কোর্ট আগেই করে দিয়েছে। জমির মালিকানা পেয়েছে হিন্দু সংগঠন। মুসলমানদের মসজিদ তৈরির জন্য আলাদা স্থানে ৫ একর জমি দেওয়া হয়েছে। বুধবার নিম্ন আদালতে নিষ্পত্তি হলো ফৌজদারি মামলার। অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে সিবিআই যেসব ভিডিও ও অডিও জমা দিয়েছিল অভিযুক্তদের আইনজীবীরা সেগুলো বিকৃত বলে দাবি করেন। বিচারপতি সেই দাবি মেনে নেন। সাক্ষ্য প্রমাণ আইনের নিয়মকানুন সিবিআই মেনে চলেনি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ফলে বেকসুর খালাস হলেন ৩২ জন অভিযুক্তই।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *