পেগাসাস ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার পর থেকেই বিজেপির সঙ্গে জেডিইউ-র সম্পর্কে চিড় ধরেছে। এবার উত্তরপ্রদেশে নির্বাচন লড়ার ঘোষণা সেই ফাটলকে আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি জেডিইউর জাতীয় সভাপতি হয়েছেন রাজীব রঞ্জন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে সোমবার স্পষ্ট বলেন, আমরা উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। বিজেপি চাইলে ওদের সঙ্গে জোট করে নাহলক একাই। কিন্তু আমরা ২০২২ এ উত্তরপ্রদেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছি এটা নিশ্চিত। জেডিইউ‘র নেতার এরকম বক্তব্যের পরই বিজেপি-জেডিইউ সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই বক্তব্য সামনে আসার আগেই দু’টি বিষয়ে বিজেপির রাজনৈতিক লাইনের বাইরে হেঁটেছে নীতীশের দল।
প্রথমত পেগাসাস নিয়ে যখন সমস্ত বিজেপি বিরোধী দলগুলি সুর চওড়া করছে ঠিক তখনই পেগাসাস ইস্যুতে পরোক্ষে কেন্দ্রের বিরুদ্ধেই স্ট্যান্ড নিয়েছে জেডিইউ। নীতিশের দলও দাবি করেছে পেগাসাস নিয়ে সমস্ত তথ্য প্রমাণ সামনে আনুক কেন্দ্র। পাশাপাশি বর্ণ নির্ভর আদমশুমারী যার ঘোষিত বিরোধী বিজেপি সেই ‘কাস্ট সেনসাসের’ পক্ষে আওয়াজ তুলেছে জেডিইউ।
রাজীব রঞ্জন স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে, পেগাসাস, কাস্ট সেনসাস এবং জনসংখ্যা নীতি-ই তাদের মূল এজেন্ডা হবে। প্রসঙ্গত অসম, মধ্যপ্রদেশের পর সারা দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ বিল আনার প্রস্তুতি শুরু করেছে মোদী সরকার। এখানেও মোদীর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার নিজে জানিয়েছেন এভাবে দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
তবে শুধু এগুলিই নয় শেষ বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন থেকেই বিজেপি-জেডিইউ সম্পর্কে উষ্ণতা কমেছে। বিহারে জেডিইউর থেকে বেশি ভোট পেয়েও নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে বিজেপি। তবে এ নিয়ে বিজেপি সমর্থকদের থেকে বাঁকা কথা শুনতে হয়েছে জেডিইউ সমর্থকদের। অনেকেই বলছেন মোদীর মন্ত্রিসভায় চেয়েও মনমতো জায়গা পায়নি জেডিইউ। এরপর এই উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন ইস্যু! জেডিইউ – বিজেপি রাজনৈতিক সম্পর্কের ফাটলকে আরও চওড়া করল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজ্য রাজনীতিতে টানা তৃতীয়বার সাফল্য পাওয়ার পর এবার জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা শুরু করেছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতোই অনেকদিন ধরেই বিহারে সফল নীতীশ কুমার। ভারতেও বিভিন্ন প্রান্তে পরিচিত মুখ তিনি। তবে এখনও আঞ্চলিক দলের তকমা কাটাতে পারেনি জেডিইউ, পশ্চিমবঙ্গ, অসমে প্রার্থী দিয়েও ফিরতে হয়েছে খালি হাতেই। অরুণাচলপ্রদেশে সাময়িক জয় এলেও জেডিইউকে থামতে হয়েছে সেই বিজেপির কাছেই। তাই এবার উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনকে পাখির চোখ করে জেডিইউ-র আঞ্চলিক তকমা কাটাতে মরিয়া নীতীশ কুমার।

