শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

বিহার: কার নির্দেশে এমন গণনা, NDA জেতার নেপথ্যে কমিশন? গুরুতর অভিযোগ তেজস্বীর!

বিহারে তাঁদের জোট হেরে গেলেও গোটা নির্বাচনে তাঁকেই ম্যান অফ দ্য ম্যাচ বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। নিজের কাঁধে বিহারের সবচেয়ে বড় আসনপ্রাপ্ত দল করেছেন আরজেডি’কে। জোটকে পাইয়ে দিয়েছেন ১১০টি আসন। যদিও কানের পাশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার বেরিয়ে গিয়েছে লালু প্রসাদ যাদবের ছোট ছেলে তেজস্বী যাদবের। তবে, এই হারের নেপথ্যে অবশ্য ভোট কম পাওয়া নয়, বরং নির্বাচন কমিশনকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বিরোধীদের দলনেতা নির্বাচিত হওয়া তেজস্বী। ভোট পুনর্গণনার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে তেজস্বী কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি ও নীতীশজি আমাকে হারাতে সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্ত আরজেডি’কে একক বৃহত্তম দল হওয়া থেকে আটকাতে ব্যর্থ হয়েছেন তাঁরা সকলেই।’ বিহারে পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হতেই মহাজোটের জয়জয়কার পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু বেলা গড়াতেই এগিয়ে যায় এনডিএ। যদিও পোস্টাল ব্যালট গোনা নিয়ে গণনার দিনই গুরুতর অভিযোগ করেছিলেন মহাজোটের নেতারা। এদিন একধাপ এগিয়ে তেজস্বী বলেন, ‘বিহারের মানুষ মহাজোটকে চেয়েছে কিন্তু কমিশন এনডিএকে জিতিয়ে দিয়েছে। যে সমস্ত আসনে আমরা সামান্য ভোটে হেরেছি, সেগুলোতে ফের ভোট গণনার দাবি জানাচ্ছি।’

এদিন তেজস্বী যুক্তি দিয়ে বলেন, ১২ হাজারের চেয়ে সামান্য বেশি ভোট এসেছে এনডিএ’র ঝুলিতে। আর তাতেই ১৫ আসনে হার হয়েছে মহাজোটের। মাত্র ১২ হাজারের ব্যবধানে ১৫ আসন জয় কীভাবে সম্ভব, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কোথাও কোথাও ৮০০-৯০০ পোস্টাল ব্যালট বাতিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গতবারের চেয়ে আসন সামান্য কমলেও বুধবারের ফলে কামাল করেই দেখিয়েছেন তেজস্বী। বরং রাজনৈতিক মহল হতাশ কংগ্রেসকে নিয়ে। বলা হচ্ছে, তেজস্বীর মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে না পারার জন্যে দায়ী কংগ্রেসের খারাপ ফলই। সেই তুলনায় বামেদের স্ট্রাইক অনেক ভালো। এত আসন কংগ্রেসকে দেওয়া আদৌ ঠিক হয়নি, অভিমত বিশেষজ্ঞদের। রাজনীতিতে, বিশেষ করে ভোটের ময়দানে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য পাঁচ বছর মোটেও লম্বা সময় নয়। তার উপর বাবা জেলে। লোকসভা ভোটের ঘা খাওয়ার পর ফের সামনে বিজেপির মতো দেশ চালানো দল। উল্টো দিকে নীতীশ কুমারের মতো প্রাজ্ঞ নেতাও। শরিকরাও রথী-মহারথী, দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া। পারিবারিক বিরোধের ইতিহাস তো রয়েছেই। এমন পরিবেশে থেকেও মহাগঠবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়েননি তেজস্বী। সমানে সমানে লড়াই চালিয়েছেন। তারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে বুধবারের ফলে। এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার তাই বলেছেন, ‘একদিকে নরেন্দ্র মোদী। যিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী, গুজরাটের দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে নীতীশ কুমারের মতো অভিজ্ঞ মুখ্যমন্ত্রী। আর উল্টো দিকে অনভিজ্ঞ তেজস্বী। তা সত্ত্বেও অসাধারণ লড়াই করেছে।’ সেই লড়াই যে এখনই ছাড়ছেন না, বৃহস্পতিবারই স্পষ্ট করে দিলেন লালুর ছোট পুত্র।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *