‘ভোট কাটোয়া’ এআইএমআইএম এর জন্যই বিহারে ক্ষমতায় এসেছে এনডিএ জোট! আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দলের জন্যই ফের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছেন জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমার! কিছুদিন আগে হয়ে যাওয়া বিহার বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই এই অভিযোগ করে আসছে আরজেডি-সহ প্রায় সমস্ত বিরোধী দল। এবার নীতীশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে সরাসরি দলবদলের জল্পনা উসকে দিলেন এআইএমআইএমের পাঁচ বিধায়ক। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে বিহারের রাজনৈতিক মহলে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিহারের এআইএমআইএম সভাপতি আখতার উল-ইমানের নেতৃ্ত্বে বাকি চার বিধায়ক মহম্মদ আজহার আসিফ, শাহনওয়াজ আলম, সৈয়দ রুকুনুউদ্দিন ও আজহার নায়মি পাটনার এক নম্বর আনে মার্গে অবস্থিত নীতীশ কুমারের বাড়িতে যান। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও সেখানে উপস্থিত থাকা বিহারের অপর মন্ত্রী বিজয় চৌধুরীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করেন। আর তারপরই শুরু হয় জল্পনা। হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দলের পাঁচ বিধায়ক আচমকা জেডিইউ প্রধান ও বিহারের এনডিএ জোটের নেতা নীতীশ কুমারের সঙ্গে কেন দেখা করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিহারে ভোটে দাঁড়িয়ে পাঁচটি আসনে জেতার পর পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন বৃদ্ধিতে জোর দিয়েছিল এআইএমআইএম।
বিধানসভা নির্বাচনে একাধিক জেলায় প্রার্থী দেবে বলেই ঘোষণা করেছিল। আর এর ফলে সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ বসিয়ে যেভাবে বিহারে তারা এনডিএ তথা বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গও সেই খেলা খেলতে চাইছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। যদিও প্রথম থেকেই তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছিলেন এআইএমআইএম প্রধান। কিন্তু বিহারের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের সংগঠনে প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
যদিও দলবদলের জল্পনা ভিত্তিহীন বলে দাবি করে সীমাচলম অঞ্চলের ওই বিধায়করা নিজেদের এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন বলে জানান এআইএমআইএম মহম্মদ আদিল হাসান। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সীমাচলম অঞ্চলের ওই বিধায়করা নিজেদের বিধানসভা এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন। তাছাড়া নীতীশ কুমারের সঙ্গে আমাদের কোনওদিনই বিরোধ ছিল না। আমাদের নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সবসময়ই বলে এসেছেন যে নীতীশ কুমার বিজেপির সঙ্গ ছাড়লেই জেডিইউর সঙ্গে তিনি হাত মেলাতে রাজি। তাই নীতীশ কুমারের সঙ্গে আগামীদিনেও আমরা দেখা করব।’

