শিরোনাম
মঙ্গল. মার্চ ১০, ২০২৬

বিহার বিধানসভা থেকে জোর করে বার করা হল বিরোধী বিধায়কদের, পাল্টা তোপ তেজস্বীর

মঙ্গলবার বিহার বিধানসভায় একটি বিল পেশ করার সময় ধুন্ধুমার বাধে। বিলটির নাম বিহার স্পেশাল আর্মড পুলিশ অ্যাক্ট ২০২১। আরজেডি ও অন্যান্য বিরোধী দলের অভিযোগ, ওই বিলে পুলিশের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, বিলটি নাকচ করতে হবে। বিরোধীদের হট্টগোলে বিধানসভার অধিবেশন পাঁচবার স্থগিত রাখতে হয়। পরে কয়েকজন বিধায়ককে জোর করে বিধানসভা থেকে বার করে দেওয়া হয়। বুধবার ওই ঘটনার উল্লেখ করে টুইট করেছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। তেজস্বী লিখেছেন, ‘নিরস্ত্র বিধায়কদের বিধানসভার ভেতরে মারধর করা হয়েছে।’ টুইটারে কয়েকটি ছবি শেয়ার করেছেন আরজেডি নেতা। তাতে দেখা যাচ্ছে, তাঁর দলের এক নেতাকে স্ট্রেচারে শুইয়ে বিধানসভার বাইরে আনা হচ্ছে। তেজস্বী বলেন, পুলিশ আর স্থানীয় গুণ্ডারা বিধানসভার ভেতরে ওই বিধায়ককে মারধর করেছে। তেজস্বী টুইটারে লিখেছেন, ‘আমাদের বিধায়ক সতীশ দাস বৈপ্লবিক ভূমিকা নিয়েছিলেন। তিনি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তিনি নীতীশ কুমারের গুন্ডামির শিকার হয়েছেন। তাঁর মাথায় আঘাত লেগেছে। এই ছবিই তার প্রমাণ।’

মঙ্গলবার মহিলা রক্ষীরা কয়েকজন মহিলা বিধায়ককেও বিধানসভা থেকে বার করে দেন। বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবী টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তাতে দেখা যায়, কয়েকজন মহিলা রক্ষী টেনে হিঁচড়ে মহিলা বিধায়কদের বার করে আনছেন। রাবড়ি দেবী টুইটারে লিখেছেন, ‘তোমরা যে আগুন জ্বালিয়েছ, তা তোমাদের সরকারকে পুড়িয়ে ছাই করে দেবে। বিহার আজকের দিনটা মনে রাখবে।’

তেজস্বী টুইটারে লিখেছেন, ‘বিহার সরকার একটি কালা কানুন করার চেষ্টায় আছে। তারা পুলিশের হাতে পুরো ক্ষমতা তুলে দিতে চায়। তাহলে নীতীশ কুমারের একনায়কতন্ত্রী নীতিগুলি রূপায়ণ করতে সুবিধা হবে।’ এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট নিয়ে নীতীশ সরকারের একটি আদেশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীরা। নীতীশ কুমার রাজ্যের ইকনমিক অফেন্সেস উইং-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ সরকারের বিরুদ্ধে কটু কথা বললে তাকে যেন সাইবার ক্রাইম দমন শাখা গ্রেফতার করে। রাজ্য সরকারের প্রতিটি দফতরকে বলা হয়েছিল, কেউ মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ বা অফিসারদের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটূক্তি করলে সঙ্গে সঙ্গে যেন সাইবার ক্রাইম দমন শাখাকে জানানো হয়। তেজস্বী মুখ্যমন্ত্রীকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি টুইটারে লেখেন, ‘বিহারে কারও প্রতিবাদ করার অধিকার নেই। কেউ সরকারের বিরুদ্ধে লিখলে তার জেল হয়। বিরোধী নেতাদের কাছেও কেউ অভিযোগ জানাতে পারেন না।’ পরে তেজস্বী লিখেছেন, ‘নীতীশজি, আমরা জানি আপনি খুব ক্লান্ত। কিন্তু আপনার লজ্জা তো থাকা উচিত।’ দ্য ওয়াল ব্যুরো

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *