বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নীতির পক্ষে জোর সওয়াল করছে। উত্তরপ্রদেশ ল কমিশন জনসংখ্যা নীতির খসড়া প্রকাশ করেছে। দুই সন্তান বিধি চালুর সুপারিশ করেছে। বিজেপি শাসিত অসমও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে দুই সন্তান নীতি বাধ্যতামূলক করতে চাইছে। কিন্তু বিজেপি জোট এনডিএর শরিক বিহারে ক্ষমতাসীন জেডিইউ পরিষ্কার জানিয়ে দিল, দেশের জনসংখ্যা ১৩০ কোটি থেকে কমাতে শুধু আইন করে লাভ হবে না। মহিলাদের শিক্ষিত করে তুলেই একমাত্র বদল ঘটানো সম্ভব। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা এনডিও সুপ্রিমো নীতীশ কুমার দাবির সমর্থনে সওয়াল করেন, মহিলারা শিক্ষিত হলেই সচেতন হবেন। এর ফলে আপনা থেকেই জনসংখ্যা কমবে। বিভিন্ন সমীক্ষা, গবেষণার উল্লেখ করে নীতীশ বলেন, যে দম্পতিদের মধ্যে স্ত্রী ক্লাস টেন পাশ, তাদের গড়ে সন্তান দুটি। যেক্ষেত্রে দম্পতিদের মধ্যে স্ত্রী বারো ক্লাস পাশ, তাদের গড়ে সন্তান ১.৬। এটা থেকেই প্রমাণিত, শিক্ষা জনসংখ্যা নির্ধারণে অবশ্যই একটা বড় ভূমিকা নেয়।
রবিবার লালুপ্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল উত্তরপ্রদেশের জনসংখ্যা বিল, ২০২১ কে সম্পূর্ণ নির্বোধ আখ্যা দেয়। লালুপ্রসাদ যাদবের দলের প্রবীণ নেতা শিবানন্দ তেওয়ারি বলেন, ওরা ভাবছে, মুসলিমরা বেশি বাচ্চার জন্ম দিচ্ছে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, জম্মু ও কাশ্মীরে মুসলিম জনসংখ্যা ৬৮ শতাংশ। সেখানে মুসলিমদের প্রজনন হার ১.৪ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের কম। লাক্ষাদ্বীপে মুসলিম জনসংখ্যা ৯৬শতাংশ। সেখানে মুসলিম ফার্টিলিটি রেট ১.৮ শতাংশ। যেসব এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটেছে, সেখানে স্বাভাবিক ভাবেই প্রজনন হার কমে যায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মত, বিহারের জাতপাত সমীকরণ মাথায় রেখেই আগামীদিনের রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার পরিপ্রেক্ষিতে বেসুরো নীতীশকুমারের দল।
উত্তরপ্রদেশ জনসংখ্যা বিলে সরকারি কর্মী, সাধারণ লোকজন, গরিবিরেখার নীচে বসবাসকারী দম্পতিদের ২টি বা একটি সন্তান থাকলে অতিরিক্ত নানা সুযোগসুবিধার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। যারা ২ সন্তান নীতি লঙ্ঘন করবে, তাদের সরকারি চাকরি, স্থানীয় ভোটে লড়ার অধিকার থাকবে না। তবে যাদের বিলটি পাশ হওয়ার আগেই দুটির বেশি সন্তান আছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে না। দ্য ওয়াল ব্যুরো

