দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেআইনি কয়লা খাদান থেকে কয়লা তোলা এবং তা অবৈধভাবে পাচার নিয়ে ২০০৯ সালে হাইকোর্টে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ১২ বছর পর সেই মামলাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে তীব্র ভর্ত্সনা করল কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দালের বেঞ্চ। এদিন আদালত এই মামলায় নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ১১ নভেম্বর আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সুধীর কুমার নীলকান্তমকে সশরীরে আদালতে হাজিরা দিতে হবে। এদিন আদালতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজিরা দিয়েছিলেন আইজি পশ্চিমাঞ্চল।
তিনি আদালতে বলেন, যে এলাকা নিয়ে অভিযোগ তা তাঁর এক্তিয়ার ভুক্ত নয়। ফলে তিনি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবেন না। এদিন আদালত, ইসিএলের তীব্র সমালোচনা করেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বলে, এত দিন ধরে একটা মামলা চলছে। ইসিএল কী করছে? তারা কি নাকে সরষের তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছে? কেন তারা স্থানীয় থানায় এফআইআর করেনি। কয়লা জাতীয় সম্পদ। তা লুঠ হচ্ছে আর আপনারা দেখছেন? জবাবে ইসিএলের আইনজীবী আদালতে বলেন, ২০১৫ সালে ইসিএল একটি রিপোর্ট দিয়েছিল রাজ্য সরকারকে। এরপরেই নবান্নের দিকে ভর্ত্সনা ধেয়ে আসে। আদালত বলে, ইসিএল যে সময়ে রিপোর্ট দিয়েছে বলছে তারপর ছ’বছর কেটে গিয়েছে। প্রশাসন কী করছে? এরপরেই আগামী ১১ নভেম্বর আসানসোল-দুর্গাপুরের সিপিকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। বাম আমলেও বেআইনি কয়লা খাদান নিয়ে বিরোধীদের কম অভিযোগ ছিল না।
শোনা যায় সিপিএমের বর্ধমান জেলা সম্পাদকমণ্ডলীতে এক জনের দায়িত্বই ছিল কয়লা খাদান দেখা। এক সাংসদের বিরুদ্ধেও বিরোধীরা অভিযোগ তুলতেন। তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মঞ্চে একবার কালে সিং নামের এক কয়লা মাফিয়ার উপস্থিতি নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। সেইসময়ে হওয়া জনস্বার্থ মামলায় এবার ভর্ত্সনার মুখে পড়তে হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনকে।

