শিরোনাম
শনি. ফেব্রু ২১, ২০২৬

ভারত-পাকিস্তানের রাজনীতিকদের দিকে বল ঠেলে দিয়েছে সেনাবাহিনী

সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অস্ত্রবিরতি হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন এ ইস্যুতে অচলাবস্থার মধ্যে একটি আশার আলো দেখা দিয়েছে। তবে যদি উভয় পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা নিয়ে আন্তরিক ও বর্তমান প্রচেষ্টা অব্যাহত না থাকে তাহলে সেই আশার আলো নিভে যেতে পারে। পাকিস্তানের অনলাইন দ্য নিউজে প্রকাশিত এক মতামত কলামে এসব কথা লিখেছেন এরশাদ মাহমুদ। তিনি আরো বলেছেন, নিয়ন্ত্রণ রেখায় শত্রুতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য, শান্তি নিশ্চিত করার জন্য উভয় দেশের সামরিক নেতৃত্ব অসীম সাহস ও ‘স্টেটসম্যানশিপ’-এর মতো সমঝোতায় এসেছেন। এখন বাকি কাজ রাজনৈতিক নেতৃত্বের। তারা এটাকে রাজনৈতিক বৈধতা দেয়ার জন্য দায়িত্বসম্পন্ন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী একটি সমাধান হতে পারে।

শুধু তা-ই নয়, একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরসহ বড় বড় বিরোধের আরো স্পষ্ট অগ্রগতির বল রাজনীতিকদের কাছে গড়িয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী। তাদের অস্ত্রবিরতির ঘোষণা একটি নাটকীয় বিষয়। জম্মু ও কাশ্মীর সংকট নিয়ে গত সাত দশক ধরে বিরোধে জড়িয়ে আছে এই দুটি দেশ। অস্ত্রবিরতির ঘোষণা উভয় দেশের সরকারের জন্য একটি কৌশল হতে পারে। কিন্তু এখনও এর রোডম্যাপ কি হবে তা স্পষ্ট নয়। কারণ, ইসলামাবাদ এবং নয়া দিল্লির মধ্যে পর্দার আড়ালে অথবা কূটনৈতিক সংলাপ এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি।

এক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে ভৌগলিক কৌশল থেকে শুরু করে ভূ-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পাকিস্তান পরিবর্তনীয় চিন্তা করেছে। এ সময়ে পাকিস্তান অগ্রাধিকার দিয়েছে শান্তি, সংযুক্তি এবং অর্থনৈতিক উন্নতিকে। প্রতিবেশীদের প্রতি পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি কি তা ফুটে উঠেছে আফগানিস্তানে শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সমর্থন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানদের মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তির আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়ার মধ্য দিয়ে। আফগানিস্তানকে ভূ-অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র বানানোর জন্য আফগানিস্তানে উল্লেখযোগ্য শান্তি স্থাপনের প্রতি পূর্ণাঙ্গ সমর্থন রয়েছে পাকিস্তানের। এই উদ্যোগের ফলে পুরো অঞ্চল উপকৃত হবে। এই কৌশল কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটা ন্যায়সঙ্গত। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের বেসামরিক এবং সামরিক নেতৃত্ব গত কয়েক সপ্তাহে ভারতের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং সেনাপ্রধান জেনারেল জাভেদ কমর বাজওয়া সর্বসম্মতভাবে বর্ণনা করেছেন যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় রচনা করতে চায় পাকিস্তান।

কাশ্মীর নিয়ে যে লড়াই তাতে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক পূর্ণাঙ্গভাবে স্বাভাবিক হবে বলে মনে হয় না। কারণ, এ নিয়ে অনেক আলোচনা এবং সামিট হয়েছে। কাশ্মীরে পাকিস্তানের জন্য ‘রেডলাইন’ সম্পর্কে সুষ্ঠু মূল্যায়ন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পাকিস্তান কাশ্মীর নিয়ে বিরোধে একটি সম্মানজনক এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। বর্তমানে কাশ্মীরে যে ২০১৯ সালের ৫ই আগস্ট কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে তাকে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে নিয়েছে ভারত, তা সম্ভবত গ্রহণযোগ্য হবে না। বর্তমানে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর এবং আজাদ জম্মু-কাশ্মীরে বসবাস করছেন প্রায় দেড় কোটি মাুনষ। কাশ্মীর ইস্যুতে উপযুক্ত সমাধানে যদি ভারত লিপ্ত না হয় তাহলে বিষয়টিতে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে বলে মনে হয় না। যদি কাশ্মীরকে বড় একটি অংশ হিসেবে দেখা না হয় তাহলে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের শান্তি সম্ভবত কোনো সরকারই আনতে পারবে না। ভারতের অনেক ভাষ্যকার এর বিপরীতটা দেখে থাকেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *