ঋদি হক, ঢাকা: বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়। আর জিরো পয়েন্ট হচ্ছে ‘বাংলাবান্ধা’। হিমালয়ের কোলঘেঁষা মহানন্দা নদীর তীরে ১৯৯৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী প্রায় ১০ একর জমিতে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর গড়ে তোলা হয়। বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট থেকে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার। পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মহানন্দা। অক্টোবরের শেষ বিকেলে হিমালয়ের আবহাওয়া অনুভূত হয়।
পঞ্চগড় শহর থেকে বাংলাবান্ধার দূরত্ব বড়োজোর ৬০ কিলোমিটার। পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে হাসিনা সরকার। এই পরিকল্পনা থেকেই রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ইতিপূর্বে বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট পরিদর্শন করেছেন। এই রেলপথটি নির্মিত হলে ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ আরও দৃঢ় হবে এবং ভুটান ও নেপালও এই রেলপথের সুবিধা নিতে পারবে।
চতুর্দেশীয় বাণিজ্যের পতাকা উড়বে বাংলাবান্ধায়। এখানে গড়ে ওঠবে শিল্পকারখানা। সম্ভাবনাময় ব্যাবসা-বাণিজ্যের ভাবনা থেকেই ফের শুক্রবার বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাবান্ধা পরিদর্শন করলেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শন শেষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রেলপথমন্ত্রী বলেছেন, চতুর্দেশীয় ব্যাবসা-বাণিজ্যের একমাত্র স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা। সরকার এর গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারতের সঙ্গে সরাসরি রেল সংযোগের জন্য পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা নতুন রেলপথ নির্মাণ করবে।
শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, দেশের সম্ভাবনাময় এলাকায় শিল্পায়ন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে চলেছে বর্তমান সরকার। যেখানে যে শিল্পের সম্ভাবনা সেখানে সেই ধরণের শিল্পস্থাপনায় কাজ করছে শিল্প মন্ত্রক। কর্মসংস্থান ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সম্ভাবতা যাচাই করে সরকার শিল্প স্থাপন করে যাচ্ছে।
বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকেই বাংলাদেশের সীমানা শুরু। এখানে রয়েছে কংক্রিটের তৈরি বিশালাকৃতির একটি জিরো। এখানকার চারপাশ সবুজ এবং পরিচ্ছন্ন। বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট ফটকের কাছে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের জাতীয় পতাকা টাঙানো থাকে।
বাংলাবান্ধা থেকে শিলিগুড়ি শহরের দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার এবং দার্জিলিংয়ের দূরত্ব ৭৭ কিলোমিটার। বাংলাবান্ধা থেকে নেপালের কাকরভিটা সীমান্তের দূরত্ব মাত্র ৪০ কিলোমিটার। পর্যটকেরা বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভুটান যাতায়াত করেন। এ পথে ভারতের সিকিমের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা বিআরটিসি’র বাস চলাচল করে থাকে। পঞ্চগড়ে চা-বাগানের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পকারখানাও গড়ে উঠতে শুরু করেছে। রেলপথ সচল হলে এখানে ব্যাবসা-বাণিজ্যের যজ্ঞ শুরু হবে। মোঃ মজাহারুল হক প্রধান এমপি, জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার মোঃ ইউসুফ আলী ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট ও ব্যবসায়ীরা পরিদর্শন কালে উপস্থিত ছিলেন।

