শিরোনাম
শুক্র. ফেব্রু ২০, ২০২৬

ভোলায় গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

ভোলায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষে নিহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুর রহিমের আত্মার মাগফিরাত ও জেলা ছাত্রদল সভাপতি মো. নুরে আলমের সুস্থ্যতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার নিহত আবদুর রহিমের জানাজায় জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকলেও দোয়া মাহফিলে জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর ও যুগ্ম সম্পাদক মো. কবির হোসেন ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না।

এদিকে মামলা হওয়ার পর থেকে গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে বিএনপির এক নেতা জানান, গ্রেফতারের ভয়ে মামলায় নাম থাকা নেতারা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এই দোয়া মাহফিলে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

দোয়া মাহফিলে জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর বলেন, ভোলার রাজনীতির ইতিহাসে এরকম ন্যক্কারজনক ঘটনা কোনোদিন ঘটেনি। বিগত দিনে ভোলা জেলা বিএনপি বহু রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেছে কিন্তু কোনো দিন এ রকম ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের সঙ্গে সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। কিন্তু বিএনপি কখনো সীমালঙ্ঘন করেনি। আমরা সব সময় দায়িত্বশীল আচরণ করে থাকি।

আবদুর রহিম হত্যায় বিএনপির পক্ষ থেকে একটি মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা এ ঘটনায় একটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। জানি বিচার হবে না, তবুও আমরা তাদের বাধ্য করব। এ সরকারই এ হত্যার বিচার করতে হবে।

আহত জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলমের অবস্থা শংকটাপন্ন উল্লেখ করে গোলাম নবী আলমগীর বলেন, নুরে আলম লাইফ সপোর্টে আছেন। তার জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত তার মাথায় অস্ত্রপাচার করা সম্ভব না বলে জানিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসক। তিনি বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। এখন আমাদের দোয়া করা ছাড়াও কোনো আর উপায় নেই। তাই আমরা এ দোয়ার আয়োজন করেছি। আগামীকাল-পরশু ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা ভোলায় আসবেন বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন ভোলা আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি আহম্মেদ উল্লাহ ফকি।

এদিকে ঢাকার কমপোর্ট হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলমের বড়ভাই মো. আবুল কাশেম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানান, নুরে আলমের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকরা ধারণা করেছিলেন তার অবস্থা উন্নতির দিকে যাবে। কিন্তু তা না হয়ে বরং অবনতির দিকে যাচ্ছে। তাই এখন তার বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহই একমাত্র ভরসা।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় ভোলা সদর থানার উপ-পরিদর্শক মো. জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে দুইটি মামলা করেছেন। একটি পুলিশের ওপর হামলা, অপরটি হত্যা মামলা। পুলিশের ওপর হামলা মামলায় ৭১ জনের নামোল্লেখ ও ২৫০-৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। নামোল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন ৯ জন। ৯ জনের মধ্যে ঘটনার দিন ঘটনাস্থল থেকে আটক হওয়া ৫ জনকেও এ মামলায় আসামি দেখানো হয়েছে।

এরা হলেন- সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের মো. রিপন, রাজাপুর ইউনিয়নের মো. রিয়াজুল ইসলাম, ধনিয়া ইউনিয়নের মো. মাকসুদ ওরফে মাসুদ, চরনোয়াবাদ এলাকার মো. আজমির, রাজাপুর ইউনিয়নের মো. নকিব। এদের সঙ্গে সংঘর্ষের দিন রাতে দৌলতখান উপজেলা থেকে আটক হওয়া দৌলতখান পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলমগীর ও বোরাহানউদ্দিন উপজেলা থেকে আটক হওয়া বোরহানউদ্দিন পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান কবির, যুগ্ম-সম্পাদক সাইদুর রহমান লিটন, মো. মোরশেদকেও আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের দায়ের করা এ মামলায় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আসামি করা হলেও জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীরকে আসামি করা হয়নি।

ভোলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, দুইটি মামলার মধ্যে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় এ পর্যন্ত ১০ জনেক গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *