শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

মণিপুরের পর মেঘালয়: ভারত অধিকৃত রাজ্যগুলোতে অশান্তির আগুন

  • বাংলাদেশেও ছড়াতে পারে এই আগুন
  • সরকার পদক্ষেপ না নিলে আমরা নেব, আদালতের হুঁশিয়ারি

আসাম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অধিকৃত উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের রাজ্যগুলিতে অশান্তির আগুণ জ্বলছে। মণিপুরের পর এবার অশান্তি ছড়িয়ে পড়ছে মেঘালয় রাজ্যে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার দফতর ঘেরাও করে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচ নিরাপত্তারক্ষী গুরুতর আহত হয়েছেন। তুরাকে রাজ্যের শীতকালীন রাজধানী করতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছে গারো পাহাড়ের কয়েকটি গোষ্ঠী। তুরায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। শিলং থেকে রাজধানী তুরায় সরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন। সোমবার যা রূপ নেয় সহিংসতায়। ঘটনার সময় তুরায় নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করছিলেন কনরাড সাংমা। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর লক্ষ্য করে এক দল বিক্ষোভকারী পাথর ছুড়তে থাকেন। মুখ্যমন্ত্রী দীর্ঘক্ষণ ধরে তার দফতরে আটকে ছিলেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। এদিকে টানা ৮২ দিন ধরে অগ্নিগর্ভ মণিপুর। ভয়ঙ্কর জাতি দাঙ্গায় বিদীর্ণ মণিপুরে হত দেড়শ’রও বেশি। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। ইতিমধ্যে মণিপুর আন্দোলনের ছায়া পড়েছে মেঘালয়েও। বেশ কিছু মেইতেই পরিবারের বিরুদ্ধে অনুশাসন জারি হওয়ার পর তারা পাশের রাজ্য আসামে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

বাংলাদেশেও ছড়াতে পারে এই আগুন

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দুরত্বের চেয়েও মেঘালয়ের দুরত্ব অনেক কম। ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দুরত্ব যেখানে ৩৯৭ কিলোমিটার, সেখানে ঢাকা থেকে মেঘালযয়ের দুরত্ব মাত্র ৩১৭ কিলোমিটার। অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে মণিপুরের দুরত্ব মাত্র ৬০১ কিলোমিটার। কাজেই মণিপুর ও মেঘালয়ের এই আগুন বাংলাদেশেও ছড়াতে পারে। প্রশ্ন হলো ভারত অধিকৃত রাজ্যগুলোতে অশান্তির আগুণ জ্বলতে দেখে কানের কাছের বাংলাদেশকি শান্তিতে ঘুমাতে পারে? বাংলাদেশিরা কীভাবে শান্তিতে ঘুমাবে? ভারত অধিকৃত রাজ্যগুলোতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নারী নির্যাতন চলছে। সন্ত্রাস, নির্যাতন, নিপীড়ন ইত্যাদি ভয়াবহ ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। নিরীহ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ভারত রাষ্ট্র তথা দিল্লীর শাসকরা অবস্থান নিয়েছে। মণিপুরের ঘটনা দিল্লীর মাথা হেঁট করেনি শুধু, গোটা বিশ্বে আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের সমালোচনা চলছে। সভ্য দেশ এটা! বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও-এর নমুনা এটা? অন্তত সুধী সমাজ, মানবিক জ্ঞান থাকা সমাজ একথা মানতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত হিংসার আগুনে জ্বলে মহিলাদের নগ্ন করে ঘোরানো হলো মণিপুরে! নারী নির্যাতনের ভিডিও গোটা বিশ্বে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। নেটিজেনরা বলছেন, ঘটনা পুরো সাজানো। একদম ইচ্ছাকৃতভাবে মহিলাদের এইভাবে চূড়ান্ত হেনস্থা করা হয়েছে। কুকি সম্প্রদায়ের ২ জন মহিলাকে নগ্ন করে অত্যাচার করা হয়েছে। মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় এই জঘন্য ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে, তার এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে পুলিশ স্টেশন রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, পুলিশ কেনো নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে? তাসের দেশে বাস করছি! যেখানে সব লোক দেখানো!

সরকার পদক্ষেপ না নিলে আমরা নেব’, আদালতের কড়া হুঁশিয়ারি

মণিপুরের ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই ঘটনায়, অসন্তুষ্ট প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। সরকার পদক্ষেপ না করলে, স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। ঘটনার রিপোর্ট চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মণিপুরে দুই মহিলাকে নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সরকারকে এই বিষয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এবং এর পাশাপাশি রাজ্যে মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটা শীঘ্রই আদালতকে জানানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেছেন, “গতকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলি নিয়ে আমরা খুব গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা আমাদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসে গেছে। এই ঘটনা অগ্রহণযোগ্য।” তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে সেই বিষয়ে আদালতকে অবহিত করা উচিত, যাতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের সহিংসতার জন্য মামলা দায়ের করা যায়। মিডিয়া এবং ভিজ্যুয়ালে যে দৃশ্য দেখানো হচ্ছে, তা গভীরভাবে সংবিধানকে লঙ্ঘন করে।”

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *