শিরোনাম
শুক্র. জানু ৩০, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে বছরে দেড় হাজারের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

কমিউনিটি নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশি কর্মীদের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। প্রতি বছর এসব দেশে দেড় হাজারের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক মারা যায়। যাদের অর্ধেকের বেশি মৃত্যুর কারণ অজ্ঞাতই থেকে যায় বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর একটি গ্রুপ।

‘ভাইটাল সাইনস : দ্য ডেথস অব মাইগ্রেন্টস ইন দ্য গালফ’ শীর্ষক প্রতিবেদনেটিতে বলা হয়েছে, প্রতি বছর উপসাগরীয় দেশগুলোতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক মারা যায়। কিন্তু এত বেশি প্রবাসী মৃত্যুর কারণ তদন্ত করা হয় না। এসব মৃত্যুর অর্ধেকের বেশিরও কারণ অজ্ঞাতই থেকে যায়।

অধিকাংশ মৃত্যুকেই ‘প্রাকৃতিক কারণ’ কিংবা ‘হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে’ লেখা হয়। কিন্তু এরপরও এতো অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যু কেন হচ্ছে সে বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো।

যৌথ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে স্বল্প বেতনের অভিবাসী শ্রমিকরা গরম ও আর্দ্রতা, বায়ুদূষণ, অতিরিক্ত কাজ এবং নিপীড়নমূলক কাজের পরিস্থিতি, দুর্বল কর্মপরিবেশ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার কারণে মানসিক চাপ ও উচ্চ রক্তচাপসহ নানাবিধ স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে প্রবাসীরা। এছাড়া প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় ধরে কায়িক শ্রম অঙ্গের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুর ব্যাপারে খুব সীমিত তথ্য পাওয়া যায় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

মারা যাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের ৯০ শতাংশ দেহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফিরেছে। এসব অভিবাসীর মৃত্যুর কারণ কিংবা মৃতদেহ কিভাবে এসেছে সে সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া মৃতের সংখ্যার ব্যাপারে শাহজালালের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সরকারের দেওয়া তথ্যের মধ্যেও কিছু গড়মিল রয়েছে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিগত ২০১৬ সালে ওমান, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে দেড় হাজারের বেশি শ্রমিকের মৃতদেহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে এসেছে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে এই সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়। অবশ্য ২০২১ সালে এই সংখ্যা কমে দুই হাজারের নিচে চলে আসে। এসব শ্রমিকের অধিকাংশই সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *