শিরোনাম
বৃহঃ. জানু ২২, ২০২৬

মমতার অভিযোগ নস্যাত্‍ করে বিবৃতি ডিভিসির, জল ছাড়া হয় রাজ্যকে জানিয়েই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরামবাগ থেকে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক—বাংলার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দিনভর দফায় দফায় কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের (DVC) সমালোচনায় মুখর হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সন্ধে গড়াতেই প্রেস বিবৃতি জারি করে ডিভিসি মমতার বক্তব্যকে খারিজ করে দিল। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিল, নিয়ম মেনে রাজ্য সরকারকে জল ছাড়ার ব্যাপারে অবগত করা হয়েছিল এবং বাংলার প্রশাসনকে সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছিল, বন্যা হতে পারে। এদিন ডিভিসি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, কবে, কখন, কতটা পরিমাণ জল ছাড়া হবে তা ডিভিসি ঠিক করে না। ডিভিসির অধীনস্থ একটি কমিটি রয়েছে। যার পোশাকি নাম দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেশন কমিটি। তারা যে পরামর্শ দেয় ডিভিসিকে সেই মতোই জল ছাড়া হয় ড্যাম থেকে। ওই কমিটিতে কারা আছেন? তিন সদস্যের ওই কমিটির মাথায় রয়েছেন, কেন্দ্রীয় জল কমিশনের একজন সদস্য। সেই সঙ্গে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড সরকারের সেচ দফতরের প্রধান ইঞ্জিনিয়াররা। ডিভিসি তাদের বিবৃতিতে এও বলেছে, বিভিন্ন ড্যামের জল ধারণ ক্ষমতা দেখে নিয়েই জল ছাড়ার বিষয়টি নির্ধারিত হয়।

ডিভিসির আরও দাবি, জল ছাড়ার আগে বন্যা নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে। সরাসরি বার্তা পাঠানো হয়েছিল দুই বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার জেলাশাসকদের। সেইসঙ্গে জানানো হয়েছিল সেচ দফতরের দুর্গাপুরের প্রধান ইঞ্জিনিয়ারকেও। দুর্গাপুরের প্রধান ইঞ্জিনিয়ারকেই বলা হয়েছিল, বন্যা সতর্কতার বার্তা হুগলি, হাওড়ার জেলাশাসক ও বিভিন্ন এসডিও, এডিএম ও বিডিওদের কাছে পৌঁছে দিতে। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিভিসির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেছিলেন, ‘ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টি হলেই সেই জল বাংলায় ছেড়ে দিচ্ছে। না জানিয়ে জল ছাড়ছে। এটা ক্রাইম ছাড়া কী হতে পারে?’ মমতা আরও বলেন, ‘ডিভিসি প্রতিবার জল ছেড়ে আমাদের ডোবাচ্ছে। তবে সাড়ে তিন লক্ষ পুকুর কেটে, সাড়ে পাঁচশ কোটি টাকার চেক ড্যাম করে আমরা কিছু জল ধরে রাখতে পেরেছি। তার পরেও এত জল। এটা কি জাস্টিস?’ ডিভিসির কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা যে চড়া সুরে ডিভিসির ঘাড়ে বন্যার দায় চাপিয়েছেন তাতে বোধহয় কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রতিষ্ঠানেরও বিবৃতি দেওয়া ছাড়া অন্য পথ ছিল না। যাতে তারা আসলে বুঝিয়ে দিতে চাইল, রাজ্য সরকারের শীর্ষ আধিকারিক থেকে জেলাশাসক, আমলা—অনেকেই জানতেন। না জানিয়ে জল ছাড়ার যে দাবি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী করেছেন তা ভিত্তিহীন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *