শিরোনাম
বুধ. ফেব্রু ২৫, ২০২৬

মমতার নতুন মন্ত্রিসভায় ১৭ নতুন মুখ, আদিবাসী ও মহিলায় জোর, বাদ একাধিক পুরনো মন্ত্রী

শ্রাবণী গুপ্ত: নির্বাচন পর্ব থেকেই পশ্চিমবঙ্গের দিকে গোটা ভারতের নজর ছিল। ভোট পেরিয়ে ফলাফলের পরেও প্রচারের আলো কমেনি। একদিকে যেমন দায়িত্ব নিয়েই কোভিড মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, অন্যদিকে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব বিজেপি সরকার। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য মন্ত্রিসভা ঠিক কিরকম হচ্ছে? নতুন কারা আসছেন, কারা থেকে যাচ্ছেন এবং কারা বাদ পড়ছেন তা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। সোমবার সকালে ৪৩ জনের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন রাজভবনে। তালিকা নিয়ে কৌতুহল রয়েছে সব মহলেই। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক, কারা এলেন আর কারা আসতে পারলেন না।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিঃসন্দেহে এই মন্ত্রিসভা ব্যতিক্রম। তার প্রথম কারণ, তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী মমতা ব্যানার্জি নন্দীগ্রামে হেরে গিয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে রাজ্যের যেকোনও একটি কেন্দ্র থেকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জিতে আসতে হবে তাঁকে। অন্যদিকে ভোটে না দাঁড়িয়েও রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন অমিত মিত্র। শারীরিক কারণে তিনি এবার নির্বাচনে দাঁড়াননি। কিন্তু মমতা অমিতকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে চেয়েছেন। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর মত অর্থমন্ত্রীকে ও জিতে আসতে হবে কোন একটি কেন্দ্র থেকে।

এবার আসা যাক এই তালিকায় নতুন মুখ কারা থাকছেন সেই প্রসঙ্গে। মমতা বাদে ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য নতুন মুখ মানস ভূঁইঞা, রথীন ঘোষ, পুলক রায়, বঙ্কিম হাজরা, বিপ্লব মিত্র। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী এবং স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যারা শপথ নিচ্ছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নতুন মুখ শিউলি শাহা, মনোজ তিওয়ারি, অখিল গিরি, বীরবাহা হাঁসদা, বুলু চিক বরাইক, জ্যোত্‍স্না মান্ডি, সাবিনা ইয়াসমিন এবং অবশ্যই প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর।

এবার দেখে নেওয়া যেতে পারে পুরনো মন্ত্রিসভা থেকে কারা বাদ গেলেন। প্রথমেই পূর্ণেন্দু বসুকে আলাদা করে নেওয়া যেতে পারে। কারণ তিনি এবার ভোটে দাঁড়াননি। একইভাবে বাদ রাখা যেতে পারে রেজ্জাক মোল্লার নামও। শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনিও এবার টিকিট পাননি। রাজ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর পর্যটন এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের দায়িত্ব ছিল যথাক্রমে গৌতম দেব ও রবীন্দ্রনাথ ঘোষের ওপর। দুজনেই এবার ভোটে হেরে গেছেন। বাদ পড়েছেন নির্মল মাঝি, অসীমা পাত্র, জাকির হোসেন, বিনয় বর্মন, শান্তিরাম মাহাতো, আশীষ ব্যানার্জি, মন্টুরাম পাখিরা, গিয়াসুদ্দিন মোল্লা, তপন দাশগুপ্ত। গত মন্ত্রিসভায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন এর দায়িত্বে ছিলেন শান্তিরাম মাহাতো। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। নির্মল মাঝিকে নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল চিকিত্‍সক নিয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্নে। ভোটের প্রচারে তপন দাশগুপ্ত বিতর্কিত ভূমিকা সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে। সূত্রের খবর, এজন্যই তাদের বাদ পড়তে হল।

অন্যদিকে শুরু থেকেই তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন নয়া মন্ত্রিসভায় মহিলা এবং আদিবাসী মুখকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেই বক্তব্যের প্রতিফলন কিন্তু তালিকা দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে শিউলি সাহা, হুমায়ুন কবীর, শ্রীকান্ত মাহাতো-কে জায়গা দেওয়া হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভায়। ঝাড়গ্রাম থেকে আসছেন বীরবাহা হাঁসদা। পূর্ব মেদিনীপুর থেকে আনুগত্যের পুরস্কার পাচ্ছেন অখিল গিরি। দলবদলের কারণে পুরনো মন্ত্রিসভায় বেশ কয়েকটি দপ্তর ফাঁকা হয়েছিল। যেমন শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব ব্যানার্জি, বাচ্চু হাঁসদা। রাজনীতি থেকে সরে গেছেন পুরনো মন্ত্রিসভার ক্রীড়া দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা। সারদা কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়ার কারণে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছিল মদন মিত্রকে। এবছর কামারহাটি থেকে জিতে এসেছেন তিনি। তবে নতুন মন্ত্রিসভায় প্রথম দফায় মদনের জায়গা হয়নি। সূত্রের খবর, আপাতত এই তালিকা থাকলেও পরে আরও কিছু নতুন সদস্যের জায়গা হতে পারে।কারণ, নিজের হাতে খুব বেশি দপ্তর রাখতে চান না মুখ্যমন্ত্রী।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *